আর্টিকেল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আর্টিকেল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

ফেসবুক মুফতীরা পূর্ববর্তী ইমামদের চাইতে যখন বেশি বোঝে তখন প্রচন্ড হাসি পায়



যদি আপনার ছিয়াহ ছিত্তাহ, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক, মুসনাদে আহমদ, আবু ইয়ালা, সুনানে দারা কুতনী, বায়হাকী, ইবনে হিব্বান এমন আরো কিছু কিতাবের সব হাদীছ মুখস্ত থাকে.
যদি আপনার দখলে তাহযিবুল কামাল, তারীখুল কবীর, তাহযীবুত তাহযীব, তাকরীবুত তাহযীব, মিযানুল এতেদাল সহ আরো কিছু আসমাউর রেজালের রাবীদের ইতিহাস মুখস্ত থাকে…………
যদি আপনার উছূলে হাদীছ ও হাদীছের ব্যাখ্যার জ্ঞান থাকে…….
যদি আপনার ইবনে ইসহাক, তাবারী, ইবনে আছীর, ওফিয়াতুল আইয়ান, তারীখুল ইসলামিয়া, বিদায়া ওয়ান নিহায়া সহ ইসলামি ইতিহাসের ধারাবহিক ইতিহাস মুখস্ত থাকে……
যদি আপনার কুরআন শরীফের ৬৬৬৬ টি আয়াতের প্রতিটি আয়াতে কোন সাহাবী কি বলেছেন, কোন তাবেয়ী কি বলেছেন এমন জ্ঞান থাকে…….
যদি আপনার ইসলামের প্রতিটি শরিয়তী মাসায়ালা ফিক্বহী জ্ঞান অর্থাৎ কুরআন শরীফ ও এর তাফসীর থেকে এবং লক্ষ লক্ষ হাদীছ শরীফ থেকে মাসায়ালা বের করে জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি আমল, শরীয়তের হুকুম, বৈধ অবৈধ, ব্যবসা বানিজ্য , বিয়ে তালাক সবকিছুর বিধি বিধান বের করার জ্ঞান থাকে ……
সেই সাথে আপনার যদি থাকে ইলমে তাছাউফের চর্চা………
এরকম ইলমি ব্যাপ্তী যদি আপনার থাকে তাহলে আপনি কতবড় জ্ঞানী সেটা কি ভাবতে পারছেন? এমন আলেম কয়জন আছেন?

বর্তমানে প্রায় সব কিতাব বিষয় অনুযায়ী সুন্দর সুন্দর বাধাঁই আকারে হাতের নাগালে পাওয়া যায়, কেউ কিতাব সংগ্রহ করতে না পারলে “শামেলা” সফটওয়ারে সার্চ করলেই ১৫/২০ হাজার কিতাবের বিশাল সমাহারে এক ক্লিকে আপনার কাঙ্খিত চাহিদা পুরন হয়ে যাচ্ছে। এত সুবিধা থাকার পরও কোন একটা দলীল বের করতে মাথার ঘাম পায়ে পরার অবস্থা। তারপরও দু এক ফোঁটা বিদ্যা নিয়ে সে কি হম্বি-তম্বি। না জানি কত বড় হাতি ঘোড়া হয়ে গেছে এক এক জন।
অথচ পূর্ববর্তী উলামায়ে কিরাম উনাদের জীবনীর দিকে লক্ষ্য করেন। একটা হাদীছ শরীফ জানার জন্য শতশত মাইল পায়ে হেঁটেছেন। কোন এক আলেমতো উনার মায়ের দেয়া ১০০ টি রুটি সম্বল করে ইলিম অর্জন করতে বের হলেন। প্রতিদিন দাজলা নদীর পানিতে ১ টা করে রুটি ভিজিয়ে খেতেন হাদীছ হাদীছের জ্ঞান অর্জন করতেন। ১০০ টা রুটি ১০০ দিনে শেষ উনারও লক্ষাধিক হাদীছ মুখস্ত করা শেষ।
আরেকজন আলেম ১ দিরহাম বন্ধক রেখে প্রতিদিন ১ করে ৩০ দিনে ৩০ টা রুটি পেলেন, ৩০ দিনে ৩০ খন্ড কিতাব রচনাও সমাপ্ত হয়ে গেলো।
ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে পরীক্ষা করার জন্য অনেকগুলো হাদীছের সনদ মতন পরিবর্তন করে উনার সামনে দেয়া হলো। উনি প্রতিটা হাদীছ সঠিক সনদ ও মতনে আলাদা করে বর্ণনা করে দিলেন চোখের পলকে। যা দেখে সবাই হতবাক হয়ে গেলো।
ইমাম ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যখন জীবনে শেষ সময়, বার বার জ্ঞান চলে যাচ্ছিলো। জ্ঞান ফেরার পর উনার এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন এ মাসায়ালার বিষয়ে তোমার অভিমত কি? ইলমের প্রতি উনার কতটা ব্যকুলতা ভেবে দেখেন।
ইমাম ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সন্তান মারা গেলো। কাফন দাফনের কাজে আনজাম দিতে গেলে হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমি দরসের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হবেন চিন্তা করে কাফন দাফনের কাজে যাননি।
হযরত ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ওস্তাদ উবাইদ ইবনে ইয়াইশ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একাধারে ৩০ বছর নিজ হাতে রাতের খাবার খাননি। কারন খেতে গেলে ওই সময়টুকু ইলিম অর্জন করতে পারবেন না। তাই উনার বোন উনাকে খাইয়ে দিতেন আর তিনি হাদীছ শরীফ লিখে যেতেন।
আবু বকর ইবনে খাইয়াত তিনি আরবী ব্যকরনের ইমাম ছিলেন। তিনি যখন রাস্তায় হাঁটতেন তখনও পড়তেন। একারনে তিনি মাঝে মাঝে রাস্তার গর্তেও পড়ে যেতেন বিভিন্ন বাহনের সাথেও ধাক্কা খেতেন। তারপরও তিনি জ্ঞান অর্জন চালিয়েই যেতেন।
ইমাম দাউদ তায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি রুটির পরিবর্তে ছাতু গুলিয়ে পান করতেন। তিনি নিজেই বলেন রটি খাওয়া আর ছাতু গুলিয়ে খাওয়ার যে সময়ের ব্যবধান এ সময়ে ৫০ আয়াত শরীফ তেলাওয়াত করা যায়।
ইমাম ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাতী বলেন, আমি আমার নানাজানকে শেষ বয়সে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি ‘আমি আমার এই আঙ্গুল দিয়ে দুই হাজার খন্ড কিতাব লিখেছি’।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, খাওয়ার সময়ের জন্য বড় আফসোস হয়, কারন এ সময়টা ইলমি মগ্নতা ছাড়া কেটে যায়।
ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দু’বছর আমার পিঠ বিছানার স্পর্শ লাভ করেনি।
এরকম আরো শতশত ঘটনা ইমামদের জীবনীতে বর্ণিত আছে। উনাদের কাছে আমাদেরমত রেডিমেড ‍কিতাব ছিলো না, শামেলা সফটওয়ার ছিলো না। তারপরও আমরা উনাদের ধারের কাছে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারি না। লক্ষ লক্ষ হাদীছ উনাদের হিফজে ছিলো, রাবীদের জীবনী মুখস্ত ছিলো, ইতিহাস জানা ছিলো। উনাদের মেধার মোকাবেলায় শামেলা বা গুগল হাস্যকর লাগে। শামেলায় সার্চ করতে যত সময় লাগে অথচ উনাদের জবান মুবরাক থেকে দলীল বের হতে তত সময় লাগতো না।
আজ উনারাই সমালোচনার পাত্র। ফেবু মুফতীদের কিবোর্ডের তুফান দেখে মনে হয় তারাই আলেমকুলের শিরোমনি। কিয়ামতের একটা আলামত হচ্ছে, পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সমালোচনা করবে। সেটাই দেখা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বাংলাদেশের মাদ্রাসাকে ধ্বংশ করে দেয়ার জন্য চামড়া শিল্পের উপর আঘাত করছে ভারত।


