শবে বরাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শবে বরাত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

১৫ শাবান বা পবিত্র শবে বরাতের দিনে রোজা রাখার সহীহ হাদীছ শরীফ


বর্তমানে সালাফী ওহাবীরা বলে পবিত্র শবে বরাতে রোজা রাখার কোন দলীল নেই, এ দিন নির্দৃষ্ট করে রোজা রাখা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ। অথচ ছিয়া ছিত্তার অন্যতম সহীহ কিতাব “মুসলিম শরীফে” এই দিনে রোজা রাখার স্পষ্ট দলীল বিদ্যমান রয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফের মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أَوْ لآخَرَ ‏"‏ أَصُمْتَ مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ
অর্থ: হযরত ইমরান ইবনু হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, সাইয়্যদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অথবা অপর কাউকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি পবিত্র শাবান মাস উনার মধ্যভাগে (শবে বরাত শরীফ) রোজা পালন করেছিলেন? তিনি বললেন, না। তখন সাইয়্যদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করলেন বললেন, যখন আপনি রোজা পালন করেননি, তখন আপনি দুই দিন রোজা পালন করে নিবেন। (মুসলিম শরীফ: কিতাবুস সাওম- বাবু সাওমি শাহরী শাবান- হাদীস নম্বর ২৬২২, সহীহ ইবনে হিব্বান ৩৫৮৮,  ফতহুল বারী ৪/২৩০, উমদাতুল ক্বারী ১৭/৯৯, শরহে মুসলিম লি নববী ৪/১৮১)

শুধু তাই নয়, এই রোজার গুরুত্ব এতই বেশি যে এই দিনে রোজা না রাখলে, কাফফারা স্বরূপ পবিত্র রমাদ্বান মাসের পর দুই দিন রোজা রেখে দিতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, 
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي، الْعَلاَءِ عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، - رضى الله عنهما - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ ‏"‏ هَلْ صُمْتَ مِنْ سُرَرِ هَذَا الشَّهْرِ شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَإِذَا أَفْطَرْتَ مِنْ رَمَضَانَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ مَكَانَهُ ‏"‏ .
অর্থ: হযরত ইমরান ইবনু হুসাইন রদ্বিল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, সাইয়্যদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যাক্তিকে (হযরত সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি এ মাসের (শাবান মাসের ১৫ তারিখ) মধ্যেভাগে রোজা পালন করেছিলে? তিনি বললেন, না। সাইয়্যদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি তার বদলে রমাদ্বান মাসে রোজা শেষ করে দুই দিন রোজা পালন করবেন। (মুসলিম শরীফ: কিতাবুস সাওম- বাবু সাওমি শাহরী শাবান- হাদীস নম্বর ২৬২৩)
সূতরাং মুসলিম শরীফ থেকেই প্রমাণ হলো পবিত্র শবে বরাতের রোজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা এই দিনে রোজা অস্বীকার করে তারা সহীহ হাদীছ শরীফ অস্বীকারকারী। এরাই মানুষরূপী ইবলিশ। তারা চায় না মুসলমান উনারা বিশেষ দিন সমূহের আমল করে রহমত বরকত হাছিল করুক। নাউযুবিল্লাহ।

সালাফী মুরুব্বী আত তুয়াইজিরীর কিতাবে শবে বরাতের আমলের কথা রয়েছে, আমরা করলে বিরোধীতা কেন?

সালাফীদের বর্তমান সময়কার অন্যতম মুরুব্বী মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম আত তুয়াইজিরী। নামাজ নিয়ে সে একটা বই লিখেছে। বইটা বাংলাদেশে “রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্র্যাকটিক্যাল নামায” নামে অনুুদিতও হয়েছে। যার সম্পাদনা করেছে সালাফীদের আরেক মুরুব্বী আব্দুর রাজ্জাক সালাফী। 
এই বইয়ের ২৮২ থেকে শুরু করে ২৮৫ পৃষ্ঠা পর্যন্ত শবে বারত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 
মজার কথা হচ্ছে বর্তমান সময়ের সালাফীরা শবে বরাত রাতের কোন আমল স্বীকার করে না। কিন্তু উক্ত বইয়ের ২৮৪ পৃষ্ঠায় ‘এ রাতের করনীয় কাজ’ শিরোনামে রাতের আমল গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। (যা স্কিনশট আকারে দেয়া হলো)




উক্ত অংশ থেকে যা প্রমাণিত হয়,
১) এ রাতের ফযীলত হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
২) নফল নামাজ পড়তে হবে।
৩) কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করতে হবে।
৪) যিকির আযকার করতে হবে।
৫) তসবীহ তাহলীল করতে হবে।
৬) দরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে।
৭) পিতা মাতা, আত্মীয়স্বজন , মুসলমান যারা ইন্তেকাল করেছে তাদের ও গোটা বিশ্বের মানুষের নাযাতের জন্য দোয়া করতে হবে।
৮) এছাড়া বিভিন্ন লিসানী ও কায়িক ইবাদতে মশগুল থাকতে হবে।
৯) অভাবী বিপদগ্রস্থ, রোগাগ্রস্থ মানুষের সেবা করতে হবে।
১০) আর্থিক খরচের মাধ্যমেও ইবাদত করতে হবে।


আমরাও এই রাতে এসব করি, তাহলে আমাদের আমলকে বিদয়াত বলে গলাবাজি করা হয় কেন?

বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০১৭

পবিত্র শবে বরাত রাতে করণীয় আমলসমূহ

শবে বরাতের আমল
পবিত্র বরাত রাতে খাছভাবে ইবাদত-বন্দেগী, দোয়া-ইস্তিগফার ও দিনে রোযা রাখা ইত্যাদির নির্দেশ মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ-এ রয়েছে। পবিত্র শবে বরাতে কোন্ কোন্ ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে তা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ-এ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি। তবে ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

রবিবার, ৭ মে, ২০১৭

রেজাল শাস্ত্রের কিতাব ছাড়াও উইকিপিডিয়া সূত্রমতে শবে বরাতের হাদীস শরীফ সহীহ


হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন অর্ধ শা’বান তথা শবে বরাতের আগমন ঘটে তখন ওই রাতে তোমরা ইবাদত-বন্দেগী করে জাগ্রত থাকবে এবং দিবাভাগে রোযা রাখবে। কেননা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ওই শবে বরাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথেই নিকটবর্তী আকাশে নাযিল হন এবং বলতে থাকেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি অপরিমিত রিযিক দিয়ে দিব এবং কোন বিপদে বিপন্ন ব্যক্তি আছ কি? যাকে আমি বিপদ থেকে মুক্ত করে দিব। সাবধান! সাবধান! এভাবেই মহান আল্লাহ পাক ফজর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ ১/১৪৪: হাদীস ১৩৮৮, ইবনে হিব্বান: হাদীস ১৩৮৮, বায়হাকী শুয়াবুল ঈমনি ৫/৪৫৪: হাদীস ৩৮২২, মিশকাতুল মাসাবীহ ২/২৪৫ : হাদীস ১২৩৩, দায়লামী শরীফ ১/২৫৯: হাদীস ১০০৭, তারগীভ ওয়াত তারহীব ২/৭৫: হাদীস ১৫৫, বায়হাক্বী – ফযায়েলে ওয়াক্ত ১/১২২ : হাদীস ২৪, জামেউস সগীল লি সুয়ুতী : হাদীষ ১৬৬৫, মিসবাহুল জুজাহ : হাদীস ৪৯১, কানযুল উম্মাল ১২/৩১৪ : ৩৫১৭৭, উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ১১/৮২, মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়াহ ৩/৩০০, মিরকাত ৩য় খ-, ১৯৫-১৯৬, মিরয়াতুল মানাজিহ ৩য় খ- ২৯৩-২৯৪-২৯৫, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত ৪/২১২)
সালাফীরা এই হাদীছ শরীফ মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য এই হাদীছ শরীফের একজন রাবী রয়েছে যার নাম “হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি”। উনাকে সালাফীরা মানে না। যে কারনে হাদীছ শরীফটি তারা জাল বলে। অথচ ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহির বিখ্যাত কিতাব সিয়ারু আলামীন নুবালা, মিযানুল এতেদাল .... হযরত ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহির তাহযীবুত তাহযীব কিতাবে উনাকে অনেক বড় ফক্বীহ বলেছেন, সেই সাথে ইরাকের কাজী হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মদীনা শরীফের মুফতী বলে আখ্যায়িত করেছেন। (সিয়ারু আলামীন নুবালা ১৩/৩৭৪)
মজার বিষয় উইকিপিডিয়াতেও উনার সম্পর্কে তথ্য দেয়া হয়েছে, যেটার স্কিনশট দেয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে,
الفقيه الكبير قاضي العراق. قال أبو داود: كان مفتي أهل المدينة. وروى معن عن مالك بن أنس قال: "قال لي أبو جعفر المنصور: يا مالك من بقي بالمدينة من المشيخة؟ قلت: ابن أبي ذئب، وابن أبي سبرة، وابن أبي سلمة الماجشون
অর্থ: তিনি ছিলেন বড় ফক্বীহ, ইরাকের কাজী। ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন তিনি মদীনা শরীফের মুফতী ছিলেন। ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো মদীনা শরীফের মাশায়েখদের মধ্যে কে কে জীবত আছেন? উত্তরে ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন ইবনু আবী জীব, ইবনে আবী সাবরাহ, ইবনু আবী সালমাহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম।  উইকিপিডিয়া সূত্র
দেখা যাচ্ছে ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে ইবনু আবী সাবরাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি মদীনা শরীফের জীবিত মাশায়েখদের মধ্যে অন্যতম। 

এতবড় একজন বিখ্যাত আলেম ও ব্যাক্তিত্বকে কোন সাহসে সালাফীরা ইনকার করে???

