ঈদে মীলাদুন্নবী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঈদে মীলাদুন্নবী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২

তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না এ হাদীছের ব্যাখ্যা

 

তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না

রেজাউল করীম আবরার ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঈদ অস্বীকার করতে গিয়ে দলীল দিয়েছে,

عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَتَّخِذُوا شَهْرًا عِيدًا، وَلَا تَتَّخِذُوا يَوْمًا عِيدًا

হযরত তাউস রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করবে না। (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৭৮৫৩)

এই হাদীছ এর মধ্যে আমভাবে দেখা যাচ্ছে- কোন মাসকে বা কোন দিনকে ঈদ হিসাবে পালন করা যাবেনা। উল্লেখ্য যে প্রতিটি হাদীছ শরীফের একটা প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য থাকে। কোন হাদীছ শরীফের হুকুম সার্বজনীন হয় আবার কোনটা নির্দিষ্ট বিষয় সংশ্লিষ্ট হয়, যার হুকুম সেই নির্দিষ্ট সময় ও প্রেক্ষাপটের জন্যই প্রজোয্য থাকে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত হাদীছ শরীফখানা মুসলমানের ঈদ সংক্রান্ত নয়। বরং এ বর্ণনাটি হলো জাহেলি যুগের রজবিয়া ও আতিরা উপলক্ষে মানুষেরা যে ঈদ পালন করতো সেই সংক্রান্ত।

    এই হাদীছ শরীফখানা যে কিতাবে বণিত হয়েছে, সেখানে স্পষ্টভাবে অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে- বাবু ছিয়ামে আশহুরিল হুরুম অথাৎ হারাম মাসসমুহে রোযা রাখার অধ্যায়। এর দ্বারা বুঝা গেল স্বয়ং মুসান্নিফ নিজেই এই হাদীছ শরীফ খানা ঈদের বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেননি। বরং হারাম মাসের রোযা রাখার ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন। যা উক্ত হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় তাহকীককরী ৪র্থ খন্ডের ২৯১ পৃষ্ঠার ৪ নং টীকায় উক্ত মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক কিতাবের ৯২৫৫ নং হাদীছ শরীফ দ্বারা ব্যাখ্যা করে বলেছেন-

أَنَّهُ ‌كَانَ ‌يَكْرَهُ ‌أَنْ ‌يَتَحَرَّى ‌شَهْرًا، ‌أَوْ ‌يَوْمًا ‌يَصُومُهُ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাসব্যাপী এবং দিনব্যাপী নিদিষ্ট করে রোযা রাখতে অপছন্দ করতেন।

     মূল কথা হচ্ছে উক্ত হাদীছ শরীফ মুসলমানদের ঈদ সংক্রান্ত নয় বরং রজব মাস এবং আতীরার রোযা ও ঈদ সংক্রান্ত।

আবরারের আলোচ্য বর্ণনাটি দ্বারা যদি ঈদ নেয়াও হয় তাহলে তা হবে জাহেলি যুগের রজবিয়ার ঈদ। যা দ্বারা মুসলমানদের কোনা ঈদকে নিদিষ্ট করা হয়নি। তার প্রমাণ হচ্ছেমুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক কিতাবের ৪র্থ খন্ডের ২৯২ পৃষ্টার পরবতী হাদীছ শরীফ-

عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه كان ينهى عن صيام رجب كله لئلا يتخذ عيدًا

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষদের পুরো রজব মাস রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। যাতে করে মানুষ এটাকে ঈদ বানিয়ে না নেয়। (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৭৮৫৪)

    অথাৎ, আবরারের বর্ণিত, উক্ত হাদীছ শরীফখানা মুসলমানদের ঈদ সংক্রান্ত নয় বরং জাহেলী যুগের রজবিয়ার রোযা সংক্রান্ত সেটা প্রমাণিত হলো। ইবনে রজব হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার লাতায়েফুল মায়ারিফ কিতাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি যে অধ্যায়ে এ আলোচনা করেছেন তা রজব মাস সংশ্লিষ্ট, এবং রজবীয়া ও আতিরার আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি এ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

    আর সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে, রেজাউল করীম আবরার নিজেও তার কুরআন সুন্নাহর আলোকে বারো মাসের করণীয় বজনীয় বইয়ের ১৭২ পৃষ্ঠায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও আতীরার বিধান রহিত হওয়ার প্রসঙ্গে লিখেছে-