বাংলাদেশের মাদ্রাসাকে ধ্বংশ করে দেয়ার জন্য চামড়া শিল্পের উপর ঘাত করছে ভারত। প্রশ্ন আসতে পারে কিভাবে?
এর আগে একটা বিষয় বুঝেন। মোটামুটি দামে যদি ট্যানারীতে বিক্রি করা হয় তবে ৩০০০ টাকা করে প্রতি পিস চামড়ায় পাওয়ার কথা। অথচ সেখানে ১০০০ টাকা পিস পাওয়াই কঠিন। দেশে যদি ৩ কোটি গরু কোরবানী দেয়া হয় তবে মোটামুটি ন্যায্য দরে পাওয়ার কথা ছিলো (৩ কোটি × ৩০০০) = ৯ হাজার কোটি।
সেখানে এখন ৫০০ কোটি টাকাই পাওয়াই দুষ্কর। কারন ঢাকা শহরে এভারেজ ১০০০ টাকা করে বিক্রি করতে পারলেও ঢাকার বাইরে ৩০০/৪০০ টাকার বেশি  প্রতি পিস বিক্রি করতেই পারে নাই।
খাসীর চামড়া যেখানে প্রতি পিস ১০০ করে বিক্রি করার কথা সেখানে ২০/৩০ টাকার বেশি বিক্রি করা যায় নাই। এখানেও লস ১০০০ কোটি টাকার মত।
মূলত এই লোকসানটা কাদের? যারা গরীব, অসহায়, ইয়াতিম মাদ্রাসার ছাত্র তাদের। এই টাকা তাদের হক্ব ছিলো অথচ সিন্ডিকেট করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। কেড়ে নেয়া হচ্ছে গরীবের হক্ব।
জানা দরকার এর পেছনে উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশ থেকে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়া।
কিরকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে  দেখুন, সরকার যাকাতের টাকা সংগ্রহের জন্য সরকারী ত্রান তহবিল করেছে। মানুষ এখন সরাসরি বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ত্রান তহবিলে যাকাতের টাকা দেয়। এই ত্রান তহবিলের টাকা কোথায় যায় তার কোন ঠিক নাই। সংবাদে এসেছে, এই তহবিল থেকে হিন্দুদের পুজার ফান্ডও দেয়া হয়। মাদ্রাসার ৬ মাসের খরচ যে যাকাত থেকে আসতো তা সরকারী ত্রান তহবিলে গিয়ে হিন্দুদের পুজায়ও ব্যয় হচ্ছে। অপরদিকে মাদ্রাসা এই নিশ্চিত প্রাপ্ত অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আর বাকি ৬ মাসের জন্য কোরবানীর চামড়ার টাকা কিভাবে মারা যাচ্ছে তাতো হিসাব দেখালামই। একসূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে যে গরু গুলি কোরবানী দেয়া হয় তা খুবই নগণ্য মূল্যে কিনে নেয় হিন্দু ভারতীয় এজেন্টরা। তারা সেগুলো বর্ডার দিয়ে ইন্ডিয়া পাচার করে দেয়। যেহেতু ঢাকার বাইরে কোন ট্যানারী নাই তাই সাধারন লোকদের অল্পদামে যার তার কাছে বিক্রি না করে উপায় থাকে না। ফলে এ চামড়া গুলো হাতিয়ে নিয়ে যায় হিন্দুরা। সবদিক থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মুসলামানরা, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠান গুলো। মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়ার জন্য চলছে এই ষড়যন্ত্র। বির্ধমীরা এটাই চায় , আর্থিক সংকট তৈরী করে মাদ্রাসা গুলোকে হতাশাগ্রস্থ করে একে একে বন্ধ করে দিতে।  মুসলামানরা যাতে দ্বীনি শিক্ষা লাভ করতে না পারে, ইসালাম বিমুখ হয়, অভিভাবকরা যাতে মাদ্রাসায় দৈন্যতা দেখে তাদের ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় ভর্তি না করে জাহিল বানায় এটাই কাফির বির্ধমীদের চাওয়া। এ জন্যই চামড়া শিল্পের উপর আঘাত।