শবে বরাত সম্পর্কে হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীছ একদম সহীহ


পবিত্র শবে বরাত প্রসঙ্গে অসংখ্য সহীহ হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে। এত ব্যাপক সংখ্যক বর্ণনার ফলে লা’মাযহাবীদের গুরুরাও হাদীস শরীফ গুলোকে সহীহ বলতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও কিছু কুয়োর ব্যাঙ সালাফী, হাদীস শরীফ সর্ম্পেকে অজ্ঞ হওয়ার করনে সহীহ হাদীস সমূহের বিরোধিতা করে। আসুন তাদের একটা বিরোধিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া যাক-
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
عن حضرت ابى موسى الاشعرى رضى الله تعالى عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله تعالى ليطلع فى ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه الا لمشرك او مشاحن رواه ابن ماجه ورواه احمد. عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضى الله تعالى عنه وفى رواية الا اثنين مشاحن وقاتل نفس.
অর্থ: “হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি হাবীবুল্লাহ হুযূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেছেন, অর্ধ শা’বানের রাত্রি তথা শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নাযিল হন এবং উনার সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন তবে মুশরিক এবং বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করেন না। কিন্তু হযরত ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এটাকে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। আর উনার অপর এক রেওওয়ায়েত রয়েছে, দু’ব্যক্তি ব্যতীত। যথা- বিদ্বেষভাবাপন্ন ব্যক্তি এবং মানুষ হত্যাকারী ব্যতীত সকলকেই ক্ষমা করা হয়।” (ইবনে মাজাহ পৃষ্ঠা ১০১: হাদীস ১৩৯০, বায়হাকী শুয়াইবুল ঈমান ৩/৩৮২: হাদীস ৩৮৩৫, মিসবাহুল জুজাহ ১/৪৪২: হাদীস ৪৮৭, মিশকাতুল মাছাবীহ ১১৫ পৃষ্ঠা: হাদীস ১৩০৬, আত তাগরীব ওয়াত তারহীব ৪/২৪০, কানযুল উম্মাল ১২/৩১৫: হাদীস ৩৫১৮২, মাযমাউয যাওয়াইদ ৮/৬৫: হাদীস ১২৯৬০, জামেউস সগীর : হাদীস ২৭০০, ফাযায়েলে ওয়াক্ত লি বায়হাকী ১/১৩২: হাদীস ২৯, জামিউল মাসানিদ ওয়াল সুনান লি ইবনে কাছীর : হাদীস ১৩০৭৬)
উক্ত হাদীস শরীফের সনদ নিম্নরূপঃ
১) হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু- তিনি ছিলেন বিখ্যাত ফক্বীহ সাহাবী। 
২) হযরত দ্বাহাক বিন আব্দুর রহমান ইবনে আয়যব রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি বলেন, তিনি ছিলেন তৃতীয় তবকার ছেকাহ রাবী। এছাড়া তিনি একজন তাবেয়ীও ছিলেন। (তাহযীবুত তাহযীব ৪/৩৯২, মিযানুল ইতিদাল ২/৩২৪)
৩) হযরত দ্বাহাক বিন আয়মন রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি বলেন, তিনি অপরিচিত। (তাহযীবুত তাহযীব ৪/৪৮৯)
৪) হযরত ওলীদ বিন মসলিম আল কুরাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি- হযরত ইবনে সাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সর্ম্পেকে বলেন, তিনি হচ্ছেন নির্ভরযোগ্য এবং অধিক হাদীস শরীফ বর্ণনাকারী। (তাহযীবুত তাহযীব ১১/১৩৪)
৫) হযরত রাশেদ ইবনু সায়ীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি- উনার সর্ম্পেকে ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি বলেন, তিনি ছিলেন দশম তবকার ছিকাহ রাবী।” (তাহযীবুত তাহযীব ৩/১৯৬)

সালাফীরা উক্ত সনদের তৃতীয় বর্ণনাকারী হযরত দ্বাহাক বিন আয়মান রহমতুল্লাহি আলইহি উনার কারনে হাদীস শরীফকে অস্বীকার করতে চায়। এখানে ফিকিরের বিষয় হচ্ছে উক্ত রাবী ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি উনার কাছে অপরিচিত হলেও সিয়া সিত্তার ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে অপরিচিত ছিলেন না। ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিলাদত ২০৯ হিজরীতে আর রাবী ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি উনার বিলাদত ৮৫২ হিজরীতে। সূতরাং (৮৫২-২০৯)= ৬৪৩ বছর আগের ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে উক্ত রাবীর খবর ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি থেকে ভালো জানার কথা। সূতরাং উক্ত রাবীকে ঢালাও ভাবে মাজহুল বা অপরিচিত বলা মোটেও ঠিক হবে না।
উক্ত হাদীস শরীফ সর্ম্পেকে লা’মাযহাবীদের ইমাম মোবারকপুরী উল্লেখ করেছে,
رواه لبن ماجه من حديث ابي موسي الاشعري باسناد لا بأس به
ইমাম মুনযির রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উক্ত হাদীস শরীফ খানা ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন। উক্ত হাদীস শরীফের সনদটির মধ্যে কোন অসুবিধা নেই।” (তুহফাতুল আহওয়াজী ৩/৪৪১)
তাছাড়া উক্ত হাদীস শরীফ কমপক্ষে ১০ টা সনদে বর্ণিত হয়েছে। যা হাদীস শরীফকে শাহেদ হাদীস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আহলে হাদীস লা’মাযহাবীদের অন্যতম পুজনীয় নাসির উদ্দীন আলবানী উক্ত হাদীস শরীফ সর্ম্পেকে বলেছে,
ورواه ابن ماجه بلفظه من حديث أبي مويي الاشعري : صحيح لغيره 
হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক বর্ণিত হযরত আবু মুসা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে বর্ণিত হাদীস শরীফ খানা সহীহ লি গাইরিহী। (দলীলঃ সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩ খন্ড: হাদীস ২৭৬৮)
এবার আসুন সহীহ লিগাইরিহী কাকে বলে জেনে নিই,-

