দেওবন্দী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দেওবন্দী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

আশরাফ আলী থানবীর ব্যাখ্যা মতেও সূরা ইউনুসের ৫৮ আয়াতের অনুগ্রহ ও রহমত হচ্ছেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

আশরাফ আলী থানবী সকলের এক পরিচিত নাম। সে অনেক কিতাবই লিখেছে। পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ম্পকেও তার কিতাব আছে। কিতাবের নাম হচ্ছে “ঈদে মীলাদুন্নবী কী শরয়ী হাইসিয়ত” যার বাংলায় অনুবাদ হয়েছে “শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মীলাদুন্নবী”। 





উক্ত কিতাবে নিয়ামত, অনুগ্রহ, রহমত দ্বারা হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝানো হয়েছে। এই কিতাবে ৩৬ থেকে ৩৮ পৃষ্ঠা পর্যন্ত লেখায় যা বোঝা যায়,

১) সমস্ত নিয়ামতের নিয়ামত হচ্ছেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমন প্রতিটি বস্তুর জন্য রহমত।
৩) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান অস্তিত্ব মুবারক সর্বপ্রথম নুর হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।
৪) উক্ত নুর মুবারক দৈহিক আকৃতি ‍মুবারকে গোটা বিশ্বজাহান আলোকিত করেছেন
৫) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমগ্র বিশ্ব জগতের জন্য রহমত, উনার আগমন সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত।
৬) সূরা ইউনুছ শরীফের ৫৮ আয়াতের আল্লাহ পাকের ফদ্বল ও রহমত পাওয়ার কারনে যে খুশি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে সেই ফদ্বল ও রহমত হচ্ছেন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
৭) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন সমগ্র নিয়ামত, অনুগ্রহ, রহমতের মূল উৎস।
৮) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনে খুশি প্রকাশ সবার জন্য আবশ্যক।
৯) সূরা ইউনুস ৫৮ আয়াত দ্বারা বোঝা গেলো নিয়ামতের জন্য আনন্দিত হওয়া আবশ্যক।
১০) আর ফদ্বল ও রহমত পেয়ে খুশি প্রকাশ দুনিয়ার সমস্ত আমলের চাইতে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।
উক্ত কিতাবে যদিও কিছু ক্ষেত্রে আশরাফ আলী থানবী কিছু ইখতেলাফ করেছে কিন্তু উপরো্ক্ত আলোচনায় তার বক্তব্য ঠিক আছে। এই টুকুও যদি যারা বিরোধীতা করে তারা মানতে পারে তাহলে মূল বিষয়ে বিরোধীতা থাকার কথা নয়।
আল্লাহ পাক সাবাইকে বিষয় গুলো বোঝা ও উপলব্দির তৌফিক দান করুন।


বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

দেওবন্দীদের অন্যতম মুরুব্বী অাযিযুল হক ব্যাপক প্রশংসার সাথে পবিত্র মীলাদুন্নবীর আলোচনা করেছে

বাংলাদেশের দেওবন্দ সিলসিলার অন্যতম ,তাদের শায়খুল হাদীস আজিযুল হক বুখারী শরীফের অনুবাদ ও টীকা করেছিলো। উক্ত অনুবাদ গ্রন্থের ৫ম খন্ডটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। (৫ম খন্ড পড়তে চাইলে:  এখানে ক্লিক করুন)




৫ম খন্ডের ৩৭, ৩৮, ৩৯ পৃষ্ঠার স্ক্যান কপি আপনাদের সম্মুখে উপস্থাপন করা হলো, সেখান থেকে যা প্রমাণ হচ্ছে,
১) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের দিন সমগ্র ধরনীতে আনন্দের হিল্লোল প্রবাহিত হয়।
২) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাতিরে আরশ-কুরসী, লৌহ কলম, আসমান-জমিন, মানুষ- ফিরিশতা সৃষ্টি হয়েছে।
৩) উনার আগমনের অভিন্দন জানিয়ে বলা হয়েছে “ ইয়া নবী সালামু আলাইকা - ইয়া রসূল সালামু আলাইকা - ইয়া হাবীব সালামু আলাইকা - ছালাওয়াতুল্লাহি আলাইকা।
৪) উনার অাগমন অর্ভ্যথনার জন্য সমগ্র সৃষ্টিকুল অধির আগ্রহের প্রহর গুনছিলো।
৫) নুরানী আত্মা ও নুরানী দেহ আগমন করেন এই দুনিয়ায়। ((উপরোক্ত বক্তব্য বই থেকে পড়তে চাইলে)
তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সৃষ্টির মহান উপলক্ষ হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের দিবসটার মর্যাদা ও গুরুত্ব কত? 