এখন মানুষের উচিত সচেতন হওয়া। চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো। সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিতে ব্যবস্থা নেয়া। গরীবদের পাশে এসে দাড়ানো ঈমানী দায়িত্ব। 

সোমবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

কুরবানীর চামড়া কেড়ে নিয়ে সেটার টাকায় মাস্তানরা নেশা ও মহিলাবাজি করে এর প্রতিকার কোথায়?


কুরবানীর অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ‘কুরবানীর পশুর চামড়া’। এই চামড়া হচ্ছে গরীবের হক্ব। ইয়াতিম ছাত্র ছাত্রীদের হক্ব। আর্শ্চায্য হলেও সত্য যে এই চামাড়া ছিনিয়ে নিয়ে যায় দলীয় মাস্তানরা।
এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন কয়েকজনের কাছ থেকে শুনলাম সন্ত্রাসীদের ঘৃন্য আচরনের কথা।
এক ব্যক্তি যে তার কুরবানীর চামড়া নিশ্চিত মাদ্রাসায় দিবে। তার কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে গিয়েছে এমন একজন মাদ্রাসার লোক গিয়ে দেখলো সেখানে একদল সন্ত্রাসী আগেই বসে আছে। মাদ্রাসার সে লোককে দেখে ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি করে এমন একজন গুন্ডা এসে বললো , হুজুর জবাই করতে আসছেন করেন। চামাড়ার দিকে ভুলেও তাকাইয়েন না। চোখ থাকবো না।”
এমন হুমকীর মুখে নিরীহ একজন মাদ্রাসার ছাত্র নিশ্চিত প্রাপ্ত গরীবের হক্ব হারালো।
আরেক জনের অভিজ্ঞতা: এক ব্যাক্তি কুরবানী দিয়ে চামড়াটা মাদ্রাসার জন্য রেখে দিয়েছেন। মাদ্রাসার তরফ থেকে যখন একজন চামড়াটা আনতে গেলো দেখলো সেই বাড়ির গেটে ৮/১০ পাড়ার রাজনীতি করে এমন সন্ত্রাসী দাঁড়িয়ে আছে। হুজুর মত এই লোককে দেখে একটু আড়ালে নিয়ে কোমড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে বললো ‘চামড়া নিতে আসলে ফুটা কইরা দিমু’।
মাদ্রাসার জন্য ৩/৪ টা চামাড়া সংগ্রহ রিকশায় করে নিয়ে আসছিলেন একজন মাদ্রাসার দায়িত্বশীল। পথে তার রিকশাটা থামালো ৬/৭ জন সন্ত্রাসী। তারা বললো, হুজুর চামাড়াডা আমাগো এলাকার। চামাড়া গুলান রাইখা যান। চামড়া লইয়া এলাকার উপর দিয়া যাইতে পারবেন না।”
সূতরাং চামড়া রেখেই আসতে হলো মাদ্রাসার সেই ব্যক্তির।
একজন লোক আগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি মাদ্রাসায় চামড়া দিবেন। তিনি চামড়া দিতে যাচ্ছেন এমন সময় এলাকার মাস্তানরা এসে বললো , এলাকায় বাস করেন আর আমাগো চামড়া না দিয়া হুজুরগো দেন?” লোকটা প্রতিবাদ করায় এক পর্যায়ে মাস্তানরা ভদ্রলোককে ধাক্কা মারে ও মারধোর করে...........।
এমন আরো অনেক নোংরা তিক্ত ঘটনা আছে যা বলে শেষ করা যাবে না। গরীবের হক্ব হচ্ছে চামড়া। ইয়াতিম ছাত্ররা মাদ্রাসায় পড়ে তাদের খরচের জন্য চামড়ার অর্থ ব্যয় করা হয়। সে চামড়া কেড়ে নিয়ে যায় দলীয় রাজনীতী করে এমন সন্ত্রাসীরা। এটা কোন ইনসাফ?
চামাড়া নিয়ে মাস্তানরা কি করে? বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাস্তান ও এলাকার রাজনীতী করে এমন লোকদের কুরবানীর দিবাগত রাত হয় মহা ফূর্তির রাত। তারা রাতে কুরবানীর চামড়া বিক্রি করা টাকায় ফেন্সিডিল, মদ, ইয়াবা খেয়ে পিনিক নেয়। আর রাতে খারাপ মহিলা এনে রাত কাটায়।

কি হচ্ছে দেশে? সরকারের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনীতি করে এমন মাস্তানরা গরীবের হক্ব চামাড়া কেড়ে নিয়ে গরীবের পেটে লাথি মারার সাথে সাথে সেই টাকা দিয়ে নোংরামী করছে অথচ তার কোন বিচার হচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসনও ‍কোন প্রতিকার করতে পারছে না। কারন তারা “ওমুক ভাইয়ের লোক”।
জনগনকেই এর ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব মাস্তানদের পিটিয়ে হাড্ডি ভেঙ্গে দিতে হবে। জনমত তৈরী করতে হবে এসব সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায়, মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে নিউজ করার জন্য।