ছহীহ লিগাইরিহীঃ এটা হাসান লিযাতিহী হাদীছ শরীফরে অনুরূপ। ছহীহ হাদীছ শরীফ-এর কোন রাবীর মধ্যে স্বরণ শক্তি কছিুটা কম থাকে। তবে সইে অভাব বা ত্রুটিটুকু অন্যান্য উপায়ে এবং অধকি রওিয়ায়তে দ্বারা পুরণ হয়ে যায়। মোট কথা, উহার সমর্থনে বহু রিওয়ায়েত বর্ণিত থাকায় তাহার ত্রুটি ক্ষতপিুরণ হয়ে গেছে। এরূপ হাদীছ শরীফকে ছহীহ লিগাইরিহী। (তাদরীবুর রাবী, মিজানুল আখবার)

লা’মাযহাবীদের গুরুরাই উক্ত হাদীস শরীফকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে সনদে কোন অসুবিধা নেই তাহলে এখন কুয়ার ব্যং লা’মাযহাবীরা কোন সাহসে এই হাদীস শরীফের বিরোধিতা করে ?

বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০১৭

শবে বরাতের হাদীস শরীফ একদম সহীহ এ বিষয়ে সবাই একমত

সহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা শবে বরাত প্রমাণিত। রেজালবিদগন সনদ সহীহ হওয়ার ব্যাপারে একমত। বিশ্ব বিখ্যাত হাদীছ শরীফের কিতাব “ইবনে হিব্বানে” সহীহ সনদ সহ বর্ণনা করেছেন, 




أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعَافَى الْعَابِدُ بِصَيْدَا ، وَابْنُ قُتَيْبَةَ وَغَيْرُهُ ، قَالُوا : حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْرَقُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو خُلَيْدٍ عُتْبَةُ بْنُ حَمَّادٍ ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ ، وَابْنِ ثَوْبَانَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ مَكْحُولٍ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يَطْلُعُ اللَّهُ إِلَى خَلْقِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلاَّ لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ

অর্থ: হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, মধ্য শাবানের রাতে মহান আল্লাহ পাক রহমতের ভান্ডার নিয়ে সকল সৃষ্টির প্রতি বিশেষ ভূমিকায় অবর্তীণ হন এবং মুশরিক অথবা হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (দলীল: সুনানে ইবনে হিব্বান- হাদীস ৫৬৩৬, মুজামুল কবীর লি তাবরানী ১৬৬৩৯, মুজামুল আওসাত লি তাবরানী ৬৭৭৬, সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৯০, শুয়াবুল ঈমান ৩৫৫২, হুলয়িতুল আওলিয়া ৫/১৯১)

পবিত্র এই হাদীছ শরীফ সম্পর্কে বিখ্যাত রিজাল বিশারদ আল্লামা হযরত নূরউদ্দীন ইবনে হাজার হায়ছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত কিতাব “মাযমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ” কিতাবে বলেছেন,





وعن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
"يطلع الله إلى جميع خلقه ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه، إلا لمشرك، أو مشاحن".
رواه الطبراني في الكبير والأوسط ورجالهما ثقات


হাদীস শরীফখানা উল্লেখ করে বলেছেন, “ইমাম তাবরানী উনার মুজামুল কবীর ও আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাদীস শরীফের সকল রাবী সেকাহ। (মাযমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ ৬/১২৬ : হাদীছ নম্বর ১২৯৬০)

বিখ্যাত ইমাম হযরত মুনযিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আত তারগীব ওয়াত তারহীব” গ্রন্থে উক্ত হাদীছ উল্লেখ পূর্বক বলেছেন,





ইমাম হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সহীহ হিসাবে উনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন। (আত তারগীব ওয়াত তারহীব – হাদীছ নম্বর ১৫৪৪)

ইমাম মুনযিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উক্ত গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন এই কিতাবে যে হাদীছ শরীফ “ওয়া আন” দ্বারা শুরু সেকল হাদীছ শরীফ সমূহ সনদ সহীহ। উক্ত হাদীছ শরীফখানা তিনি ওয়া আন দিয়েই শুরু করেছেন।

বর্তমানে যারা শবে বরাত অস্বীকার করে তাদের মূল গুরু  সালাফী লা’মাযহাবীদের অন্যতম ইমাম, নাছির উদ্দীন আলবানী তার “সিলসিলাতু আহাদীসি আস সহীহা” কিতাবে পবিত্র শবে বরাতের হাদীস শরীফকে সহীহ বলে উল্লেখ করে লিখেছে,  




حديث صحيح ، روي عن جماعة من الصحابة من طرق مختلفة يشد بعضها بعضا و هم معاذ
ابن جبل و أبو ثعلبة الخشني و عبد الله بن عمرو و أبي موسى الأشعري و أبي هريرة
و أبي بكر الصديق و عوف ابن مالك و عائشة .
أما حديث معاذ فيرويه مكحول عن مالك بن يخامر عنه مرفوعا به