বর্তমানে আজিযুল হকের অনুসারী দাবীদার অনেকে কেন সেটা মানতে চান না?


দেওবন্দ মাদ্রাসার ৬০ বছরের অধ্যক্ষ ক্বারী তৈয়ব বলেন মীলাদ শরীফ আলোচনা করা ইবাদতের মূল

আপনারা কি জানেন দেওবন্দ মাদ্রসায় ৬০ বছর অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব কে পালন করেছে? সকলেই নাম শুনে থাকবেন তার নাম হচ্ছে ক্বারী তৈয়ব। দেওবন্দ মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেনীর মুহাদ্দিসদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার বক্তব্য বা আলোচনা গুলো একত্রে উর্দূতে ১০ খন্ডে প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ইসলামী ফাউন্ডেশনও সেগুলো ‘খুতবাতে হাকীমুল ইসলাম’ নামে অনুবাদ করে।
সেই বইয়ের ১৩ পৃষ্ঠায় পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল ও জন্মবৃত্তান্ত বা তাওয়াল্লুদ শরীফ পাঠ করার বিষয়ে সুন্দর কিছু কথা বলা হয়েছে। সেখানে লেখা আছে,




রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র জন্মবৃত্তান্ত আলোচনা করা ইবাদতের মূল এবং আল্লাহর প্রতি গভীর নুগত্য ও নৈকট্য লাভের উপায়, সমস্ত কামালত ও বরকতের উৎস। তাই মিলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ম্পকে আলোচনা এক বিশেষ নিয়ামত, যা মুসলমানদের দান করা হয়েছে।” (খুতবাতে হাকীমুল ইসলাম ১৩ পৃষ্ঠা। প্রকাশনা: ইসলামী ফাউন্ডেশন)
উপরোক্ত দেওবন্দী আলেমের বক্তব্য আর বর্তমান সময়ের দেওবন্দ নামধারীদের বক্তব্য বিপরীত হয় কেন? বর্তমানে নিজেদের দেওবন্দ সিলসিলার দাবি করে কি করে অনেকে ঢালাও ভাবে পবিত্র মীলাদ মাহফিলের আলোচনাকে হারাম নাজায়িয বলে? 

এদের উদ্দেশ্য কি? মুরুব্বীদের বির্তকিত করে অন্য কারো মনতুষ্টি অর্জন করা। একালের দেওবন্দী ও সেকালের দেওবন্দীদের মধ্যে কারা পার্থক্য সৃষ্টি করছে?

আশরাফ আলী থানবী তার কিতাব হেকায়াতে আউলিয়াতে লিখেছে মীলাদ শরীফ না হলে কালিমা শরীফই হতো

দেওবন্দ সিলসিলার অন্যতম আশরাফ আলী থানবীর অন্যতম সংকলন কিতাব হচ্ছে “হেকায়াতে আউলিয়া। এই কিতাবে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ বিষয়ে একখানা ঘটনা আছে যাদ্বারা স্পষ্ট বুঝতে পারবেন মূল দেওবন্দ সিলসিলার লোকেরা মীলাদ শরীফ সর্ম্পকে কি ধারনা রাখতো। 
উক্ত কিতাবে কি উল্লেখ আছে নিজেরাই দেখে নিন,



“এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলো, আপনাদের ওখানে কি মীলাদ শরীফ পাঠ করা হয়? তিনি বললেন, প্রতিদিনই পাঠ করা হয়। তিনি কালেমা শরীফ পাঠ করে বললেন, যদি মীলাদ শরীফ না হয়, তাহলে এ কালেমা শরীফ হলো কিভাবে। তিনি বললেন, যদি আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের আলোচনা করলে রহমত বর্ষণ হয়, তাহলে মীলাদ শরীফ পাঠ করলে কি হবে? সুবহানাল্লাহ (হেকায়েতে আউলিয়া ৮৭ পৃষ্ঠা)

বর্তমানে যারা দেওবন্দী পরিচয় দেয় তারা কি মূলত দেওবন্দী? যদি হতো তবে আকাবীরদের বিরোধী কেন? তবে কি ছদ্মবেশে বর্তমানে কেউ বা কারা দেওবন্দ সিলসিলা হিসাবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে? মূলত তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন কিছু প্রমাণ করা বা মুরুব্বীদের বির্তকিত করা?

হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান আহমদ শফী দাবি সকল উলামায়ে কিরাম মীলাদ কিয়াম নাজায়িয বলেছে, এর প্রমাণ কি শফী ‍দিতে পারবে?

দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী মাদ্রসার মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ হেফাজত ইসলাম এর আমীর শাহ আহমদ শফী একটা বই লিখেছেন “হক্ব ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ”। হাটহাজারী থেকেই বইটি প্রকাশিত। 
উক্ত বইয়ের ৬৩ পৃষ্ঠায় পবিত্র মীলাদ ও কিয়ামের বিরোধীতা করতে গিয়ে উক্ত বয়োবৃদ্ধ শফী সাহেব লিখেন,
পৃথিবীর সমস্ত মুহাদ্দিসীন, মুফাসিরীন এবং হক্বপন্থী উলামায়ে কিরাম ও দেওবন্দী আলেমগন প্রচলিত মীলাদ ও কিয়ামকে বিদয়াত ও না জায়েয বলেন।(হক্ব ও বাতিলের চিরন্তন দ্বন্দ ৬৫ পৃষ্ঠা)


আমার জানার যে বিষয় সেটা হলো,
১) পৃথিবীর সমস্ত মুহাদ্দিসদের সে নামের তালিকায় কারা আছেন?
২) পৃথিবীর সমস্ত মুফাসসিরদের সে নামের তালিকায় কারা আছেন?
৩) পৃথিবীর সমস্ত হক্বপন্থী উলামায়ে কিরামদের নামের তালিকায় কারা আছেন?
৪) দেওবন্দী আলেমগন কারা কারা নাজায়িয বলেছেন?
কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ উক্ত মুহাদ্দিস, মুফাসসির, হক্ক আলেম, দেওবন্দী আলেমদের বক্তব্য প্রদান করুন।
যদি আপনি উক্ত দাবির পক্ষে দলীল দিতে না পারেন তাহলে ঢালাও মিথ্যাচারের কারন কি? আপনি বা আপনারা মানেন না সেটা আপনাদের বিষয় কিন্তু সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এমন ঢালাও বক্তব্য কি আপনার মত নব্বইউর্ধো বয়োঃবৃদ্ধ ব্যক্তির জন্য শোভনীয়? 

এমন মিথ্যা অভিযোগ করার আগে আল্লাহ পাকের ভয়ে কি অন্তর একবারও কাঁপলো না? এই বয়সেতো মৃত্যুর ভয়ে ভীত থাকার কথা। ভুল ত্রুটি থেকে তওবা করার কথা।
বিঃদ্রঃ আমরা গবেষনা করে দেখেছি, পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফকীহ ও দেওবন্দী আলেমরা পবিত্র মীলাদ কিয়ামের পক্ষে বলেছেন-
দেওবন্দী আলেমদের দলীল


শনিবার, ১৩ মে, ২০১৭

দেওবন্দী মুরুব্বী কাশেম নানতুবী গায়েব জানলে, হাজির নাজির হতে পারলে নবীজীর বেলায় মানতে কষ্ট কেন?

দেওবন্দীদের গুরু আশরাফ আলী থানভীর কিতাব দ্বারা তাদের মুরুব্বী কাশেম নানতুবীর হাজির নাজির, গায়েবের জ্ঞান, অন্যকে সাহায্য করার কথা উল্লেখ আছে। তাহলে তারা হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গায়েব, হাজির নাজির মানতে এত সমস্যা কোথায়? দেওবন্দ মাদ্রাসার অন্যতম মুহতামিম ক্বারী তৈয়ব বর্ননা করে—