বৃহস্পতিবার, ১ জুন, ২০১৭

যারা বলে মূর্তি ও ভাষ্কর্য এক বিষয় নয় তাদের জন্য


নাস্তিক ও নাস্তিক্যবাদী মিডিয়া খুবই জোর গলায় প্রচার করছে মূর্তি ও ভাষ্কর্য এক বিষয় নয়। তারা বলছে ,ইসলামে পুজার জন্য যে মূর্তি সেটা নিষেধ করা হয়েছে। ভাষ্কর্য স্থাপনের জন্য কোন প্রানী বা মানুষের অবয়ব তৈরী করা হয় সেটা নিষিদ্ধ করা হয়নি।

এসব কথা মূলত এদের মূর্খতার বহিঃপ্রকাশ বৈ কিছু নয়। এখানে যে বিষয় গুলো পরিষ্কার হওয়া দরকার সেটা হচ্ছে, এক গোত্র সূর্যের পুজা করে এখানে সূর্যের পুজাটা শিরিক হারাম। কিন্তু যে পুজা করে না তার জন্য সূর্য দর্শন হারাম নয়। হিন্দুদের একটা দল গাছ পুজা করে, এখানে গাছ পুজা হারাম একারনে কিন্ত গাছ রোপন হারাম নয়। কেউ কেউ সাগরের পুজা করে , সাগর পুজা হারাম তাই বলে সাগরে বেড়াতে যাওয়া হারাম নয়। 

উপরোক্ত বিষয় সমূহে সূর্য, গাছ, সাগর এসব হারাম নয় বরং এসবের পুজা হারাম। কিন্তু কোন জীব জন্তু বা মানুষের প্রতিকৃতি তৈরী করা চাই সেটা পাথরে হোক, মাটিতে হোক, কাগজে হোক যেভাবেই হোক সেটা হারাম। পুজা করা শর্ত নয়। পুজা করা ছাড়াই প্রানীর প্রতিকৃতি তৈরী হারাম। যেটা আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, 

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ 
তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো এবং বর্জন করো মিথ্যা কথাবার্তা। (সূরা হজ্জ ৩০)
আল্লাহ পাক আরো বলেন, হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ তো নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক-যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। (সূরা মায়িদা ৯০)
হাদীস পাকে এসেছে, আলী ইবনে আবী তালেব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে মদীনায় যাবে এবং যেখানেই কোনো প্রাণীর মূর্তি পাবে তা ভেঙ্গে ফেলবে,’ (মুসনাদে আহমাদ হাদীস ৬৫৭)
অন্য আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, প্রতিকৃতি তৈরিকারী (ভাস্কর, চিত্রকর) শ্রেণী হল ওইসব লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে কিয়ামত-দিবসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে।’ (সহীহ বুখারী ৫৯৫০)
সূতরাং আমরা দেখতে পেলাম কোন প্রানীর প্রতিকৃতি তৈরী করা সর্বাবস্থায় হারাম এবং কঠিন শাস্তিযোগ্য একটা কাজ। প্রমাণ হলো, কোন ভাবেই তা তৈরী করা যাবে না।
এরপর যে বিষয়টা রয়েছে, মূর্তিপ্রেমী কুশীল সমাজের লোকরা এটাও যুক্তি দেয় প্রতিকৃতি যদি নিষিদ্ধই হবে তবে সৌদি আরবে কেন বিভিন্ন প্রতিকৃতি রয়েছে? তাদের জন্য বলতে হয় আমাদের জন্য দলীল সৌদি আরব নয় বরং কুরআন শরীফ হাদীস শরীফ। আর সর্বপোরী সৌদি ফতোয়া বোর্ড থেকেও প্রানীর প্রতিকৃতি ভাষ্কর্য তৈরী হারাম ফতোয়া দেয়া হয়েছে
আসল কথা হচ্ছে কি জানেন? মূল দোষটা আমাদের, আমাদের সমাজের। প্রানীর ছবি আকা, রাখা হারাম এটাই ছিলো ইসলামের ফয়সালা। একটা সময় এসে মানুষ ক্ষমাতার জন্য, পদের জন্য, নফসের জন্য এই ফতোয়া ভুলে যায় ও অস্বীকার করে বসে। অনেকে যুগের দোহাই দিয়ে ছবি তোলা, আঁকা বৈধ বলার প্রয়াস চালায়। আজ তারই খেসারত দিতে হচ্ছে। যদি ঐসময় ওলামা মাশায়েখরা ছবির মূর্তির বিরুেদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতো নিজেরাও ছবি থেকে দূরে থাকতো এবং মসজিদে মসজিদে ছবির মূর্তির খারাবী ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করতো, তাহলে আজকে নাস্তিকরা মূর্তি স্থাপন করে সেই মূর্তি জন্য সাফাই গাওয়ার সাহসও পেতো না।

শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৭

অর্থব মানসিক ভারসম্যহীন আহমক শফী ও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত প্রসঙ্গে কিছু কথা