হাদীসটি সহীহ। কেননা একদল সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বিভিন্ন সূত্রে নিসফে শাবানের মর্যদা ওপর একাধিক হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে। বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারনে হাদীস শরীফটি মজবুতি লাভ করেছে। যে সকল সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শরীফ বর্ণিত আছে উনারা হলেন, হযরত মু'আয ইবনে জাবাল রদ্বিয়াল্লাহু আনহু , হযরত আবু সালাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবু মূসা আল আশ'আরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু , হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আউফ বিন মালেক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু, হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা। এছাড়াও অনেক আকাবীর সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুগন হাদীস শরীফ বর্ণনা করেরন। (দলীল: সিলসিলাতু আহাদীসি আস সহীহা ৩য় খন্ড ১৩৫ পৃষ্ঠা: হাদীস নম্বর ১১৪৪ , মূল কিতাবের স্ক্যন কপি দেয়া হলো)

সূতরাং প্রমাণ হলো উক্ত হাদীছ শরীফ সহীহ। এখান যারা এমন সহীহ হাদীছ শরীফ অস্বীকার করবে এবং শবে বরাতের বিরোধীতা করবে তাদের জন্য বলতে হবে উক্ত হাদীছ শরীফেই তাদের ফয়সালা বলা আছে। তারা হচ্ছে মুশরিক অথবা হিংসুক। এদের নছীবে শবে বরাত জুটবে না।

শবে বরাতের পক্ষে সালাফীদের অন্যতম মুরুব্বী মুহম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিনের ফতোয়া

সালাফীদের অন্যতম মুরুব্বী মুহম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন শবে বরাতের পক্ষে ফতোয়া দিয়েছে।


ومن هذا الباب ليلة النصف من شعبان روي في فضلها أحاديث ومن السلف من يخصها بالقيام ومن العلماء من السلف وغيرهم من أنكر فضلها وطعن في الأحاديث الواردة فيها، لكن الذي عليه كثير من أهل العلم أو أكثرهم على تفضيلها
অর্থ: মূল কথা শবে বরাতের ফযিলতের ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে। তবে কেউ শবে বরাতের ফযিলতের ব্যাপারে হাদীছ শরীফকে অস্বীকার করেছে (ওহাবীরা)। আর অধিকাংশ আলেম পবিত্র শবে বরাতের ফযিলতকে স্বীকার করেছেন। (মজমুয়ায়ে ফতোয়া ওয়া রাসায়েল ইবনে উসাইমিন ৭ম খন্ড ২০৫ পৃষ্ঠা)
উপরোক্ত ফতোয়া থেকে জানা গেলো,
১) পবিত্র শবে বরাতের ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীছ আছে।
২) অধিকাংশ (সকল) উলামায়ে কিরাম পবিত্র শবে বরাতের ফযিলত স্বীকার করেছেন।
যারা ফযিলত অস্বীকার করেছে তারা অধিকাংশ উলামায়ে কিরামের বিরোধীতা করেছে, সেকারনে যারা শবে বরাত অস্বীকার করেছে তাদের ভিত্তিহীন দাবি গ্রহনযোগ্য নয়। 
সূতরাং যেহেতু পবিত্র শবে বরাত সর্ম্পকে সহীহ হাদীছ শরীফ রয়েছে, আর উলামায়ে কিরাম শবে বরাতের ফযিলতের বিষয়ে আমল করেছেন তাই সকলের উচিত শবে বরাতের ফযিলত হাসিল করা। ইবাদত বন্দেগী করে আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করা

মক্কা শরীফে মসজিদুল হারাম শরীফে শবে বরাতে সারা রাত ইবাদত বন্দেগী হতো


মুহম্মদ ইবনে ইসহাক আল মক্কী আল ফাকেহী রহমতুল্লাহি অালাইহি (ওফাত ২৭২) মক্কা মদীনায় যে শবে বরাত পালন হতো তা তদীয় আখবারে মক্কা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:

"وأهل مكة فيما مضى إلى اليوم إذا كان ليلة النصف من شعبان ، خرج عامة الرجال والنساء إلى المسجد ، فصلوا ، وطافوا ، وأحيوا ليلتهم حتى الصباح بالقراءة في المسجد الحرام ، حتى يختموا القرآن كله ، ويصلوا ، ومن صلى منهم تلك الليلة مائة ركعة يقرأ في كل ركعة بـ الحمد ، و قل هو الله أحد عشر مرات ، وأخذوا من ماء زمزم تلك الليلة ، فشربوه ، واغتسلوا به ، وخبؤوه عندهم للمرضى ، يبتغون بذلك البركة في هذه الليلة ، ويروى فيه أحاديث كثيرة" (أخبار مكة للفاكهي أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن العباس المكي الفاكهي
অর্থ: অতীত থেকে বর্তমানকাল মক্কাবাসী নারী পুরুষগণ শা’বানের মধ্যবর্তী রাতে মসজিদে গমন করেন অতঃপর নামায আদায় করেন, তাওয়াফ করেন, মসজিদে হারামে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের মাধ্যমে সারা রাত জেগে থাকেন, এমনকি তারা পূর্ণ কুরআন শরীফ খতম করেন। আর যারা একশ রাকাআত নামায আদায় করেন তারা প্রত্যেক রাকাআতে সূরা ফাতিহার সাথে দশবার সূরা এখলাস তিলাওয়াত করেন। যমযমের পানি পান করেন, এর দ্বারা গোসল করেন এবং অসুস্থদের জন্য তা জমা করে রাখেন। এসব আমলের মাধ্যমে তারা উক্ত রাতের বরকত অন্বেষণ করে থাকেন। (আখবারে মক্কা ৩ খন্ড ৮৪ পৃষ্ঠা)