মুবারক বিন ফুজালা হাসান থেকে বণনা করেন, ইসলামের কোনো আতীরার বিধান নেই। এর বিধান ছিলো জাহেলি যুগে। তারা রজব মাসে রোযা রাখতো এবং পশু যবেহ করতো। এছাড়া এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় যে, রজব মাসে পশু যবেহের কারণে তা ঈদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। অথচ ইসলামে ঈদ মাত্র দুটি। আর ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বণিত হয়েছে যে, তিনি রজবকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতে অপছন্দ করতেন প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আতা বণনা করেন, ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন,

كان ابن عباس رضي الله عنهما ينهى عن صيام رجب كله لئلا يتخذ عيدًا

অথাৎ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মানুষদের পুরো রজব মাস রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। যাতে করে মানুষ এটাকে ঈদ বানিয়ে না নেয়। এ ছাড়াও হানাফী মাযহাবের ফিকহ ফতোয়ার সকল কিতাবে আতিরা মানসুখ তথা রহিত হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

    অর্থাৎ প্রমাণ হলো তার ওয়াজের আলোচানায় সে মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় হাদীছ শরীফটি বাদ দিয়ে প্রথম হাদীছ শরীফটি উল্লেখ করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জাহেলি যুগের রজবিয়ার ঈদ পালন না করার দলিলকে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন না করার দলিল হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। অথচ তার কিতাবে সে এই ঈদ এবং রোযা দ্বারা জাহেলী যুগের রজবিয়াকে উদ্দেশ্য করেছে। অর্থাৎ অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার প্রতারনা ধরা পরে গেছে।

উল্লেখ্য যে, আলোচ্য বর্ণনা তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করবে না বর্ণনাটি মুরসাল। মুরসাল বর্ণনা যদিও ছহীহ কিন্তু এটি একটি একক বর্ণনা। এর পক্ষে কোন হাদীছ শরীফ অথবা কোনো ছাহাবী অথবা কোনো তাবেয়ী অথবা ইমামদের সমর্থনও নেই। পৃথিবীর কোন ইমাম এই হাদীছ শরীফ দিয়ে ঈদ করা যাবে না এমন কথাও বলেন নাই।

বরং পূর্ববর্তী অনেকেই পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ হিসাবে কিতাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন-

হাফিজুল হাদীছ হযরত শিহাবুদ্দীন কাসতালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৯২২ হিজরী) উনার মাওয়াহিবে লাদুনীয়ার ১/৭৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

فرحم الله امرآ اتخذ ليالى شهر مولده المبارك أعيادا

আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যিনি মিলাদুন্নবীর মাসের রাতসমূহ ঈদ হিসাবে গ্রহন করে

হযরত মুহম্মদ ইবনে উমর ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৯৩০ হিজরী) হাদায়েকুল আনোয়ার ৫৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,


فحقيقٌ بيومٍ كانَ فيه وجودُ المصطفى صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَّخذَ عيدًا، وخَليقٌ بوقتٍ أَسفرتْ فيه غُرَّتُهُ أن يُعقَد طالِعًا سعيدًا،

এ দিনের প্রকৃত অবস্থান হলো , যেহেতু এদিন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ হয়েছে তাই এ দিন ঈদ উদযাপন করাই হচ্ছে প্রকৃত দাবী। এদিনের এক শুভক্ষনেই তো সেই আলোকিত মহা উজ্জল চেহারা মুবারক পৃথিবী দর্শন করেছে তবে তা কেন ঈদ হবে না?

ইমাম যারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার শরহে যারকানী ১/২৬২ পৃষ্ঠাতেও পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

হযরত আবু যুফার মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দুররুল মুনাজ্জাম কিতাবে লিখেন,

وَقَدْ عَمِلَ الْـمُحِبُّوْنَ لِلنَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرْحًا بِـمَوْلِدِهِ الوَلَائِمَ

হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশিকগণ উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশিতে (ঈদ পালন করে) খাওয়া দাওয়া ও দাওয়াতের আয়োজন করে আসছেন। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সিরাতে খাইরিল ইবাদ ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা)

হাফিজুল হাদীছ ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

لازال اهل الحرمين الشريفين والمصر واليمن والشام وسائر بلاد العرب من المشرق والمغرب يحتفلون بمجلس مولد النبى صلى الله عليه وسلم ويفرحون بقدوم هلال ربيع الاول

হারামাইন শরীফাইন, মিশর, ইয়ামেন, সিরিয়া এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত আরবের সকল শহর ও নগরের অধিবাসীদের মধ্যে অব্যাহতভাবে এ নিয়ম চলে আসছে যে, তারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করেন। পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের নতুন চাঁদের আগমনে আনন্দিত হন (ঈদ পালন করেন)। (দররুল মুনাজ্জাম ৮৫ পৃষ্ঠা)

