তারাবীহর নামায লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তারাবীহর নামায লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১ জুন, ২০১৮

লা’মাযহাবীরা ৮ রাকাত তারাবী প্রমাণ করতে দ্বয়ীফ ও অগ্রহনযোগ্য সনদে বর্ণিত হাদীছকেও ছহীহ বলতে লজ্জিত হয় না


লা’মাযহাবীরা ৮ রাকাত তারাবী প্রমাণ করতে দ্বয়ীফ ও অগ্রহনযোগ্য সনদে বর্ণিত হাদীছকেও ছহীহ বলতে লজ্জিত হয় না। 
তারা ইবনে হিব্বান থেকে একটা হাদীছ শরীফ পেশ করে,

عن جابر رضى الله عنه قال- صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى رمضان ليلة ثمان ركعة والوتر
অর্থঃ- হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রমযান মাসে রাত্রে আট রাকায়াত নামায পড়েছেন এবং বিত্র নামায আলাদা আদায় করেছেন। (ইবনে হিব্বান ২৪০৯)


কয়েকটি কারণে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত উক্ত হাদীছ শরীফখানা আট রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের পক্ষে দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রথম কারণ, মুহাদ্দিসগণ উনাদের মতে উক্ত হাদীছ শরীফখানা জঈফ বলে প্রমাণিত। ঊননা উক্ত হাদীছ শরীফের তিনজন রাবী জঈফ বলে প্রমাণিত হয়েছেন।

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর একজন রাবী হলেন- 
ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ্ কুম্মী। উনার প্রসঙ্গে হযর ইমাম দারে কুৎনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন(وهو ليس بالقوى) অর্থাৎ তিনি শক্তিশালী রাবী নন (বরং দূর্বল) (তাহযীবুল কামাল ৩২/৩৪৭/৭০৯৩) ।

উক্ত হাদীছ শরীফের আরেকজন রাবী আছেন যার নাম - 
ঈসা ইবনে জারিয়া, তিনিও জঈফ রাবী। ওনার প্রসঙ্গে সহীহ ইবনে হিব্বানের টীকায় (যা চিত্রে চিহিৃত) বলা হয় যে,


عيسى بن جارية ضعيف ، قال ابن معين: عنده مناكير، وقال النسائى : منكر الحديثوجاء عنه : متروك، وقال ابن عدي: احديثه غير محفوظة

ঈসা ইবনে জারিয়া দ্বয়ীফ। 
১। হযরত ইবনে মুঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, عنده مناكير  অর্থাৎ তার নিকট মুনকার হাদীছ রয়েছে।
২। হযরত ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, منكر الحديث  অর্থাৎ তিনি মুনকার হাদীছ বর্ণনাকারী।
৩। হযরত ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন, هو متروك الحديث অর্থাৎ তার হাদীছগুলো পরিত্যাজ্য।
৪। হযরত ইবনে আদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, احديثه غير محفوظة  হাদীছ শরীফ সমূহ সংরক্ষিত নয়।
৪। “মিযানুল ই’তিদাল” কিতাবে তাকে জঈফ রাবীদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।

এছাড়া ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ্ কুম্মী থেকে এই হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, মুহম্মদ ইবনে হুমাইদুর রাযী
মুহম্মদ ইবনে হুমাইদুর রাযী, যার সম্পর্কে কিতাবে নিম্নোক্ত মত পেশ করা হয়েছে-
১। হাফেজ যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, وهو ضعيف অর্থাৎ মুহম্মদ ইবনে হুমাইদুর রাযী জঈফ রাবী।
২। হযরত ইয়াকুব ইবনে শায়বা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, كثير المناكير অর্থাৎ তিনি অনেক মুনকার হাদীছ বর্ণনাকারী।
৩। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, فيه نظر অর্থাৎ উনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
৪। كذبه ابوزرعه অর্থাৎ হযরত ইমাম আবূ যুরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তিনি মিথ্যাবাদী।
৫। হযর ইমাম নাসাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ليس بثقة অর্থাৎ তিনি গ্রহণযোগ্য নন। (মিযানুল ই’তেদাল ৩/৫৩০/৭৪৫৩, তাহযীবুত তাহযীব ৯/১০৮/৬০৮১)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানার ৩ জন রাবীর উপরই জারাহ বা অভিযোগ রয়েছে। উছূলে হাদীছ অনুসারে যা ভয়ানক রকম দ্বীয়ফ বা দুর্বল। অথচ নিজেদের নফসানিয়াত রক্ষার্থে নাসিরুদ্দীণ আলবানী, আব্দুর রহমান মুবারকপুরী বাংলাদেশে কিছু অখ্যাত লা’মাযহাবীরা এই হাদীছকে নিলর্জ্জের মত সহীহ বলে বেড়াচ্ছে।

উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাদীছ শরীফখানার সনদ দ্বয়ীফ। আর তাছাড়া জাবির রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে ২০ রাকাত তারাবীর সহীহ সনদ রয়েছে (https://bit.ly/2GWQ4ko )কাজেই জঈফ হাদীছকে সহীহ্ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত বিশ রাকায়াত তারাবীহ্ নামাযের বিরুদ্ধে দলীল হিসাবে পেশ করা আহমকী ও জিহালত বৈ কিছুই নয়।