২৭২ হিজরীতে হযরত ইমাম ফাকেহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ওফাত সন। অর্থাৎ তিনি নববী যুগের অনেক কাছের একজন মানুষ। তিনি বর্ণনা করছেন অতীত থেকে বর্তমানকাল পর্যন্ত মক্কা শরীফের নারী পুরষগন শবে বরাত পালন করতেন অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে এই আমল চলে আসছে। শুধু তাই নয় পবিত্র মসজিদে হারাম শরীফেও এ রাতে ইবাদত হতো। 

বাতিলদের কাছে প্রশ্ন যদি এই আমল বিদয়াত হতো তাহলে সেই সোনালী যুগে কেউ এই আমলে বিরোধীতা করেছে কি? 
তাহলে আজ ১৪০০ বছর পর এসে কারা এর বিরোধীতা করছে? কারা বিরোধীতা করে নব্য মতবাদ প্রচার করছে? যারা শবে বরাতের বিরোধী তারা বিদয়াতি তার নব্য শয়তান। তারা চায় না মানুষ নেক আমল করে বিশেষ রাতে রহমত লাভ করুক।

বুধবার, ৩ মে, ২০১৭

ইবনে তাইমিয়ার ‘মজমুয়ায়ে ফতোয়া’ থেকে শবে বরাতের আমলের দলীল


সালাফীদের মূল গুরু ইবনে তাইমিয়াও শবে বরাতের ফযীলত ও রাতের আমল স্বীকার করেছে। অথচ উত্তসূরি বর্তমান সালাফীরা শবে বরাতের বিরোধীতায় দিনরাত মশগুল।
আসুন দেখা যাক ইবনে তাইমিয়া তার ‘মাজমুয়ায়ে ফতোয়া’ কিতাবে শবে বরাত বিষয়ে কি বলেছে,
وَأَمَّا لَيْلَةُ النِّصْفِ فَقَدْ رُوِيَ فِي فَضْلِهَا أَحَادِيثُ وَآثَارٌ وَنُقِلَ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْ السَّلَفِ أَنَّهُمْ كَانُوا يُصَلُّونَ فِيهَا
অর্থ: মূলকথা শবে বরাতের মর্যাদা হাদীস শরীফ দ্বারা সাব্যস্ত আছে। এ রাতের নামাজের ব্যাপারে অনেক ফযীলত বর্ণিত আছে। সলফে সালেহীনগন এ রাতে নামায আদায় করতেন।”
(দলীল: মজমুয়ায়ে ফতোয়া ২৩ তম খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা)


ইবনে তাইমিয়ার কিতাব থেকে যা বোঝা গেলো,
১) শবে বরাতের অস্তিত্ব আছে।
২) শবে বরাত হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
৩) এ রাত জেগে নামাজ বা ইবাদত করার অনেক ফযিলত রয়েছে।
৪) সলফে সালেহীনগন এ রাতে ইবাদত বন্দেগী করতেন।



সূতরাং যারা শবে বরাত অস্বীকার কারী তারা মূলত সলফে সালেফীনদের পথতো বটেই নিজেদের গুরু ইবনে তাইমিয়ার পথ থেকেও খারীজ।

শবে বরাতের আমল সম্পর্কে ইবনে মাজাহ শরীফের হাদীস নিয়ে সালাফীদের আপত্তির জবাব


শবে বরাত বা লাইলাতুন নিছফী মিন শাবান এর বিরোধীতা করতে আহলে হদস বা লা’মাযহাবীরা যে হাদীস শরীফের বিরোধীতা করে সেটা নিয়ে আজ আলোকপাত করবো। অকাট্য দলীল দ্বারা শবে বরাতের ফযীলত উপস্থাপিত হবে ইনশা আল্লাহ।

“মিশকাত শরীফ”-এর ১১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
عن حضرت على رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا فيقول الا من مستغفر فاغفرله الا من مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا الا كذا حتى يطلع الفجر. رواه ابن ماجه.