মুহম্মদ ইবনু ইউসুফ আছ ছালেহী শামী (ওফাত ৯৪২ হিজরী) রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন,

سمعت الشيخ أبا موسى الزّرهونيّ يقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في ‌النوم ‌فذكرت ‌له ‌ما ‌يقوله ‌الفقهاء في عمل الولائم في المولد فقال صلى الله عليه وسلم: من فرح بنا فرحنا به

শায়েখ হযরত আবু মুসা জারহুনি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একদিন আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। ফকিহগণ তথা মুফতিগন যে মীলাদুন্নবী পালন করেন বিষয়টি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করলাম। হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে আমার ব্যাপারে খুশি (ঈদ পালন করে) প্রকাশ করবে আমি তার ব্যাপারে খুশি প্রকাশ করব। [সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতে খাইরুল ইবাদ ১/৩৬৩; লেখক- মুহম্মদ ইবনু ইউসুফ আছ ছালেহী শামী (ওফাত ৯৪২ হিজরী)]

হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাওয়ী লিল ফাতওয়া কিতাবে ১/২৩০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,

كَانَ يَجُوزُ بِالْمَكْتَبِ فِي الْيَوْمِ الَّذِي فِيهِ وُلِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَقُولُ: يَا فَقِيهُ، ‌هَذَا ‌يَوْمُ ‌سُرُورٍ ‌اصْرِفِ ‌الصِّبْيَانَ،

এখানেও পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুশির দিন বলা হয়েছে।

কেনেইবা এই দিন ঈদ হবে না? পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের মর্যাদা সকল রাতের চাইতে বেশি। ফতোয়ায়ে শামীতে উল্লেখ আছে,

أَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ ، ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ

অর্থ: রাতসমূহের মধ্যে উত্তম রাত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রাত, অতঃপর পবিত্র ক্বদরে রাত, অতঃপর মিরাজ শরীফের রাত, অতঃপর পবিত্র আরাফার রাত, অতপর পবিত্র জুমুয়ার রাত, অতঃপর পবিত্র ১৫ শাবান (শবে বরাত) রাত, অতপর পবিত্র ঈদের রাত। (দলীল: রদ্দুল মুহতার আলা দুররিল মুখতার ৩/৫২৮-৫২৯ : কিতাবুল হজ্জ্ব , তাফসীরে রূহুল মায়ানী ১৯/১৯৪, সূরা ক্বদরে তাফসীর)

সকল বিশেষ রাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ রাত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রাত। তাহলে এই মহান দিবসকে ঈদ বললে সমস্যা কোথায়? আর এছাড়া যেসকল ইমামগন মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ বলেছেন উনারা কি তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করবে না এ হাদীছ শরীফ জানতেন না? জানলে কি কারনে ইমামগন মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ বলেছেন? কারন উনারা জানতেন এটা হচ্ছে রজবীয়া বা আতিররা বিধান যার সাথে মুসলমানদের কোন সম্পর্ক নেই। বরং মুসলমানদের জন্যতো সবচাইতে খুশির বা ঈদের দিন হচ্ছে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২

এক দাঁতী (যারা বিদয়াত করে না) শায়েখ ও এক বৎসের কথপোকথন

 


বৎসঃ শায়েখ ফযিলত লাভের জন্য নতুন কোন কাজ করা কি হবে?

দাঁতী শায়খঃ শোন হে বৎস! সাওয়াবের নিয়তে নতুন কিছু করাই বিদয়াত। আর মনে রাখবা সকল বিদয়াত গোমরাহী সহীহ বুখারী !!!

বৎসঃ জ্বি, শায়েখ। আচ্ছা কোন ইবাদত বা নেক কাজের জন্য তারিখ বা সময় নির্ধারণ করা কি হবে?

দাঁতী শায়খঃ সেটা ভয়ানক বিদয়াত। সাবধান! প্রত্যেক বিদয়াতিই জাহান্নামী সহীহ বোখারী। 

বৎসঃ শায়খ! এই যে আগামী বছর জানুয়ারী মাসের ৫ তারিখ মাহফিলের ডেট নিলেন, এ তারিখ নির্ধারন করে মাহফিল করাটা কি বিদয়াত হবে?

দাঁতী শায়খঃ আরে ছোকরা, এসব প্রশ্ন করতে হয় না। আমরা কি কোন বিদয়াত করতে পারি? বিদয়াততো সুন্নীরা করে (!!!)