প্রধানমন্ত্রীর সাথে আহমক শফীর দৃষ্টিবিনিময়, পাশে বসা নিয়ে ফেসবুকে বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। এটা দেখে আমার কয়েক বছর আগের কথা মনে পরে গেলো। ৩/৪ বছর আগে শফী একবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে। ছবিতে দেখা যায় আহমক শফী লাঠি ভর দিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে, প্রধানমন্ত্রীর দিকে দৃষ্টিপাত করছে না। এটা নিয়ে দেওবন্দীদের কি বড়াই ! তারা বললো, দেখুন কতবড় আল্লাহর ওলী, প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে আছে অথচ একবারও তাকলো না.... আরো অনেক প্রশংসা।
হালুয়া রুটির আবর্তনে ফতোয়ার বিবর্তন। দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রী ও আহমক শফীর ঘনিষ্ট সাক্ষাত হলো। শুধু কি সাক্ষাৎ? রীতিমত দৃষ্টি বিনিময়। পারফিউমের ঘ্রান আস্বাদন করার পর্যায়। এখন হেফাজতীরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দ্বারা এটা জায়িয সাবেত করতে উঠে পরে লাগলো। হেদায়া কিতাবের উদৃতি দিয়ে তারা এই সাক্ষাতকে বৈধতায় রূপ দিতে অপচেষ্টা করছে। এ বিষয় পরে অবতারনা করছি , আগে প্রধানমন্ত্রীর দীদার দানের হাক্বীকত নিয়ে আলোচনা করা যাক।
আপনারা দেখেছেন হেফাজতীরা কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করেছে, সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। হেফাজতীদেরতো রাজনীতি বোঝার মত বুদ্ধি নেই। তাদের নেতা আহমক শফী নিজেই অথর্ব বয়োঃবৃদ্ধ। এরা রাজনীতি কি বুঝবে? সূতরাং সরকার পক্ষ কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানী (কিছু দাবিদাওয়া, টাকা পয়সা) নাকের সামনে ধরতেই মেনি বিড়ালের মত আঁচল তলে আশ্রয় নিলো পূর্বসূরী হাফেজ্জী, ফজলুল হক আমীনি, আজিজুল হকের মত। 
এক কথায় সরকারের কাছে বিক্রি হয়ে গেলো শফী বাহিনী। এখন আর ময়দান গরম করে সরকারের ইসলাম বিরোধী আইনের প্রতিবাদ করার শক্তি পাবে না। কারন সরকারের বিরিয়ানী তাদের পেটে। বিরিয়ানীর সাথে তো বেঈমানী করা যায় না। অর্থাৎ রাজনীতির মারপ্যাঁচে কিভাবে যে ধরা খেয়ে গেছে নিজেরাও জানে না। ফলশ্রুতিতে সরকার পক্ষও খুশি , কারন এদের জবান তারা কিনে নিয়েছে। হেফাজতীরা আন্দোলন করে আর মাঠ গরম করবে না.....।

এবার আসুন প্রধানমন্ত্রী ও শফীর সাক্ষাত প্রসঙ্গে। তারা হেদায়া কিতাবের যে দলীল দিয়েছে তার সারমর্ম হচ্ছে- কোন পুরুষ বা মহিলা যদি এতটাও বয়োঃবৃদ্ধ হয় তার আর কামনার ইচ্ছা হয় না। জীবনি শক্তি নিঃশেষ , আকর্ষণ বিকর্ষনে রূপ নিয়েছে সে অবস্থায় তারা গায়রে মাহরাম হলে দেখা সাক্ষাত করতে পারবে। মেডিক্যাল সাইন্স অনুযায়ী মানুষ যখন এই পর্যায়ে উপনীত হয় তখন তার মেন্টালি ও ফিসিক্যালি ডিসওর্ডার দেখা দেয়। অর্থাৎ সে এক প্রকারের অর্থব, অক্ষম, বোধশক্তিহীন, বিবেকহীন, মস্তিষ্ক বিকৃতি জড় পদার্থে রূপ নেয়।
হেফাজতীদের কাছে প্রশ্ন, তবে কি প্রধানমন্ত্রী ও আহমক শফী উভয়েই এই শ্রেনীর অথর্ব মানুষ? 
এই শ্রেনীর অথর্ব মানুষেরা আবার মিটিং করে কিভাবে?
দাবি দাওয়া বাস্তবায়নের দরকশাকশি করে কিভাবে?
তবে কি এটা মানসিক ভারসাম্যহীন দুই ব্যক্তির অর্থহীন বৈঠক? তাহলে এর গুরুত্ব কোথায়?

বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৭

মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই এই ফতোয়া প্রধানমন্ত্রী কোথায় পেলো?


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আজকাল মুফতীর আসনে বসেছেন সেটা জানা ছিলো না। তিনি আজ ফতোয়া দিয়েছেন, “মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই” (http://bit.ly/2o5mW0N)
ভালো কথা, ধর্মের সাথে যদি সর্ম্পক নাই থাকে তবে সেটা কি করে মানা যাবে? একজন মুসলামানের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পুরোটাই ইসলামী বিধি বিধান তথা ধর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। একজন মুসলমান কিভাবে খাবার খাবে, ঘুমাবে, বাথরুমে যাবে সবই ধর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাহলে যে কাজের সাথে ধর্মের কোন সর্ম্পক নাই সে কাজ কোন ধার্মিক লোক করতে পারে? আবশ্যই নয়। সূতরাং উনার ফতোয়া দ্বারাই প্রমাণ হলো অমঙ্গল শোভাযাত্রা পালন করা যাবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “বাংলা নববর্ষের শুরু সেই মুঘল আমল থেকে। তখন তো আর টাকা পয়সা ছিলো না, ফলে পণ্য বিনিময় হতো।”
দুঃখের বিষয় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ধর্ম জ্ঞানের মত ইতিহাস জ্ঞান শানিত নয়। কারন ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা, “প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। এটা অনেকটা ঐতিহ্য হয়ে গেছে। ঢাক-ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র ও বিচিত্র চারুকর্মে সুসজ্জিত এই শোভাযাত্রার ইতিহাস খুব একটা পুরনো নয়। ১৯৮৬ সালে যশোরে চারুপীঠ নামের একটি সংগঠন প্রথমবারের মতো বর্ষবরণ করতে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে ১৯৮৯ সালে প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ১৯৯৫ সালের পর থেকে এই আনন্দ শোভাযাত্রাই মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিতি পায়।” (http://archive.is/AIf9v)
তিনি আরো ফতোয়া দিয়েছেন, (অমঙ্গল শোভাযাত্রা) আমাদের দেশের সংস্কৃতির প্রতিফলন।”
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই ২৫ বছর আগের এক তথাকথিত হিন্দু উৎসব কি করে আমাদের দেশের সাংস্কৃতি হলো? সবচাইতে বড় কথা হলো এই দিনে বিভিন্ন প্রানীর মূর্তি নিয়ে মিছিল বের করা হয়? মূর্তি কি করে এই দেশের ধর্ম প্রাণ মুসলামানদের সাংস্কৃতি হলো বুঝে আসলো না। বাঘ, হরিন, মাছ, ময়ুর ইত্যাদির মূর্তিতো কোন না কোন হিন্দু দেবতাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর ইসলাম ধর্মে সর্বপ্রকার মূর্তি হারাম। হাদীস শরীফে আছে, নবীজী বলেছেন- আমি প্রেরিত হয়েছি মূর্তি ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করতে। তাহলে কিকরে উনার উম্মত মূর্তি কাঁধে নিয়ে মিছিল করতে পারে? আর কোন সাহসে প্রধানমন্ত্রী বলে, এটা আমাদের সাংস্কৃতির প্রতিফলন?