অর্থ: “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন অর্ধ শা’বান তথা শবে বরাতের আগমন ঘটে তখন ওই রাতে তোমরা ইবাদত-বন্দেগী করে জাগ্রত থাকবে এবং দিবাভাগে রোযা রাখবে। কেননা, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ওই শবে বরাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথেই নিকটবর্তী আকাশে নাযিল হন এবং বলতে থাকেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? যাকে আমি অপরিমিত রিযিক দিয়ে দিব এবং কোন বিপদে বিপন্ন ব্যক্তি আছ কি? যাকে আমি বিপদ থেকে মুক্ত করে দিব। সাবধান! সাবধান! এভাবেই মহান আল্লাহ পাক ফজর পর্যন্ত ডাকতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ ১/১৪৪: হাদীস ১৩৮৮, ইবনে হিব্বান: হাদীস ১৩৮৮, বায়হাকী শুয়াবুল ঈমনি ৫/৪৫৪: হাদীস ৩৮২২, মিশকাতুল মাসাবীহ ২/২৪৫ : হাদীস ১২৩৩, দায়লামী শরীফ ১/২৫৯: হাদীস ১০০৭, তারগীভ ওয়াত তারহীব ২/৭৫: হাদীস ১৫৫, বায়হাক্বী – ফযায়েলে ওয়াক্ত ১/১২২ : হাদীস ২৪, জামেউস সগীল লি সুয়ুতী : হাদীষ ১৬৬৫,  মিসবাহুল জুজাহ : হাদীস ৪৯১, কানযুল উম্মাল ১২/৩১৪ : ৩৫১৭৭,  উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী ১১/৮২, মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়াহ ৩/৩০০,  মিরকাত ৩য় খ-, ১৯৫-১৯৬, মিরয়াতুল মানাজিহ ৩য় খ- ২৯৩-২৯৪-২৯৫, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত ৪/২১২)

উক্ত হাদীস শরীফের রাবীগন হচ্ছেন:

১) খলীফাতুল মুসলিমিন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু: জলীল ক্বদর সাহাবী।
২) হযরত মুয়াবিয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহ বলেন, তিনি বিশ্বস্ত রাবীদের অর্ন্তভুক্ত ছিলেন, এবং নির্ভরযোগ্য ছিলেন। (তাহযীবুত তাহযীব ২/১৯৬)
৩) হযরত ইব্রাহিম বিন মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। (মিযানুল এতেদাল)
৪) হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দ্বয়ীফ বলেছেন। ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মাতরুক বলেছেন। কিন্তু ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বড় ফক্বীহ ও ইরাকের কাজী বলে উল্লেখ করেছেন। (মিযানুল এতেদাল ৪/৫০৩) সিয়া সিত্তার অন্যতম ইমাম হযরত আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি মদীনা শরীফের মুফতী ছিলেন। (তাহযীবুত যাহযীব ১২/২৭, মিযানুল এতেদাল ৪/৪৬১)
৫) আব্দুর রাজ্জাক ইবনু হাম্মাম ইবনে নাফে রহমতুল্লাহি আলাইহি- ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে হাদীস শরীফের বড় নির্ভরযোগ্য রাবী বলেছেন। (তাজকিরাতুল হুফফাজ ১/৩৬৪)
৬) হযরত হাসান বিল আলী আল খালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি- হযরত খতীব বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং হাফিজে হাদীস ছিলেন। (তারীখে বাগদাদ ৭/৪২৫) হযরত ইবনে হাজর আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য এবং হাফিজে হাদীস ছিলেন। (তাহজীবুত তাহজীব ২/৩০২)


উক্ত হাদীস শরীফে সালাফীদের আপত্তি হচ্ছে চতুর্থ রাবী হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নিয়ে। হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কিন্তু য্যথাক্রমে কাজী, ফকীহ এবং মুফতী ছিলেন। সালাফীদের আপত্তির প্রেক্ষিতে বিষয়গুলো পর্যালোচনা না করলেই নয়। মুসলমান শাষন আমলে একজন ক্বাজী হওয়ার যোগ্যতা সে বিষয়ে না বললেই না। একজন ক্বাজীর প্রধান বৈশিষ্ঠই হচ্ছে সর্বোচ্চ তাক্বওয়া। সেই সাথে কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা কিয়াস সর্ম্পকে অগাধ জ্ঞান। যিনি কাজী তিনি অবশ্যই আদীল বা চরম ন্যায়পরায়ন হবেন। শুধু তাই না একজন কাজীর কুরআন শরীফের ৬৬৬৬ টি আয়াত শরীফের আদেশ সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ , নিষেধ সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, ওয়াদা সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, ভীতি সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, ঘটনা সূচক ১০০০ আয়াত শরীফ, উপদেশ মূলক ১০০০ আয়াত শরীফ, হালাল সূচক ২৫০ টা আয়াত শরীফ, হারাম বিষয়ে ২৫০ টা আয়াত শরীফ, তাজবীহ সংক্রান্ত ১০০ টি আয়াত শরীফ, বিবিধ বিষয়ে ৬৬ টি আয়াত শরীফ এর প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা হুকুম সর্ম্পকে পূর্ণরূপে অবহিত থাকতে হবে। এবং কয়েক হাজার হাদীস শরীফের হাফিজ হবেন। এবং প্রতিটা বিষয়ে অত্যান্ত সত্যবাদী হবেন। যেহেতু তিনি বিচারক সেহেতু উনার যোগ্যতার মাপকাঠি সহজেই অনুমেয়। (দলীলঃ সমূহ ফিক্বহের কিতাব) সহজেই বোঝা যাচ্ছে একজন কাজী মাতরূক বা পরিত্যজ্য ব্যাক্তি হতে পারেন না। তাহলে ৭০ হাজার হাদীসের হাফিজ ( মিযানুল এতেদাল ৪/৪৬১) এবং একজন ক্বাজী হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি যে রাবী হিসাবে সিকাহ সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ রইলো না। 
হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শুধু ক্বাজীই ছিলেন না তিনি ছিলেন ফকীহ। (মিযানুল এতেদাল ৪/৫০৩)

