ইসলামী আক্বীদা ও আমল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলামী আক্বীদা ও আমল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

তাওয়াক্কুল ছোঁয়াচে ও সেফটি ইকুইপমেন্টের সাথে কোরিলেশন তৈরী করা কি সম্ভব?


অনেকে প্রশ্ন করছেন মেনে নিলাম ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই। কিন্তু সর্তকতার জন্য সেফটি ইকুইপমেন্ট (মাষ্ক, গ্লাভস, পিপিই, হ্যান্ড সেনিটাইজার) ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবো না কেন?
নিজের দাবিকে পোক্ত করতে উনার দলীল হিসাবে হাদীছ শরীফও ও যুক্তিও দিচ্ছেন, "তোমরা উট বেঁধে তারপর তাওয়াক্কুল কর।” বা “মশা থেকে বাঁচার জন্যে মশারী কেন ব্যবহার করে মানুষ?

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরক



বর্তমান সময়ে করোনা নামক গজবকে কেন্দ্র করে মুসলমান নামধারী কিছু মানুষ ছোঁয়াচে রোগের কথা সমাজে খুব প্রচার করছে। এরা ছোঁয়াচে রোগের কথা বলে পবিত্র মসজিদে নামায বন্ধের মত কাজও করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। তাদের এই ঈমান ধ্বংসী ফতোয়াতে বিভ্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঈমান নষ্ট করছে। নাউযুবিল্লাহ। তাই মুসলমানদের এ বিষয়ে কি আক্বীদা থাকা দরকার সে বিষয়ে পবিত্র শরীয়ত কি বলে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হলো,

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯

হানাফী মাযহাবে আটার মূল্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর অকাট্য দলীল


সালাফী লা’মাযহাবীরা পবিত্র সদকাতুল ফিতর বিষয়ে হানাফী মাযহাবের বিরোধীতা করে। তারা বলে হানাফী মাযহাবে নাকি মনগড়া ফিতরার বিধান রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ। হানাফী মাযহাবে ফিতরার বিষয়ে সহীহ কোন হাদীছ শরীফ নাকি নাই। নাউযুবিল্লাহ। এছাড়া তাদের আপত্তি সমূহ নিম্নরূপ:

১) অর্ধ সা’ গম বা আটা দিয়ে ফিতরার কোন দলীল নেই।
২) টাকা দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে না সরাসরি খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে।
৩) স্থানীয় এলাকার ফসল দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, যেমন বাংলাদেশের জন্য চাউল।

বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯

পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখ পবিত্র মি’রাজ শরীফের আমল ও রোযার বিষয়ে বিরোধিতাকারীদের আপত্তির জবাব



লা’মাযহাবীরা  পবিত্র ২৭ রজব তথা পবিত্র মি’রাজ শরীফের রাতে ইবাদত ও দিনে রোযা রাখার বিরোধিতা করে। তারা বলে- সুন্নীদের কাছে নাকি ‘গুন্ইয়াতুত তালিবীন’ ও ‘মাছাবাতা বিস সুন্নাহ’ ছাড়া আর কোনো কিতাবের দলীল নেই। নাউযুবিল্লাহ! আজকে আমরা দেখবো ‘গুন্ইয়াতুত তালিবীন’ ছাড়াও আরো অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফের দলীল মওজুদ আছে। সুবহানাল্লাহ! যদিও ঈমানদারদের জন্য ‘গুন্ইয়াতুত তালিবীন’ কিতাবই আমলের দলীল হিসাবে যথেষ্ট।
প্রথমেই যে বিষয়টা জানা দরকার সেটা হচ্ছে- পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ কোনটি? সালাফী লা’মাযহাবীদের অন্যতম মান্য আল্লামা হযরত হাফিজ ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বিষয়ে বলেন,

أَنَّ الْإِسْرَاءَ كَانَ لَيْلَةَ السَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ رَجَبٍ.