তিনি বলেছেন, “শব্দের সঙ্গে ধর্মের কি সম্পর্ক? শব্দ একটি ভাষা আর ভাষা হলো সাহিত্য।
আহ! মূর্খতার একি নির্দশন। 
কুরআন শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা রঈনা বলো না উনজুরনা বলো এবং শ্রবণ কর (বা শুনতে থাক) আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (সূরা বাক্বারা ১০৪)

আয়াতের শানে নযুলে বলা হয়েছে, ইহুদীরা রসুলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেবার জন্য ‘রঈনা’ শব্দ ব্যবহার করত, যার একাধিক অর্থ। একটি অর্থ হল ‘আমাদের দিকে লক্ষ্য করুন’ যা ভাল অর্থে ব্যবহার হয় আর খারাপ অর্থ হল ‘হে মূর্খ, হে মেষ শাবক’ এবং হিব্রু ভাষায় একটি বদদোয়া। ইহুদীরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রঈনা বলে সম্বোধন করত। যাতে প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল খারাপ অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ ‘রঈনা’ শব্দের ভাল অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করলে ইহুদীরা খারাপ অর্থ চিন্তা করে হাসাহাসি করত। এতে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কষ্ট পেতেন তবুও কিছু বলতেন না।এর ফলশ্রুতিতে আল্লাহু পাক কুরআন শরীফ-এর আয়াত নাযিল করে ‘রঈনা’ শব্দের বদলে ‘উনজুরনা’ শব্দ ব্যবহার করতে বললেন। কারণ ‘রঈনা’ শব্দ ভাল-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হলেও ‘উনজুরনা’ শব্দ শুধুমাত্র ভাল অর্থে ব্যবহার। তাই যে সকল শব্দের ভাল-খারাপ উভয় অর্থে ব্যবহার হয়, সে সকল শব্দের পরিবর্তে উপরোক্ত আয়াত মুতাবিক ওটার সমার্থক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যা শুধুমাত্র ভাল অর্থেই ব্যবহার হয়। প্রধানমন্ত্রী তাহলে কিসের জোরে বললেন, শব্দের সাথে ধর্মের সর্ম্পক নেই? আমরাতো দেখছি শব্দের সাথে ঈমানে সর্ম্পক রয়েছে।
সর্বশেষে একটা কথা বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে নিজেকে হিন্দু আশেক প্রমাণ করলেন। তিনি বললেন, “উলুধ্বনি নাকি হিন্দু শব্দ। কিন্তু কাবা শরীফে গিয়েও তো উলুধ্বনি দেয়া হয়”
জাতী জানতে চায় কাবা শরীফে কখন, কিভাবে উলূ ধ্বনী দেয়া হয়? নাকি উনার কানে সব সময় উলূ ধ্বনি ধ্বনিত হয়? যার প্রতিধ্বনী তিনি সর্বস্থানেই শ্রবন করে থাকেন। আমারা কয়েকদিন আগে দেখেছি সৌদি থেকে আগত ইমামদের মজলিসে তিনি “মসজিদে নববী” বলতে পারছিলেন না। বারবার মুখ থেকে নববীর পরিবর্তে “নবমী” বের হচ্ছিলো। যার মুখ থেকে ইসলামী শব্দ বের না হয়ে হিন্দুদের নবমী বের হয় তার কানেতো ভালো শব্দও উলূ ধ্বনির মত মনে হতে পারে..............!

বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭

৭১ এর চোর ও লুটেরা শ্রেনীর ভারতীয় সৈন্যদের কেন ১১৭ কোটি সম্মাননা দেয়া হচ্ছে?


বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান কতটুকু সেটার প্রমাণ ইতিহাসে বিদ্যমান। ইতিহাস সাক্ষী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১৩ দিন আগে ভারত আসে, এসে তারা যেকাজ গুলো করে তার বিবরন একটু পরেই দিচ্ছি।
আর্শ্চয কথা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এই ভারতীয় দের ৫ লাখ রুপি করে ১৭০০ পরিবারকে ১১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে যাচ্ছে (http://bit.ly/2nUzlc9)। শুধু তাই নয় ভারতীয় এসব হিন্দু সৈন্যদের শহীদ উপাধিও দেয়া হয়েছে। শহীদ কাকে বলে সরকার কি সেটাও ভুলে গেছে?