হযরত উমর ইবনে খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যামানায় রমাদ্বান মাসে ২০ রাকাত তারাবীর নামায পড়ার সহীহ দলীল


হযরত উমর ইবনে খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যামানায় রমাদ্বান মাসে ২০ রাকাত তারাবীর নামায পড়ার সহীহ দলীল


বিষয়ে সহীহ সনদে হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ، قَالَ : " كَانُوا يَقُومُونَ عَلَى عَهْدِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً

অর্থ: হযরত উমর ইবনে খত্তাব আলাইহিস সালাম উনার যামানায় রমাদ্বান মাসে মানুষেরা ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তো
(দলীল: মুসনাদে ইবনু জা
লেখক: হযরত আলী ইবনে জা রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্ম: ১৩৪ হিজরী , ওফাত ২৩০ হিজরী
লেখক পরিচয়: ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উস্তাদ
প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া; বৈরুত লেবানন)

উক্ত হাদীছ শরীফের সনদে মাত্র তিন জন রাবী আর প্রত্যেকে বুখারী শরীফের রাবী

একজন রাবী ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ থেকে বুখারী শরীফে ৫৫ টি হাদীছ শরীফ,
পরের রাবীيَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ   থেকে বুখারী শরীফে টি হাদীছ শরীফ,
আর বিখ্যাত সাহাবী السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ   সাহাবী উনার থেকে ১৯ টি হাদীছ শরীফ
আর কিতাবের লেখকعَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ    ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উস্তাদ এবং এই কিতাবে রচয়িতা উনার থেকে বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে ১৪ খানা হাদীছ শরীফ

এই হাদীছ শরীফের কিতাবখানা বুখারী শরীফের আগে রচিত প্রচীন নির্ভরযোগ্য একখানা কিতাব যেখানে স্পষ্ট ভাবে লিখিত আছে হযরত ফারুকে যম আলাইহিস সালাম উনার যামানায় ২০ রাকাত তারাবীহ পড়া হতো

ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কত রাকা’আত তারাবীহর নামায পড়েছেন?


লামাযহাবীদের দাবি বুখারী শরীফে তারাবীর নামায রাকাআত আছে তখন স্বাভাবিক ভাবেই জানতে ইচ্ছা করে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কত রাকাআত তারাবীহর নামায পড়েছেন


প্রসঙ্গে সহীহ সনদ সহকারে ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনীতে উল্লেখ আছে,
كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ: إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ يَجْتَمِعَ إِلَيْهِ أَصْحَابُهُ فَيُصَلِّي بِهِمْ، فَيَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ عِشْرِينَ آيَةً، وَكَذَلِكَ إِلَى أَنْ يَخْتِمَ الْقُرْآنَ
অর্থ: হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি রমাদ্বান মাসে রাতের প্রথম ভাগে উনার সঙ্গীদের জমা করতেন এবং তাদের নিয়ে (তারাবীহর) নামায পড়তেন সে নামাযে প্রতি রাকাআতে ২০ আয়াত পাঠ করতেন আর এভাবে পবিত্র কুরআন শরীফ খতম করতেন (দলীল: হাদীউস সারী মুকাদ্দিমায়ে ফতহুল বারী ৫০৫ পৃষ্ঠা, শুয়াবুল ঈমান বায়হাক্বী খন্ড ৫২৪ পৃষ্ঠা: হাদীছ ২০৫৮, ফতহুল বারী /৪৮১, তাগলীক্ব আত তালীক আলা সহীহুল বুখারী /৩৯৯, তাহযীবুল কামাল ২৪/৪৪৬, তারীখে বাগদাদ /১২, তবাকাতুস শাফিয়াতুল কুবরা /২২৪)

এবার এই বর্ণনা অনুযায়ী একটা অংক করা যাক আমরা দেখতে পেলাম,
) ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রতি রাকাতে ২০ আয়াত পড়তেন
) আর এভাবে তিনি কুরআন শরীফ খতম করতেন

মাস যদি ৩০ দিনে হয় আর তিনি যদি রাকাআত পড়েন তাহলে দাঁড়ায়-
তিনি প্রতিদিন পড়েন, (x২০) = ১৬০ আয়াত
৩০ দিনে পড়েন, (৩০x১৬০) = ৪৮০০ আয়াত শরীফ

আমরা জানি, কুরআন শরীফে আয়াত শরীফ আছে ৬৬৬৬ টি তাহলে রাকাআত করে তারাবীহ পড়লে ৪৮০০ আয়াত পড়া সম্ভব বাকি ১৮৬৬ টি আয়াত না পড়েই কি তিনি কুরআন শরীফ খতম দিতেন? আমরা দেখলাম তিনি প্রতি রাকাআতে ২০ আয়াত করে পাঠ করে কুরআন শরীফ খতম করতেন অথচ রাকাআত নামায পড়ে কষ্মিনকালেও কুরআন শরীফ খতম করা সম্ভব নয় সূতরাং প্রমাণ হলো স্বয়ং ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেও রাকাআত তারাবীহ পড়তেন না
অতএব যেসকল লামাযহাবীদের বুখারী শরীফের নাম বেঁচে খাওয়া এখানেও বন্ধ করা উচিত নইলে মানুষ তাদের মূর্খতার জন্য থুথু দিবে..........