অর্থ: অবশ্যই মি‘রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছে পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখ। (বেদায়া ওয়ান নিহায়া লি ইবনে কাছীর- ৩য় খন্ড ১৩৫ পৃষ্ঠা পৃ. দারু ইহ্য়িাউত তুরাস আল আরাবী, বয়রুত লেবানন)

হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরেকটি মশহুর কিতাব সিরাতুন নববীয়ার ২ খন্ড ৯৩ পৃষ্ঠাতেও এই বর্ণনা করেছেন।
পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফের কিতাব থেকে সনদসহ পবিত্র ২৭ রজব শরীফ বা মিরাজ শরীফের আমল ও রোযার পর্যালোচনা উল্লেখ করা হলো-

  أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيُّ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ بالطَّابِرانِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْهَيَّاجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ، وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ ثَلَاثٌ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ.

অর্থ: হজরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু  থেকে  বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, রজব মাসে এমন একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে, যিনি এদিন রোযা রাখবেন, আর রাত জেগে ইবাদত করবেন, তবে তিনি যেন ১০০ বছরের রোযা রাখলেন এবং ১০০ বছরের রাত জেগে ইবাদত করলেন, আর তা হচ্ছে পবিত্র রজব উনার ২৭ তারিখ। সুবহানাল্লাহ! (শোয়াবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী- বাবু তাকছিছু শাহরী রজব বিয যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৫পৃ, হাদিস-৩৫৩০, ফাদ্বায়িলুল আওকাত লিল বায়হাক্বী ১/৯৬, জামিউল আহাদীছ ১৪/৪৯৬: হাদীছ ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীছ ৩৫১৬৯,  জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড, নেদায়ে রাইয়ান ফি ফিক্বহিস সওমে ওয়া ফদলী রমাদ্বান ১/৪২১)

হাদীছ শরেীফের বিখ্যাত ইমাম হযরত বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সনদ সহকারে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন,
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ بِبُخَارَى، أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى وَهُوَ الْغُنْجَارُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: " فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ "

অর্থ: পবিত্র রজব মাসে একটি রাত আছে সে রাতের আমলকারীর সমস্ত আমলের ছওয়াব ১০০ গুণ করে লিপিবদ্ধ করা হয় সে রাতটি হলো পবিত্র ২৭শে রজব। যে ব্যক্তি ওই রাতে ১২ রাকায়াত নামায আদায় করবে যাতে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ সহ অন্য কোনো পবিত্র আয়াত শরীফ পাঠ করবে প্রতি দু’রাকায়াতে তাশাহুদ (পবিত্র দুরূদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরাসহ) পাঠ শেষে সালাম ফিরাবে। এবং নিম্নোক্ত দুআ ১০০ বার পাঠ করবে,
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ
অতপর ১০০ বার ইস্তেগফার পাঠ করবে অতপর ১০০ বার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। ওই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণকর যত দোয়া করবে এবং সকালে রোযাদার অবস্থায় অবস্থান করবে তার সকল দোয়াই কবুল করা হবে, শুধুমাত্র গুনাহের কাজের জন্য দোয়া ব্যতীত। সুবহানাল্লাহ। (শোয়াবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী- বাবু তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৬ পৃ, হাদিস-৩৫৩১, ফাদ্বায়িলুল আওকাত লিল বায়হাক্বী ১/৯৭ : হাদীছ ১২, তাবয়িনুল আযাব বিমা উরিদা ফি ফাদলি রজব ১/৩১, জামিউল আহাদীছ ১৪/৪৯৬ : হাদীছ ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীছ ৩৫১৭০, জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড বাবু হারফূ ফা, আসারুল মারফুয়া  ১/৬১ , তানযিয়াতু শরীয়াতিল মারফুয়া ২/৮৯)

সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুনা মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “গুন্ইয়াতুত তালিবীন” নামক কিতাবে পবিত্র শবে মি’রাজ তথা পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের রোযার ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফগুলো বর্ণনা করেছেন যার সমর্থন ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত জালালুদ্দীন সূয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের কিতাব থেকেও পাওয়া যায়,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ من صام يوم السابع والعشرين من رجب كتب له ثواب صيام ستين شهرا.
অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি রজবুল হারাম শরীফ মাসের ২৭ তারিখে দিবাভাগে রোযা রাখবে তার আমলনামায় ৬০ মাসের রোযা রাখার ছওয়াব লেখা হবে। সুবহানাল্লাহ! (আল ইতহাফ ৫ম খ- পৃষ্ঠা ২০৮, আল মা’য়ানী আনিল হামলিল ইসফার প্রথম খ- ৩৬৭ পৃষ্ঠা, গুনিয়াতুত্ তালিবীন, ক্বিসমুস্ ছায়ালিস ৩৩২ পৃষ্ঠা)