এবার আসুন দেখা যাক স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান কি ছিলো: 
= বাংলাদেশে ভারতীয়দের লুন্ঠনের ব্যাপারে আজিজুল করিম ‘হোয়াই সাচ এন্টি-ইন্ডিয়ান ফিলিংস এমং বাংলাদেশী?’ শিরোনামে এক নিবন্ধে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ভারতীয় মাসিক ‘অনিক’-এর রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, “ভারতীয় সৈন্যদের লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য ছিল প্রায় ১শ’ কোটি মার্কিন ডলার।”

= বাংলাদেশে ভারতীয়দের লুণ্ঠনের ব্যাপারে ‘বাংলাদেশ পাস্ট এন্ড প্রেজেন্ট’ পুস্তকে সালাহউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, “যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবার পর ভারতীয় সৈন্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিক সময় অবস্থান করতে থাকায় ভারত সমালোচিত হতে থাকে। অভিযোগ করা হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ট্রাক বহরে করে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে ভারত বাংলাদেশকে আত্মমর্যাদাশালী রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় এমন একটি আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় নীতির বিরুদ্ধে উত্তেজনা ও সংশয় সৃষ্টি হয়।”
= মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক জয়নাল আবেদীনের ‘র এন্ড বাংলাদেশ’ শিরোনামে লেখা একটি বইয়েও বাংলাদেশে ভারতীয় আরদালীদের লুন্ঠনের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। বইটিতে তিনি লিখেছেন, “পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের পর ভারতীয় সৈন্যদের ব্যাপক লুটতরাজ দেখতে পেয়ে ভারতের প্রকৃত চেহারা আমার কাছে নগ্নভাবে ফুটে উঠে। ভারতীয় সৈন্যরা যা কিছু দেখতে পেতো তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়তো এবং সেগুলো ভারতে বহন করে নিয়ে যেতো। লুটতরাজ সহজতর করার জন্য তারা আমাদের শহর, শিল্প স্থাপনা, বন্দর, সেনানিবাস, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এমনকি আবাসিক এলাকায় কারফিউ জারি করে। তারা সিলিং ফ্যান থেকে শুরু করে সামরিক সাজসরঞ্জাম, তৈজষপত্র ও পানির ট্যাপ পর্যন্ত উঠিয়ে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামাল ভারতে পরিবহনের জন্য হাজার হাজার সামরিক যান ব্যবহার করা হয়।”
বইটির আরেকটি অংশে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভারত অর্থনৈতিক, সামরিক, কৌশলগত ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হয়েছে। এ কারণে দেশটি তার নিজের স্বার্থে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সম্পৃক্ত হয়, আমাদের স্বার্থে নয়।”

যারা আমাদের সাহায্যের নামে বাথরুমের বদনাও চুরি করে নিয়ে গেছে আজ তাদের সম্মান করার জন্য “শহীদ” উপাধি দেয়া হচ্ছে, সম্মাননা হিসাবে ১৭০০ পরিবারকে ১১৭ কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা পেটের দায়ে ভিক্ষা করছে (http://bit.ly/2o8JYHMhttp://bit.ly/2oHfbzw)
সূতরাং কেন ভারতকে সন্তুষ্ট করতে শত শত কোটি দেয়া হচ্ছে? জাতি জানতে চায় ভারততোষনের মূলে কি আছে। ৭১ এ যারা আমাদের সম্পদ লুট করেছে তাদেরকে আমাদের পকেটের টাকা দিয়ে অনুদান দেয়া কখনোই মেনে নেয়া যাবে না।

মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭

অপারেশন টোয়াইলাইট নিয়ে জনগনের মনে যে প্রশ্ন গুলো এসেছে


অপারেশন টোয়াইলাইট এর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার ফখরুল বলেছিলেন, “আমরা যে গ্রেনেড ছুড়েছি, তারা সেগুলো ধরে উল্টা আবার আমাদের দিকে নিক্ষেপ করেছে।” (http://bit.ly/2nBQ5UP))
ব্যাপারটা একটু ভাবার মত বিষয়ই বটে। গ্রেনেড ছোঁড়ার পর সেটা আবার ধরে পাল্টা ছুঁড়ে মারা। গ্রেনেড সর্ম্পকে যারা কিছুটা জানেন তারা বিষয়টা বুঝতে পারবেন। কার্যপ্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে গ্রেনেড প্রধানত দুই ধরনেরঃ  ১) Time-Delay Grenade ২) Impact Grenade 
১) Time-Delay Grenade : এই ধরনের গ্রেনেডকে হ্যান্ড গ্রেনেডও বলা হয়। টাইম ডিলেয় গ্রেনেড গুলো সাধারনত সেফটি পিন খুলে হাত দিয়ে ছুঁড়ে মারা হয় এবং একটি নির্দিস্ট সময় পর এটি বিস্ফোরিত হয়। এই সময়টি সাধারনত হয় ৩-৪ সেকেন্ড। তবে কোন কারনে ভিতরের রাসায়নিক পদার্থের গুনগতমানের পরিবর্তন ঘটলে এই সময় কম-বেশি ২-৮ সেকেন্ড হতে পারে। 
২) Impact Grenade  : এ জাতীয় গ্রেনেড এর কার্যপ্রক্রিয়া অনেকটা উড়োজাহাজ থেকে ছুঁড়ে মারা বোমার মত। অর্থাৎ এই গ্রেনেড টার্গেটকে স্পর্শ করার পর পরই বিস্ফোরিত হয়। Impact Grenade হাত দিয়ে নিক্ষেপ করা হয় না। এটি সাধারনত গ্রেনেড লাঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। (সূত্র: http://bit.ly/2nbGLDa)
এখন যদি ১ম প্রকার গ্রেনেড সন্ত্রাসীদের দিকে নিক্ষেপ করার পর সন্ত্রাসীরা সেটা ধরে আবার পাল্টা ছুঁড়ে মারতে কি ৪ থেকে ৮ সেকেন্ড সময় পেয়েছে? ব্যাপারটা যেন সামনা সামনি ক্রিকেট বল ছুড়ে ক্যাচ প্রকটিসের মত শোনাচ্ছে। যদি দৃষ্টি সীমার মধ্যেই থাকে তবেতো গুলি করলেই চলে। আচ্ছা, ধরে নিলাম সন্ত্রাসীরা ক্যাচ ধরা ও নিক্ষেপ কারায় বেশ দক্ষ , তারা সেটা ক্যাচ লুফে নিয়ে ক্ষিপ্রতার সাথে ছুড়েও মারলো। এরপর সেনাবাহিনীর কাছে গিয়ে পড়লো উনারাও হয়তো দক্ষতার সাথে পাল্টা ক্যাচ ধরেছেন।
Ø এই ক্যাচ ধরা ধরি কি ৮ সেকেন্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো??? জানতে ইচ্ছা হচ্ছে!
Ø সকল ইলেক্ট্রীট লাইন বিছিন্ন করা হয়েছিলো, অন্ধকারে কি এত সহজেই লুফে নেয়া যায়?
Ø সেনাবাহিনীর দিকে যেগুলো পাল্টা ছুড়ে দেয়া হচ্ছিলো সেগুলো কি একটাও ফোটে নাই?