" যে সময় ক্বারী রফিউদ্দিন সাহেব মাদ্রাসার মুহতামিম ছিলেন, তখন দারুল উলুমের কয়েকজন শিক্ষকের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মওলবী মাহমুদুল হাসান এই কোন্দলে জড়িত হয়ে পরেন। এবং কোন্দল বিস্তার লাভ করে। 
এমনি এক সময়একদিন ভোরে ফজরের নামাজের পর মাওলানা রফী উদ্দীন সাহেব মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেবকে দারুল উলুমে নিজ কামরায় ডাকলেন। মাওলানা উপস্থিত হলেন এবং বন্ধ কামরার দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলেন। তখন তীব্র শীতের মৌসুম ছিলো। 
মাওলানা রফীউদ্দিন সাহেব বললেন, প্রথমে আমার এ তুলার তৌষকটা দেখুন। মাওলানা মাহমুদুল হাসান তোষকটা দেখলেন। যেটা আদ্র এবং খুব ভিজা ছিলো। রফিউদ্দীন সাহেব বললেন, ব্যাপার হচ্ছে কিছুক্ষণ আগে মাওলানা কাশেম নানুতুবী স্বশরীরে আমার কাছে তাশরীফ এনে ছিলেন।( অথচ কাশেম নানতুবী অনেক আগেই মারা গিয়েছিলো ) যার ফলে আমি একেবারে ঘেমে গেছি এবং আমার তোষক ভিজে গেছে। তিনি এটা বলে গেছেন যে , মাহমুদুল হাসানকে বলে দিও, সে যেন ঝগড়ায় জড়িত হয়ে না পরে। অতএব আমি আপনাকে এটা বলার জন্য ডেকেছি। অতপর, মাহমুদুল হাসান বললেন, হুজুর আমি আপনার হাতে তাওবা করতেছি এরপর এ ব্যাপারে কিছুই বলবো না।"  (দলীল: আরওয়াহে ছালাছা ২৪৬ নং ঘটনা)
 
ব্যপারটা এখানেই শেষ নয়, এই ঘটনার ব্যাপারে মওলবী আশরাফ আলী থানবী উক্ত কিতাবে একটি টিকা সংযুক্ত করে দিয়েছেন। ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন-
 "এ ঘটনা ছিলো রুহের আকৃতি ধারন। এটা দুই ধরনের হতে পারে, এক, এটা রুপক শরীর ছিলো কিন্ত দেখতে ব্যহ্যিক শরীরের মত। দুই, রুহ স্বয়ং মূল পদার্থের উপর হস্তক্ষেপ করে বাহ্যিক শরীর গঠন করে নিয়েছে।"  (দলীল :আরওয়ায়ে ছালাছা ১৯৪ পৃষ্ঠা)


এবার আসুন উক্ত ঘটনার পর্যালোচনা করা যাক ,

উক্ত ঘটনা থেকে তাদের ফতোয়া মোতাবেক ৪ টা কুফরী / শেরকি আক্বীদা আছে। 

(১) ইলমে গায়েব- তাদের ফতোয়ায় নবজী দেওয়ালের ওই পাশে কি হচ্ছে এটা বলতে পারেন না , অথচ তাদের মুরুব্বী নানতুবীর বেলায় প্রমান করলো তার গায়েবের জ্ঞান ছিলো। কারন এ জ্ঞান না থাকলে আলমে বরযখ বা মৃত্যুর পরের জগৎ থেকে তিনি দেওবন্দের গন্ডোগলের খবর কেমনে জানলেন ??

(২) হাজির নাজির-- তাদের ফতোয়ায় কোন নবী রসূল হাজির নাদির হতে পারে না। অথচ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে নিজেদের মুরুব্বীদের হাজির নাজির হওয়ার ক্ষমতা ছিলো , যেকারনে মৃত্যুর পরও দেওবন্দ মাদ্রাসায় হাজির হয়ে গিয়েছেন। 

(৩) মৃত্যুর পর ক্ষমতা প্রয়োগের শক্তি -- যেখানে তাদের ফতোয়া মতে নবী রসূল গন ইন্তেকালের পর একটা মাছি তারানোর ক্ষমতা রাখে না সেখানে নানতুবী নিজ ক্ষমতা বলে দেওবন্দের কোন্দলের মিমাংসা করলেন। 


সম্মানিত মুসলমান ভাইয়েরা বিচার আপনাদের কাছেই থাকলো। যেটা নবী - রসুল উনাদের বেলায় বললে কুফর, শিরিক সেটা তাদের মুরুব্বীদের জন্য জায়েজ এটা দিয়ি কি প্রমান হয় ? 
দেওবন্দী দের নবী কে ?? 

রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

হেফাজতের নাকে মূলা বেঁধে কি হাসিল করলো সরকার জেনে নেয়া দরকার।


সংবাদপত্রে আজ এ বিষয়ে বেশ অনেক তথ্যই দেয়া হয়েছে (http://bit.ly/2ppdcAD)। কেন্দ্রীয় নেতাদের কথায় হেফাজত সংক্রান্ত সরকারের কৌশলে কিছু লাভের বিষয় বেরিয়ে এসেছে। তথ্য গুলো উল্লেখ করা হলো- 
১) নেতারা মনে করেন, হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীসহ অনেকেই মনে করে নারী নেতৃত্ব হারাম। তাঁরা প্রকাশ্যে বক্তৃতায় নারী নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করে। দাবি আদায়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে বসে বৈঠকে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের সেই বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করা গেছে।

সূতরাং রাজনীতির প্যাঁচে প্রমান হলো আহমক শফী ও তার বাহিনী সব ধর্ম ব্যাবসায়ী। নারী নেতৃত্ব হারাম বলার পর প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসে নারী নেতৃত্ব পরিচালিত সরকারের জন্য দোয়া করানো মাধ্যমে মুনাফিক হিসাবে সাব্যস্ত করানো হলো।
২) ২০১৩ সালের ৫ মে অভিযান চালিয়ে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের মতিঝিল থেকে উঠিয়ে দেওয়ার পর তারা ব্যাপক অপ্রচারে নামে। গ্রামে-গঞ্জে প্রচার করা হয় যে সরকার শত শত আলেম মেরে ফেলেছে। হেফাজতের সঙ্গে সখ্যের কৌশলের কারণে এখন আর এই অপপ্রচার করতে পারবে না। আর করলেও মানুষ বিশ্বাস করবে না। এ ছাড়া হেফাজত পুনরায় মাঠে নামতে পারে কিংবা তাদের বিএনপি-জামায়াত মাঠে নামাতে পারে, এমন একটা আশঙ্কা ছিল। এখন সেই সম্ভাবনাও কমে গেছে।
অর্থাৎ মুখে কিছু বিরিয়ানী ঢুকিয়ে দিয়ে জাবান বন্ধ করে দেয়া হলো। এই জবান দিয়ে আর কখনো সরকারের বিরোধীতা করতে পারবে না।
৩) গতকাল শনিবার ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির পরে আল্লামা শফী হুজুর গতকাল (শুক্রবার) এক জনসভায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান নেওয়াটা লাভ নয় কি?’
তার মানে যেটা বোঝা গেলো হেফাজত অাগে সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত ছিলো। এই সন্ত্রাসবাদ ধামাচাপা দিতে হেফাজতকে দলে ভিড়ানো হয়েছে। কওমী স্বীকৃতির অাগে হেফাজত ছিলো সন্ত্রাসের প্রতি নমনীয় এটাও কৌশলে বুঝানো হলো।
আহমক শফী শ্রেনীরে লোকদের জন্য হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
ويل لامتى من علماء السوء يتخذون هذا العلم تجارة يبغونها من امراء زمانهم ربحا لانفسهم لااربح الله تجارتهم
 “উলামায়ে সূ’দের দ্বারা আমার উম্মত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে (যদি তারা তাদের থেকে সতর্ক না থাকে)। যারা নিজেদের অর্জিত ইলম দ্বারা তাদের যুগের সরকার হতে অর্থ ও পদ উপার্জনের প্রচেষ্টা চালাবে তারাই উলামায়ে সূ।” তাদের জন্য রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বদ দোয়া করেছেন এই বলে যে, “আয় আল্লাহ পাক! যারা নিজেদের উলম দ্বারা দুনিয়াবী সরকারের সাথে ব্যবসা করতে চায় তাদের ব্যবসায় বরকত দিবেন না।” (কানযুল উম্মাল ২৯০৮৪, জামিউ জাওয়ামে ২৫৩৬৬)

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৬

১২ রবিউল আউয়াল নবীজীর বিছাল শরীফের দিন খুশি প্রকাশ করা যাবে?


বাতিল ফির্কা একটা আপত্তি করে ১২ রবিউল আউয়াল শরীফ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ ছাড়াও বিছাল শরীফের তারিখ। এই দিনতো শোকের দিন (নাউযুবিল্লাহ)। তাহলে এই দিন কি ঈদ পালন করা যাবে? 