বৎসঃ শায়েখ! এই যে ৫ তারিখ মাহফিল করবেন, সেটার প্রচারের জন্য মাইকিং করা, পোষ্টার লাগনো, স্টেজ বানানো, লোকজন ডেকে আনা এসব কি নবীজীর যুগে ছিলো?

দাঁতী শায়খঃ আরে ছোকরা! বড় পাকনা কথা বলো। এসব কি আমরা সাওয়াবের নিয়তে করি?

বৎসঃ  শায়খ! কুরআন হাদীছের মাহফিল, নেকীর কথাই বলা হবে, দ্বীনের কথা বলা হবে, সেটার জন্য পোষ্টারিং, মাইকিং, স্টেজ, লোকজন ডাকা ইত্যাদি কি সাওয়াবের নিয়তে না করলে গুনাহের জন্য করি?

দাঁতী শায়খঃ তুমি ব্ড্ড বেশি বুঝ! এসব প্রশ্ন করাও বিদয়াত মনে রাখবা।

বৎসঃ প্রশ্ন না করলে জানবো কিভাবে?

দাঁতী শায়খঃ শোন হে পাকনা ছোকরা, তুমি সব সময় চোখ বুজে সুন্নীদের কোন ফযিলতের কাজ করতে দেখলেই বিদয়াত বলবে। আমরা কি করলাম না করলাম সেটা ভাবতে যেও না। আমাদের কোন কিছু বিদয়াত হয়না। বুঝেছো?

বৎসঃ বুঝলাম আপনারা হচ্ছেন দাঁতী আর অন্যদের ভাবেন বিদয়াতি।

দাঁতী শায়খঃ তবে রে বৎস..!!!

জন্ম উপলক্ষে নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ এ বক্তব্যের খণ্ডন

 


রেজাউল করীম আবরারের একটা দাবি- জন্ম উপলক্ষে নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ। 

যে হাদীছ শরীফ দিয়ে সে রোজা পালন করার কথা বলছে তা হলো-

হযরত আবূ ক্বতাদা আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সোমবার রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হলেন, তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, এদিন আমি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছি, আর এ দিনেই আমার উপর পবিত্র ওহী বা পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে। (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৮০৭)

প্রথম কথা হচ্ছে এ হাদীছ শরীফ পেশ করার মাধ্যম দিয়ে সে মীলাদুন্নবী পালন করাকে মেনে নিলো। যাক আগেতো মীলাদুন্নবী পালন অস্বীকার করতো এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন বাকি থাকলো, রোজা না রেখে ঈদ করা নিয়ে। সম্ভবত রেজাউল করীম আবরার সহ সমগোত্রীয়রা রোজা এবং ঈদকে সাংঘর্ষিক মনে করে। আসুন আমরা কিছু হাদীছ শরীফ দেখবো যেখানে রোজার মাধ্যম দিয়ে ঈদ পালন করার ব্যাপারে বলা হয়েছে।

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صِيَامًا يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْجَى اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُومُهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَصَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ‏.

হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদীনা শরীফে হিজরত করে ইয়াহূদীদেরকে আশূরার দিন রোজা পালনরত দেখতে পেলেন। এরপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমারা কোন দিন উপলক্ষে রোজ পালন করছ, তারা বলল, মহান দিনে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরআওন ও তার কওমকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এরপর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার লক্ষ্যে এ দিনে রোজা পালন করেছেন। তাই আমরাও এ দিনে রোজা পালন করছি। তারপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা তো তোমাদের থেকে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এর অধিক নিকটবর্তী এবং হাক্বদার। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সওম পালন করলেন এবং সওম পালন করার জন্য সকলকে নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম শরীফ ২৫৪৮)

এ হাদীছ শরীফ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আশুরা উপলক্ষে রোজা রেখে এ দিবস পালন করলেন এবং সবাইকে করতে বললেন।

এখন জানার বিষয় আশুরার এই মহান দিবসকে কি মনে করা হতো?

হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,

عَنْ أَبِي مُوسَى، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَتَتَّخِذُهُ عِيدًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏  صُومُوهُ أَنْتُمْ ‏ ‏.