অধিকাংশ গ্রেনেডই বিস্ফোরণের পরে চারিদিকে ছররা বা ধাতুর টুকরো বা শার্পনেল অতি দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছোড়া ছুড়ির প্রতিযোগীতায় কেউ আহত হলো না কেন?
আরেকটা বিষয় জানতে ইচ্ছে করছে, সন্ত্রাসীরা ভবনের বিভিন্ন রুমে আইইডিসহ অনেক বিস্ফোরক সেট করে রেখেছে তাই সেখানে প্রবেশ করা ছিলো যথেষ্ট দুর্গম। এখন কথা হচ্ছে যখন কমান্ডোরা  ৩০ টা ফ্লাটের ৭৮ জন সদস্যকে উদ্ধার করলো তখন কেন বিল্ডিং এর  প্রতিটা ফ্লোরের দখল নিলো না সেটা জানা দরকার। যদি সবগুলো ফ্লোর দখলেই থাকতো তবে সন্ত্রাসীরা কি চাপে থাকতো না? চার্জ সেট করার সুযোগ কি পেতো?

এই প্রশ্ন গুলোর জবাব পেলেই আশা করি উৎসুক জনগনের উনুসন্ধিস্যু মন প্রশান্ত হবে। 

সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭

বাংলাদেশ সেনাবাহীনিকে হেয় করার ষড়যন্ত্র কেন ?


সিলেটের আতিয়া মহলের এই সন্ত্রাসীদের ঘায়েল করতে বাংলাদেশ সেনাবাহীনির প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এর ১০ মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়। অথচ আজ ৩ দিন হতে চললো তেমন সুবিধাই করতে পারছে না। 
ব্যাপারটা এমন ভাবে সাজিয়েছে- পুলিশ অপারেশনে ফেইল মারলো, র‌্যাব ফেল মারলো, সোয়াত ফেল, সেনাবাহীনির প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন আনা হলো তারাও নাকানি চুবানি খাচ্ছে।
অথচ এই বাহিনী গুলশান রেস্তোরায় সন্ত্রাসীদের উড়িয়ে দিতে ১১ মিনিটের বেশি সময় নেয়নি।

আফসোস ,এই বাহীনির ব্রিগেডিয়ার ফখরুল প্রেস ব্রিফিং এ বলেন, “তাদের (সন্ত্রাসীদের) কাছে স্মল আর্মস আছে, এক্সপ্লোসিভ আছে, আইইডি আছে, তারা ওয়েল ইকুইপড “
আপনারাই বলুন স্মল আর্মস দিয়ে সেনাবাহিনীর অ্যাসল্ট টীমকে রোখা যায়?

তিনি আরো বলেন, “আমরা যে গ্রেনেড ছুড়েছি, তারা সেগুলো ধরে উল্টা আবার আমাদের দিকে নিক্ষেপ করেছে। টিয়ার শেল ছুড়লে যে আগুন জ্বালাতে হয়, তারা এসব টেকনিক জানে।”
এটা কি একটা কমান্ডে টীমের নেতার মত কথা? 
তাদের গ্রেনেড তাদের দিকে ধরে ছুড়ে মারছে। আশ্চার্য!!!! মান সম্মান এভাবে নষ্ট না করলে কি হতো না।

কখন নাগাদ অভিযান শেষ হতে পারে- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের কমান্ডোরা চেষ্টা করছে। নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে অপারেশন কখন শেষ হবে। অপারেশন পরিচালনা বেশ ডিফিকাল্ট হচ্ছে।” (http://bit.ly/2nBQ5UP)
৩/৪ জন সন্ত্রাসীকে ঘায়েল করতে কত সময় লাগবে সেটা হিসাব করতেই গলগর্ধম হয়ে যাচ্ছে!!!! এটা ভাবা যায়?

বাংলাদেশ সেনাবাহীনিকে হেয় করা হচ্ছে কেন? 
উত্তর একটাই , ভারতের সাথে সামরিক চুক্তির গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা। যদি সামরিক চুক্তি হয় এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত ফোর্স পাঠাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাওয়ার পায়তারা। একারনে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহীনিকে হেয় করে উপস্থাপন করছে। সেনাবাহিনী সদস্যরা যেহেতু কমান্ড ছাড়া কাজ করে না তাই তারা চুড়ান্ত হিট করতে পারছে না। অফিসাররা কোন অদৃশ্য শক্তিবলে হিট কমান্ড দিতে পারছে না। আর এদিক দিয়ে সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। মান সম্মান হারাচ্ছে সেনাবাহিনী। যদি আমাদের সেনাবহিনীকে স্বাধীন ভাবে হ্যান্ডেল করার সুযোগ দেয়া হতো তাহলে পুরা বাড়ি সহ সন্ত্রাসীদের ধুলিস্বাত করতে ১৫/২০ মিনিট লাগার কথা নয়...............অথচ দিনের পর দিন গড়িয়ে চলেছে!

অথচ আমরা জানি বর্তমান যে পরিস্থিতি এটা হ্যান্ডেল করতে র‌্যাবই যথেষ্ট ছিলো, সেনাবাহিনী নিয়ে সার্কাস দেখানো এটা নাটক ও ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ।।