এ প্রসঙ্গে উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত আছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ سَلْمَانْ الفَارِسِىْ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ان فى رجب يوما و ليلة من صام ذالك اليوم وقام تلك اليلة كان له من الاجر كمن صام مأة سنة وقامهما وهى لثلاث بقين من رجب.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা উভয়েই বর্ণনা করেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসের এমন একটি দিন ও রাত আছে ওই রাত্রে যে ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিবাভাগে রোযা রাখবে তার আমলনামায় ওই পরিমাণ ছওয়াব লেখা হবে যে পরিমাণ ছওয়াব কোনো ব্যক্তি একশত বছর রাতে ইবাদত-বন্দেগী করলে এবং একশত বছর দিনের বেলায় রোযা রাখলে তার আমলনামায় যেরূপ ছওয়াব লেখা হয়। আর সেই  রাত ও দিনটিই হচ্ছে রজবুল হারাম শরীফ মাসের ২৭ তারিখ তথা পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফের রাত ও দিনটি।” সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং গুন্ইয়াতুত তালিবীন কিতাবে আছে কিন্তু অন্য কোনো হাদীছ শরীফের কিতাবে নেই বলে উড়িয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। গাউছুল আযম, সাইয়্যিদুনা মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহীহ হাদীছ শরীফে আছে বিধায় উনার কিতাবে বর্ণনা করেছেন। আর গাউছুল আযম সাইয়্যিদুনা বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমে হাদীছের ইলিম কত যে গভীর, সেটা বিরোধিতাকারীদের জানার কথা নয়। সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাগদাদের সেই বিখ্যাত ‘নিজামীয়া মাদরাসা’য় লিখা পড়া করেছেন। উনার সীরাত মুবারকে বর্ণনা আছে- তিনি উক্ত মাদরাসায় ১৩টা বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের ইলম অর্জন করেন।
উনাকে যখন হাদীছ শরীফের সর্বোচ্চ সনদপত্র দেয়া হয়, তখন বিশ্ব বিখ্যাত মুহাদ্দিস মুয়াল্লিমগণ উনাকে বলেন, “হে আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি! হাদীছ শরীফ শাস্ত্রে সনদ দানের এই নিয়ম অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আপনাকে সনদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে, হাদীছ শস্ত্রের ব্যাখ্যা, এর মর্ম উদঘাটন, যাবতীয় বিষয়ে আমরাই আপনার দ্বারা উপকৃত হয়েছি। আপনার সুগভীর ইলম ও প্রতিভা, যুক্তি এবং অনুসন্ধিৎসার ফলে হাদীছ শাস্ত্র নতুনভাবে আমাদের জ্ঞানের আলো প্রদান করলো।” (দলীল: সীরাতে মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

সুতরাং গাউছুল আযম সাইয়্যিদুনা মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমে হাদীছ সর্ম্পকে কথা বলার কোনো সুযোগই নাই।

পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের রোযা সর্ম্পকে আরো অনেক বর্ণনা অসংখ্য কিতাবের মধ্যে রয়েছে, সেখান থেকে কতিপয় বর্ণনা উল্লেখ করা হলো-
عن عامر بن شبل الحرمى سمعت رجلا يحدث : أنه سمع أنس بن مالك يقول فى الجنة قصر لا يدخله إلا صوام رجب (ابن شاهين فى الترغيب)
অর্থ: হযরত আমর ইবনে শুবল হারামি বলেন আমি এক ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, যেখানে পবিত্র রজব মাসের বিশেষ দিন (তথা ২৭ রজব) রোযদার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (জামিউল আহাদীছ লিস সূয়ুতী ৩৩/৬৪ : হাদীছ ৩৫৭৯২)