হযরত আবূ মূসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহূদী সম্প্রদায় আশূরা দিবসের সম্মান প্রদর্শন করত এবং তারা এ দিনকে ঈদ বলে গন্য করত। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর। (মুসলিম শরীফ ২৫৫০)

অপর হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,

قَالَ كَانَ أَهْلُ خَيْبَرَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ يَتَّخِذُونَهُ عِيدًا وَيُلْبِسُونَ نِسَاءَهُمْ فِيهِ حُلِيَّهُمْ وَشَارَتَهُمْ ‏‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ فَصُومُوهُ أَنْتُمْ

খায়বারের ইয়াহূদীরা আশূরার দিন সওম পালন করত, তারা এ দিনকে ঈদরূপে বরণ করত এবং তারা তাদের মহিলাদেরকে অলংকার ও উত্তম পোশাকে সুসজ্জিত করত। এরপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর। (মুসলিম শরীফ ২৫৫১)

হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার উম্মতরা আশুরার দিনকে নিয়ামত মনে করে সেদিনকে ঈদ হিসাবে পালন করে শুকরিয়া আদায় স্বরূপ রোজাও রাখতো। ঈদ কেন পালন করতো? শুকরিয়া আদায় করে। তাহলে বোঝা যায় শুকরিয়া আদায় করার আরেকটি নাম হচ্ছে ঈদ যা রোজা রেখেও পালন করা যায়। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার উম্মত অর্থাৎ আমাদেরকেও এ দিন উপলক্ষে রোজা রাখতে বলেছেন। তিনি কিন্তু কোথাও বলেন নাই- হে আমার উম্মত তোমরা ঈদ পালন করো না শুধু রোজা রাখো। বরং তিনিও আমাদের শুকরিয়া স্বরূপ রোজা রাখতে বলেছেন অর্থাৎ এর মাধ্যমে ঈদ পালন করতে বলেছেন। অর্থাৎ এ হাদীছ শরীফ গুলোই প্রমাণ করে ঈদের সাথে রোজার কোন সাংঘর্ষিকতা নেই। রোজা হচ্ছে শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যম মাত্র। আর ঈদ হচ্ছে আত্মিক খুশির একটা বিষয়।

আরাফার দিন ঈদ এবং রোজাঃ

قَالَ قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ ‏:‏ ‏(‏ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا ‏)‏ وَعِنْدَهُ يَهُودِيٌّ فَقَالَ لَوْ أُنْزِلَتْ هَذِهِ عَلَيْنَا لاَتَّخَذْنَا يَوْمَهَا عِيدًا ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَإِنَّهَا نَزَلَتْ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ وَيَوْمِ عَرَفَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ صَحِيحٌ

অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত আছে যে, তিনি একদা আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করে দিলাম ( সূরা মায়েদা ৩) এ আয়াত শরীফ খানা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন ! তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, যদি এমন আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো, আমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করতাম ! এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন একসাথে দুই ঈদ ছিলো (১) জুমুয়ার দিন এবং (২) আরাফার দিন ! (দলীল: তিরমীযি শরীফ- কিতাবুত তাফসীর : হাদীস ৩৩১৮)

৯ যিলহজ্জ আরাফার দিন রোজা রাখার বিষয়ে হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন,

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি মহান আল্লাহ পাকের কাছে আশাবাদী যে তা (আমার উম্মতের) বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহকে ক্ষমা করিয়ে দেবে। (মুসলিম শরীফ হাদিস : ১১৬২)

অতএব এ হাদীছ শরীফ থেকে দলীল পাওয়া গেলো, আরাফরা দিন হচ্ছে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন এবং এ দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে অনেক ফযিলতের বর্ণনা আছে। অর্থাৎ রোজা রাখার মধ্যে দিয়ে ঈদ রহিত হয়না বা ঈদ পালনের মাধ্যমে রোজা রাখাও প্রতিবন্ধক হয়না।

সূতরাং রেজাউল করীম আবরারের দাবি- জন্ম উপলক্ষে নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ এই দাবির অসারতা প্রমাণ হলো।

শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২

যুগে যুগে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল

 


হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যুগ থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বর্তমান সময় পর্যন্ত পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে হয়তো পদ্মতিতে পরিবর্তন আসছে, যেমন- প্রথম দিকে রোজা রেখে পালন করা, এর পরে বিলাদত শরীফের দিবসে যিয়ারত ও নামায, এরপর দোয়া, তার পরে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, হামদ নাত পাঠ করা, মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো। লোকজন সমাবেত করে বিভিন্ন নেক কাজ ইত্যাদি। কিন্তু মূল যে আমল অর্থাৎ পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন তা সব সময়ই অব্যহত ছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় আমলগুলো যুগ অনুযায়ী উল্লেখ করা হলো-

 ১) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের মীলাদুন্নবীর আলোচনা করেছেনঃ

হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,

عن عائشة قالت : تَذَاكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ ‌عَلَيْهِ ‌وَسَلَّمَ، ‌وَأَبُو ‌بَكْرٍ ‌مِيلَادَهُمَا ‌عِنْدِي

উম্মুল মুমিনিন আছ ছালিছা হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, আমার কাছে হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা উনাদের পবিত্র মীলাদ শরীফের আলোচনা করেছেন।

(তাবরানী ২৮, মাযমাউয যাওয়ায়েদ ৯/৫২: হাদীছ শরীফ নং ১৪৩৯২; প্রকাশনা: দারুল ফিকর বাইরুত লেবানন, আল ইছাবা লি ইবনে হাজার ৪/১৬৯, সিরাতুন নাবাবিয়া ইবনে কাছীর ৪/৫১২, বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/২৭৮, তারীখে মাদীনাতু দিমাষ্ক ৩০/২৬)

শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় মীলাদ শরীফ পাঠ করার জন্য এক ব্যক্তি ওলী আল্লাহ হিসাবে আখ্যায়িত হলেন

খায়রুল কুরুনে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল দেখে নিন। খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় মীলাদ শরীফ পাঠ করার জন্য এক ব্যক্তি ওলী আল্লাহ হিসাবে আখ্যায়িত হলেন। সুবহানাল্লাহ।
আল্লামা সাইয়্যিদ আবু বকর মক্কী আদ দিময়াতী আশ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৩০২ হিজরী) উনার বিখ্যাত কিতাব “ইয়নাতুল ত্বলেবীনে” বর্ণনা করেন,
أنه كان في زمان أمير المؤمنين هارون الرشيد شاب في البصرة مسرف على نفسه وكان أهل البلد ينظرون إليه بعين التحقير لاجل أفعاله الخبيثة، غير أنه كان إذا قدم شهر ربيع الاول غسل ثيابه وتعطر وتجمل وعمل وليمة واستقرأ فيها مولد النبي ودام على هذا الحال زمانا طويلا، ثم لما مات سمع أهل البلد هاتفا يقول: احضروا يا أهل البصرة واشهدوا جنازة ولي من أولياء الله فإنه عزيز عندي، فحضر أهل البلد جنازته ودفنوه، فرأوه في المنام وهو يرفل في حلل سندس واستبرق، فقيل له بم نلت هذه الفضيلة ؟ قال بتعظيم مولد النبي
খলীফা হারুনুর রশীদের যামানায় (১৪৮-১৯৩ হিজরী) বসরাতে এক যুবক ছিলেন যার আমল ভালো ছিলো না। এবং দেশের মানুষও উনাকে ভালো জানতো না। তবে যখন পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস আসতো তখন তিনি কাপড় ধুয়ে পরিষ্কার করেন, ভালো খাবার ব্যবস্থা করতেন এবং মীলাদ শরীফ পাঠ করতেন। অতপর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, তখন দেশের জনগণ একটি গায়েবী আওয়াজ শুনতে পেলেন: হে বসরার লোকজন! আসো একজন আল্লাহ পাকের ওলীর দাফন করো। তিনি আমার কাছে প্রিয়। শহরের মানুষ উনার জানাযা পড়লেন ও দাফন করলেন। এবং তারা উনাকে স্বপ্নে দেখলেন এবং উনার মর্যাদা দেখলেন। সে ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হলো কিভাবে আপনি এ মর্যাদা অর্জন করলেন? তিনি বলেন পবিত্র মীলাদ শরীফকে সম্মান করার কারনে। (ইয়নাতুল ত্বলেবীন ৩ খন্ড ৩৬৫ পৃষ্ঠা)

খলীফা হারুনুর রশীদের যামানা ছিলো খায়রুল কুরুনে। উপরোক্ত ঘটনায় বোঝা যায় সে সময় পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের রীতি ছিলো। তাই এক ব্যক্তি তার আমল কিছুটা মন্দ হলেও মীলাদ শরীফ পাঠকে আল্লাহ পাক তার মর্যাদার কারন হিসাবে প্রকাশ করলেন। এবং ওলী আল্লাহ হিসাবে গ্রহন করলেন। সুবহানাল্লাহ।
সূতরাং উপরোক্ত ঘটনা ও সময়কাল থেকে জ্ঞানী মাত্রই যা বোঝার বুঝে যাওয়ার কথা। ধন্যবাদ।

বুধবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৮

বিদয়াতি কওমী, দেওবন্দীদের ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে জালিয়াতির মুখোস উন্মোচন