অবশ্যই পালন করা যাবে। এ বিষয়ে অনেক দলীল পেশ করা হয়েছে পূর্বে। আজকে সে বিষয়ের অবতারনা করবো না। আজকে সরাসরি বিরোধীতাকারীদের মুরুব্বী আশরাফ আলী থানবীর বক্তব্য থেকেই বিষয়টা তুলে ধরবো। থানবীর লিখিত বইটির নাম হচ্ছে  ‘নশরুত্যীব’। বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে ‘যে ফুলের খুশবুতে সারা জাহান মাতোয়ারা’ আর অনুবাদ করেছে দেওবন্দীদের আরেক মুরুব্বী আমিনুল ইসলাম লালবাগ মসজিদের সাবেক খতিব। তো আসুন দেখা যাক উক্ত বইতে কি আছে-









থানবীর লিখনী থেকে প্রমাণ হলো হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফের দিন রহমত, নিয়ামত, কল্যান অার কোনভাবেই মুছিবতের বা শোকের দিবস নয়। 

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৬

দেওবন্দী মুরুব্বী মাসিক মদীনার সম্পদক মহিউদ্দীনের লেখনিতেই প্রমাণ হলো নবীজী নূর

খাসায়েসুল কুবরা পৃথিবী বিখ্যাত এক কিতাব। লেখক হচ্ছেন বিখ্যাত ইমাম হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। বাংলায় এ কিতাবের অনুবাদ করেছে দেওবন্দীদের অন্যতম মান্যবর মাহিউদ্দীন (মাসিক মদীনার সম্পাদক) । 


দেখুন কিতাবের শুরুতে অনুবাদকের আরজে মাহিউদ্দীন লিখেছে, “এ কিতাব সহীহ বর্ণনার এক অপূর্ব সমাহার।” দেখা গেলো মাহীউদ্দীন স্বীকারোক্তি করলো এই কিতাবের বর্ণনা গুলো সহীহ।

এবার কিতাবের ১ম খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠায় চলে যান। লাল বন্ধনীতে আবদ্ধ বর্ণনাটি পড়ুন- “হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা বর্ণনা করেন, আমি সকালবেলা কাপড় সেলাই করছিলাম, হঠাৎ আমার হাত থেকে সূঁচটি পড়ে গেলো। অনেক খোজা-খুজি করে সেটি পাওয়া গেলো না। অতঃপর , হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগমন করলে মুখমন্ডলের উজ্বল্যে (মূল কিতাবে আছে ‘নূরের’ উজ্বলতায়) সূঁচটি দৃষ্টিগোচর হয়ে গেলো।”



সূতরাং দেওবন্দীদের স্বীকারোক্তিতেই প্রমাণ হলো উক্ত হাদীস শরীফ সহীহ। বিরোধীতা করলে নিজেদের মুরুব্বীকেই মূর্খ সাব্যস্ত করতে হয়।

বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০১৬

দেওবন্দী মুফতে শফীর কিতাবে নবীজীর বিলাদত শরীফের তারিখ ১২ ই রবিউল আউয়াল শরীফ

পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলে দেওবন্দী ওহাবীরা অপপ্রচার চালায় হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের তারিখ ১২ ই রবিউল আউয়াল শরীফ নয়। তারা তাদের পক্ষের দলীল দেয়ার জন্য মিশরের নাস্তিক মাহমুদ পাশার দলীল দেয়। 
অথচ তাদের মুরুব্বীরা এই প্রসঙ্গে কি বলেছে দেখে নেন-


“ সারকথা যে বছর আসহাবে ফীল কা’বা আক্রমন করে, সেই বছর রবিউল আউয়াল মাসে ১২ তারিখ রোজ সোমবার দিনটি ছিলো পৃথীবির জীবনে এক অনণ্য সাধারন দিবস। যে দিন নিখিল ভুবন সৃষ্টির মূল লক্ষ্য , দিবস রজনী পরিবর্তনের মূখ্য উদ্দেশ্য , হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও বণী আদমের গৌরব, হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কিস্তির নিরাপত্তার নিগূঢ় তাৎপর্য , হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের প্রর্থনা ও হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর ভবিষ্যতবানী সমূহের উদৃষ্ট পুরুষ অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ মোস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীর বুকে আগমন করেন।” (দলীল: সীরোতে খতিমুল আম্বিয়া, লেখক- মুফতে শফী পাকিস্তান, পৃষ্ঠা ৪, প্রকাশনা - এমদাদীয়া লাইব্রেরি)