عن عامر بن شبل الحرمي سمعت رجلا يحدث أنه سمع أنس بن مالك يقول: "في الجنة قصر لا يدخله إلا صوام رجب". "ابن شاهين في الترغيب
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, যেখানে পবিত্র রজব মাসের বিশেষ দিন তথা ২৭ রজব রোযাদার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (কানযুল উম্মাল ৮/৬৫৩: হাদীছ ২৪৫৮২)

وأخرج البيهقي والأصبهاني عن أبي قلابة رضي الله عنه قال : في الجنة قصر لصوام رجب
অর্থ: হযরত আবু কিলাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বিশেষ বালাখানা রয়েছে, পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) এর দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বিশেষ বালাখানা  দেয়া হবে। (আদ দররুল মানছুর লি সুয়ূতী ৭/৩৪৪)

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو مُحَمَّدِ بْنُ أَبِي حَامِدٍ الْمُقْرِئُ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ هُوَ الْأَصَمُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْبُرُلُّسِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ شِبْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا قِلَابَةَ يَقُولُ: " فِي الْجَنَّةِ قَصْرٌ لِصُوَّامِ رَجَبٍ " . قَالَ أَحْمَدُ: " وَإِنْ كَانَ مَوْقُوفًا عَلَى أَبِي قِلَابَةَ وَهُوَ مِنَ التَّابِعِينَ، فَمِثْلُهُ لَا يَقُولُ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ بَلَاغٍ عَمَّنْ فَوْقَهُ مِمَّنْ يَأْتِيهِ الْوَحْيُ، وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ
হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি আবু কিলাবা রদ্বিয়াল্লাহু উনার ছহীহ সনদে বর্ণনা করেন, জান্নাতে একটি বিশেষ বালাখানা রয়েছে। পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) এর দিনে রোযা পালনকারীদেরকে বিশেষ বালাখানা  দেয়া হবে। (শুয়াবুল ঈমান লি বায়হাকী ৫/৩৩৭: হাদীছ ৩৫২১)

أخبرنا أبو نصر بن صاعد الحوشي، ثنا محمد بن يعقوب، ثنا إبراهيم بن سليمان، ثنا عبد الله بن يوسف، ثنا عامر بن شبل قال: سمعت أبا قلابة يقول:
في الجنة قصر لصوام رجب
বিখ্যাত কিতাব “তারগীব ওয়াত তারহীবে” ভিন্ন সনদে বর্ণিত আছে , জান্নাতে একটি বিশেষ বালাখানা রয়েছে। পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) র দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বিশেষ বালাখানা  দেয়া হবে। (তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩৯২: হাদীছ ১৮৪৮, ফায়দ্বুল কাদীর শরহে জামিউছ ছগীর ৪/২৭৭)

عن حضرت أبى قلابة قال : فى الجنة قصر لصوام رجب (ابن عساكر)
হযরত আবু কিলাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) র দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বালাখানায় দেয়া হবে। (জামিউল আহাদীছ লি সুয়ূতী ৪০/২৮৩ : হাদীছ ৪৩৯৫০, আল হাউয়ি লিল ফতোয়া ২/১৭১)

عن أبي قلابة قال: "في الجنة قصر لصوام رجب"
বিখ্যাত কিতাব “ কানযুল উম্মালে” বর্ণিত আছে, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে পবিত্র রজব এর দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বালাখানায় দেয়া হবে। (কানযুল উম্মাল ৮/৬৫৩: হাদীছ ২৪৫৮১)

قال عامر بن شبل: سمعت أبا قلابة يقول: في الجنة قصر لصوّام رجب
আরো বর্ণিত আছে, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, পবিত্র রজব এর দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বালাখানায় দেয়া হবে। (মুখতাছারু তারিখু দিমাষ্ক ৪/৭২)

সুতরাং এত অসংখ্য ছহীহ দলীল থাকার পরও যারা পবিত্র রজব মাস উনার ২৭ তারিখের রোযা ও আমল নিয়ে বিরোধিতা করে তারা মূলত বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী। তারা চায় না সাধারণ মানুষ বিশেষ রাতে নেক আমল করে আল্লাহওয়ালা হোক। নাউযবিল্লাহ!