ওহাবী, দেওবন্দী, কওমীরা ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে বিরোধীতা করতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে একের পর মিথ্যাচারের। কিতাব কারচুপী, ইবারত কারচুপী, মিথ্যা রেফারেন্স, ইমাম মুস্তাহিদদের নামে মিথ্যাচার থেকে শুরু করে এমন কোন নোংরামী নেই যা তারা করছে না।
তাদের মুখোশ উন্মোচন দেখতে এই ভিডিওটি দেখুন। দেখুন কিরকম জালিয়াত এই কওমী ওহাবীর। এখানে প্রমাণ দেখতে পাবেন ওহাবীরা জালিয়াতি করেছে,
১) তাফসীরের কিতাব
২) হাদীছ শরীফের কিতাব
৩) ইমাম মুস্তাহিদদের কিতাব
৪) নিজেদের মুরুব্বীদের কিতাব
৫) মনগড়া উছুল তৈরী করা ...... ইত্যাদি

শুক্রবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৮

নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম কিতাবে বর্ণিত হাদীছ শরীফকে জাল বলার আগে পড়ে দেখো


সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ তৈরী হয়েছে তারা তাদের মতবাদের বিরুদ্ধে মনে হলেই হাদীছ শরীফকে জাল বলে দেয়। কোন কিছু আগ পিছ চিন্তাও করে না। অথচ হাদীছ শরীফ নিয়ে কথা বলার মত যোগ্যতাও এদের নাই।
অথচ এ বিষয়ে মুহাদ্দিছীনেগন কি বলেছেন দেখুন, “ ইসলামীক ফাউন্ডেশনের রেজাল শাস্ত্র ও জাল হাদীসের ইতিবৃত্ত বইয়ের ২২৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, বলাবাহুল্য; যে হাদিসের ব্যপারে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে এটা জাল বা মউযু তবে এটা মউযু হওয়ার উল্লেখ না করে বর্নণা করা হারাম।

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ’ কেন বলা হয় তার দলীল।



আমরা জানি মুসলমানদের জন্য অন্যতম দুই দিন হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। এ দুই দিন ঈদের দিনও বটে। এ দুই ঈদ ছাড়াও আরো ঈদ আছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা ঈদের দিন হলো পবিত্র জুমুয়ার দিন। হাদীছ শরীফে আছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ هٰذَا يَوْمُ عِيْدٍ جَعَلَهُ اللهُ لِلْمُسْلِمِيْنَ فَمَنْ جَاءَ اِلَى الْـجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ وَاِنْ كَانَ طِيْبٌ فَلْيَمَسَّ مِنْهُ وَعَلَيْكُمْ بِالسّوَاكِ‏.‏
অর্থ : “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই দিনকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিনরূপে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি জুমুআর নামায আদায় করতে আসবে, তিনি যেন গোসল করে এবং সুগন্ধি থাকলে তা শরীরে লাগায়। আর মিসওয়াক করাও কর্তব্য।” (ইবনে মাজাহ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১০৯৮, আল্ মু’জামুল আওসাত লিত্ ত্ববারানী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৭৩৫৫)

এ ছাড়া হাদীছ শরীফে  আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
অর্থ : “হযরত উবাইদ বিন সাব্বাক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক জুমুআর দিনে ইরশাদ মুবারক করেন, এ পবিত্র জুমআর দিন হচ্ছে এমন একটি দিন, যে দিনকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (মুয়াত্তা মালিক শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১৪৪, ইবনে মাজাহ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১১৯৮, মা’য়ারিফুস সুনান ওয়াল আছার বায়হাক্বী শরীফ : হাদীছ শরীফ ১৮০২, মুসনাদে শাফিয়ী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৬৮, আল্ মু’জামুল আওসাত লিত্ ত্ববারানী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৩৪৩৩)

জানা দরকার এ দিনের বৈশিষ্ঠ কি। কেন এ দিন ঈদের দিন হলো-

হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَوْسِ بْنِ اَوْسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ‏ اِنَّ مِنْ اَفْضَلِ اَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ فِيْهِ خُلِقَ اٰدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَفِيْهِ قُبِضَ.
অর্থ : “হযরত আউস ইবনে আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে পবিত্র জুমুআর দিন। এ দিনে আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সৃষ্টি হয়েছেন এবং এ দিনেই তিনি পবিত্র বিছালী শরীফ গ্রহন করেছেন।” (নাসায়ী শরীফ শরীফ : কিতাবুল জুমুয়া : হাদীছ শরীফ নং ১৩৮৫, মুসলিম শরীফ : কিতাবুল জুমুয়া, হাদীছ শরীফ নং ৮৫৫, তিরমিযী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৪৯১, মুসনাদে আহমদ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৮৯৫৪, ইবনে মাজাহ শরীফ : হাদীছ শরীফ ১৭০৫, আবূ দাঊদ শরীফ : কিতাবুছ ছলাত, হাদীছ শরীফ নং ১০৪৭, ইবনে খুজায়মা শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১৬৩২)