উক্ত কিতাবে একটা টীকা সংযোজন করা হয়েছে, “ সর্বসম্মত মতানুনারে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্ম রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার হয়েছিলো। কিন্তু তারিখ নির্ধরনের জন্য ৪ টি রেওয়ায়েত প্রসিদ্ধ রহিয়াছে। যথা- দ্বিতীয়, অষ্টম, দশম, দ্বদশ। হাফিজ মোগলতাঈ (রহ) ২য় তারিখের রেওয়ায়েত গ্রহন করিয়া অন্যান্য রেওয়ায়েতকে দুর্বল বলিয়া মন্তব্য করিয়াছেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েত হচ্ছে দ্বাদশ তারিখের রেওয়ায়েত। এমনকি ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহার উপর ইজমার দাবী বর্ণনা করেছেন। ইহাকে কামেলে ইবনে আছীরে গ্রহন করা হয়েছে। 
মাহমূদ পাশা মিশরী যাহা গননার মাধ্যমে ৯ তারিখকে গ্রহন করেছেন তাহা জমহুরের বিরোধী সনদবিহীন উক্তি। চন্দ্রোদয়ের বিভিন্ন হওয়ার কারনে গননার উপর এমন কোন নির্ভযোগ্যতা জন্ম হয় না যে ইহার উপর ভিত্তি করিয়া জমহুরের বিরুদ্ধাচারণ করা হইবে।


মজার বিষয় এই কিতাবকে বাংলাদেশের দেওবন্দীদের অন্যতম গুরু বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক ব্যাপক প্রশংসা করেছে। সে আশরাফ আলী থানবীর রেফারেন্সে বলেছে, ইহাকে বিভিন্ন আনজুমান ও পাঠ্যপুস্তকের তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করেছিলো।
এখন আপনারাই বলুন দেওবন্দী মুরুব্বীদের মতামতের বিরোধীতা করে বর্তমান দেওবন্দীরা কেন ১২ ই রবিউল আউয়াল শরীফের বিরোধীতা করে??

বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

দেওবন্দী গুরু আশরাফ আলী থানবীর যৌন চিকিৎসা

দেওবন্দী/তাবলীগিদের হেকীমুল উম্মত বা কবিরাজ আশরাফ আলী থানবী পূর্বেই অনুমান করতে পেরেছিলো যে, তার সকল অনুসারীরা সমকামী/লুইচ্চামীর জন্য ধ্বজভঙ্গ হবে। আর সেকারনে থানবী তার যৌনচিকিৎসা মূলক বই "বেহেশতী জেওরে" কিছু যৌন চিকিৎসা বর্ননা করে গিয়েছে।

আশরাফ আলী থানভী তার বেহেস্থী জেওর বইয়ের মধ্যে যৌন চিকিৎসা সম্পর্কিত অনেক গুলা পয়েন্ট উল্লেখ করেছে। তার কয়েকটি দেয়া হলো-

(১০) এড়েঁ গরুর লিঙ্গ সুরমার ন্যায় মিহীন করিবে। মধু মিশ্রীত করিয়া উহা সঙ্গমের কিছুক্ষণ পূর্বে সেবন করিবে। ইহাতে নিস্তেজ লিঙ্গেরও পুনরুত্থান হইবে।

(১১) সহবাসের পূর্বে কুকুরের লিঙ্গ কাটিয়া উরুতে বাধিয়া লইবে , তাহলে সঙ্গম দীর্ঘস্থায়ী হইবে ।"

(১৪) কুকুরের সঙ্গমকালে যখন মজবুতভাবে লাগিয়া যায় তখন সাবধানতার সহিত পুরুষ কুকুরের লেজ জড়ো থেকে কাটিয়া লইবে। চল্লিশ দিন উহা মাটির নিচে গাড়িয়া রাখিবে। অতপর মাটি হইতে বাহির করিবে এবং সূতায় গাঁথিয়া কোমড়ে ধারন করিবে। যতক্ষণ উহা কমড়ে থাকিবে ততকক্ষন বীর্যপাত হইবে না।"

( নাউজুবিল্লাহ )

তথ্যসূত্র : বেহেশস্থী জেওর , ২য ভলিউম , নবম খন্ড , চিকিত্সা অধ্যায় , পৃষ্ঠা ৩৭৭ , এমদাদিয়া লাইব্রেরি , চক বাজার ঢাকা , অনুবাদক : শামসুল হক ফরিদপুরী।

বিঃদ্রঃ বিভিন্ন পুরানো রেলস্টেশনে এখনো থানবী দাঁতের মাজন বিক্রি হয়