একজন ফক্বীহর যোগ্যতা সর্ম্পকে ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীকত হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বক্তব্যটাই যথেষ্ঠ, 
 *انما الفقيه الزاهد فى الد نيا الراغب فى الا خرة البصير بذنبه المدائم على عبادة ربه الورع الكف عن اعراض المسلمين العفيف عن اموالهم النا صح لجماعتهم.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই ফক্বীহ (হাক্বীক্বী আলিম) ঐ ব্যক্তি যিনি দুনিয়া থেকে বিরাগ, আখিরাতের দিকে ঝুকে রয়েছেন, গুণাহ থেকে সতর্ক, সর্বদা ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল, পরহিযগার, মুসলমানদের মান-সম্ভ্রম নষ্ট করেন না, তাদের সম্পদের প্রতি লোভ করেন না এবং অধীনস্থ লোকদেরকে নছীহত করেন। (তাফসীরে কবীর)
সূতরাং ফক্বীহ হিসাবে হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি কেমন ব্যাক্তিত্ব ছিলেন নতুন করে বলার অবকাশই রাখে না। 
এছাড়ও হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সর্ম্পকে বিখ্যাত ইমাম হযরত আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি মদীনা শরীফের মুফতী ছিলেন। (তাহযীবুত যাহযীব ১২/২৭, মিযানুল এতেদাল ৪/৪৬১)
আর একজন মুফতী বা ফতোয়াদান কারীর বৈশিষ্ঠ সর্ম্পকে হাফিজে হাদীস হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমতুল্লাহি আলাইহ , ফতোয়াদানকারী বা মুফতীকে অবশ্যই ইলমে লাদুন্নী বা খোদায়ী প্রদত্ত জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। (আল ইতকান ফি উলুমিল কুরআন)
সূতরাং সহজেই বলা যায় হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বিশেষ গুনাবলীর অধিকারী ছিলেন। আর মদীনা শরীফের একজন মুফতীর কি পরিমান যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন সেটা আক্বল সম্পন্ন ব্যাক্তি মাত্রই বুঝতে পারার কথা।
তাই রাবী হিসাবে উনাকে মাতরূক বলার আগে অবশ্যই হুশিয়ার হতে হবে। হযরত ইবনু আবি সাবরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মোটেও মাতরূক ছিলেন না। তিনি একজন যোগ্য হাদীস বিশারদ ও সেইসাথে ক্বাজী, ফক্বীহ ও মুফতী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের কিতাবে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি হল ঃ
عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ينزل ربنا تبارك وتعالى في كل ليلة إلى سماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر فيقول من يدعوني فأستجيب له ومن يسألني فأعطيه ومن يستغفرني فأغفرله. (أخرجه البخاري ومسلم) 
অর্থ ঃ আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন , আমাদের রব তা‘আলা প্রতি রাতের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন ও বলতে থাকেন, কে আছ আমার কাছে দু‘আ করবে আমি কবুল করব। কে আছ আমার কাছে চাইবে আমি দান করব। কে আছ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারী শরীফ: হাদীস ১০৯৪, মুসলিম শরীফ : হাদীস ১৮০৮)

সূতরাং বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের হাদীস শরীফ দ্বারা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত শবে বরাতের হাদীস শরীফখানাও সমর্থন পেলো। অতএব বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের হাদীস শরীফ দ্বারা শবে বরাতের হাদীস শরীফ শক্তিশালী হলো।

এ ছাড়া মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ৭/৪১২ এ উল্লেখ আছে , “এ হাদীস শরীফের সমর্থনে শাহেদ হাদীস বিদ্যমান। ফলে হাদীস শরীফটির মৌলিকত¦ স্বীকৃত। ”
এছাড়াও এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার অন্যতম বিশুদ্ধ হাদীছ গ্রন্থ সিয়া সিত্তার অন্যতম কিতাব “ইবনে মাজাহ শরীফ” শরীফ উনার মধ্যে অর্ধ শা’বানের তথা শবে বরাত সম্পর্কে একটি বাবও আনা হয়েছে। যেমন, “ইবনে মাজাহ শরীফ”-এর ১০০ পৃষ্ঠায় বাবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে,
باب ماجاء فى ليلة النصف من شعبان
এখন কথা হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান বা শবে বরাতের যদি অস্তিত্বই না থাকতো তবে হযরত ইমাম ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় রচনা করলেন কেন ? এবং সে বাবে এই হাদীস শরীফ বর্ণনা করলেন কেন? হাফিজে হাদীস ইমাম হযরত ইবনে মাজাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কি সালাফীদের চাইতে হাদীস কম বুঝতেন ? নাউযুবিল্লাহ।


ইবনে মাজাহ শরীফ বিশ্লেষনে অনেক ইমাম অনেক মতামত ও চুচেরা বিশ্লেষন করেছেন। কিন্তু কেউই উক্ত হাদীস শরীফ এর ব্যাপারে জাল বা মওজু বলেন নাই। সূতারাং অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমান হলো শবে বরাত সম্পর্কে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীস শরীফ খানা সহীহ। এবং সালাফীদের সকল আপত্তির উপশমও হবে আশাকরি।