এ হাদীছ শরীফ থেকে আমরা জানতে পারলাম আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি ও আগমনের কারনে জুমুয়ার দিন ঈদের দিন।

এখানেই শেষ নয়, ‘জুমুয়ার দিন’ দিন শুধু ঈদের দিনই নয় বরং অন্যান্য দিনের চাইতেও শ্রেষ্ঠ দিন বা হাদীছ শরীফের ভাষায় ‘সাইয়্যিদুল আইয়াম’ ।

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ يَوْمَ الْـجُمُعَةِ سَيّدُ الاَيَّامِ وَاَعْظَمُهَا عِنْدَ اللهِ وَهُوَ اَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ مِنْ يَّوْمِ الاَضْحٰى وَيَوْمِ الْفِطْرِ فِيْهِ خَـمْسُ خِلَالٍ خَلَقَ اللهُ فِيْهِ حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَاَهْبَطَ اللهُ فِيْهِ حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اِلَى الْأَرْضِ وَفِيْهِ تَوَفَّى اللهُ حَضْرْتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَفِيْهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ اللهَ فِيْهَا الْعَبْدُ شَيْئًا اِلَّا اَعْطَاهُ مَا لَـمْ يَسْأَلْ حَرَامًا وَفِيْهِ تَقُوْمُ السَّاعَةُ مَا مِنْ مَلَكٍ مُّقَرَّبٍ وَلَا سَـمَاءٍ وَلَا اَرْضٍ وَلَا رِيَاحٍ وَلَا جِبَالٍ وَلَا بَـحْرٍ اِلَّا وَهُنَّ يُشْفِقْنَ مِنْ يَّوْمِ الْـجُمُعَةِ‏.
অর্থ : “হযরত আবূ লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র জুমআ শরীফের দিন সকল দিনের সাইয়্যিদ (সাইয়্যিদুল আইয়াম) এবং সকল দিন অপেক্ষা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত। এদিনটি পবিত্র ঈদুল আদ্বহার দিন ও পবিত্র ঈদুল ফিতরে দিন অপেক্ষাও মহান আল্লাহ পাকের নিকট অধিক শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত।
এ দিনটিতে পাঁচটি (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয় রয়েছে- (১) এ দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন, (২) এ দিনে উনাকে যমীনে প্রেরণ করেছেন, (৩) এ দিনে তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহন করেছেন, (৪) এ দিনটিতে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়টিতে বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দান করেন, যে পর্যন্ত না সে হারাম কিছু চায় এবং (৫) এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এমন কোন ফেরেশতা আলাইহিস সালাম নেই, আসমান নেই, যমীন নেই, বাতাস নেই, পাহাড় নেই, সমুদ্র নেই, যে জুমুআর দিন সম্পর্কে ভীত নয়।” (ইবনে মাজাহ শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ১১৩৭, আল্ মু’জামুল কবীর লিত্ ত্ববারানী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৪৫১১, বায়হাক্বী শরীফ  : হাদীছ শরীফ নং ২৯৭৩)

অর্থাৎ দেখা গেলো জুমুয়ার দিন শুধু ঈদের দিনই নয় বরং ‘সাইয়্যিদুল আইয়াম’ বা অন্যান সাধারন দিন সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন। কারন সমূহের অন্যতম হচ্ছে হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি, আগমন ও বিছাল।
তাহলে যিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনারও রসূল, সাইয়্যিদুল মুসরালিন, ইমামুল মুরসালিম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের দিনটা কি হবে?
সেটা কি গুরুত্ব পাবে না? সেট কি শ্রেষ্ঠ দিন হবে না?
হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার আগমনের জন্য জুমুয়ার দিন যদি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার চাইতে বড় ঈদের দিন হয়, হাদীছ শরীফের ভাষায় ‘সাইয়্যিদুল আইয়াম’ হয় তাহলে সৃষ্টি জগতের সবার রসূল হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উনার আগমন বা বিলাদত শরীফের দিন ও তারিখ কি “সাইয়্যিদুল আইয়াদ” বা শ্রেষ্ঠ ঈদ হবে না?