শুক্রবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমাদের প্রাণপ্রিয় নবীজী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লিখতেন ও লেখার ব্যাপারে তালীমি দিতেন।


হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সমস্ত ইলমের অধিকারী। সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখন উনার মুজিযা। তিনি মুয়াল্লিম হিসেবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু  তায়ালা আনহুমগণকে আক্ষরিক জ্ঞান শিক্ষা দিতেন।

الذى علم بالقلم
অর্থঃ- যিনি (আল্লাহ্ পাক) কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন।(সূরা আলাক্ব/৪)
অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বয়ং আল্লাহ পাক লিখার যাবতীয় ইলম্ দিয়েই সৃষ্টি করেছেন।
 আল্লাহ পাক অন্যত্র ইরশাদ করেন,

خلق الانسان علمه البيان
অর্থঃ- তিনি (আল্লাহ্ পাক) ইনসানকে সৃষ্টি করেছেন এবং বয়ান শিক্ষা দিয়েছেন।(সূরা আর রহমান /২,৩)
এখানে بيان এর তাফসীরে উল্লেখ করা হয়েছে,

ماكان وما يكون
অর্থাৎ- যা সৃষ্টি হয়েছে এবং হবে। অর্থাৎ পূর্ব ও পরবর্তী সব ঘটনার জ্ঞান। (তাফসীরে মাআলিমুত তানযীল)
অর্থাৎ আয়াতের অর্থ হচ্ছে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্ পাক সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সমস্ত কিছুর জ্ঞান দান করেছেন।
যেমন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

اتيت علم الاولين والاخرين.
অর্থঃ- আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জ্ঞান দান করা হয়েছে।
হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, ছাহিবে ছলাত ও সালাম, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
اعطيت جوامع الكلم.
অর্থঃ- আমাকে (শুরু হতে শেষ পর্যন্ত) সমস্ত ইলিম প্রদান করা হয়েছে।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

অতএব, প্রমাণিত হলো যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলমের অধিকারী। আর লিখাও হচ্ছে ইলমের একটা অংশ। লিখা যে ইলমের অংশ তা সূরা আলাক্ব-এর ৪নং আয়াতেরعلم بالقلم তিনি (আল্লাহ পাক) উনাকে কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন’, এ আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়। কারণ علم (আল্লামা) শব্দটির مصدر (মাছদার) বা ক্রিয়ামূল হচ্ছে تعليم (তালীম) বা শিক্ষা দেয়া। অতএব, স্বয়ং আল্লাহ পাক যাকে লিখার উপকরণ তথা কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন তিনি লিখতে জানতেন না বা লিখতে পারতেন না এ ধারণা পোষণ করা মিথ্যা তোহমত ও কুফরীর নামান্তর।
মূলতঃ আল্লাহ পাক-এর হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবশ্যই লিখতে জানতেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হয়েছে,
عن معاوية انه كان يكتب بين يديه عليه السلام فقال له الق الدواة وحرف القلم واقم الباء وفرق السين وتعور الميم مع انه عليه السلام لم يكتب ولم يقرأ من كباب الاولين

অর্থঃ- হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে (ওহী) লিখতেন, অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে অক্ষর লিখার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে ইরশাদ করেন, দোয়াত এভাবে রাখ, কলম এভাবে ঘুরাও, "با" (বা) কে এভাবে সোজা করে লিখ, سين (সীন) কে পৃথক কর, আর মীম ميم (মীম) কে বাঁকা করোনা, অথচ তিনি দুনিয়াবী কোন কাতিবের (লিখকের)-এর নিকট থেকে লিখা শিখেননি, আর কোন প্রাচীনকালীন কিতাব থেকেও তা পড়েননি। (ফতহুল বারী লি শরহে বুখারী ৭/৫০৪, আস শিফা বিতারীফি হুকমিল মুস্তফা ১/৩৫৮, কিতাবু জামিউল কুরআন ১/১৪১, তাফসীরে কুরতুবী ১৩/৩৫৩) ” (সুবহানাল্লাহি বিহামদিহী)

উল্লেখ্য, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লিখার প্রয়োজন হতো না। কারণ মানুষ লিখে থাকে এজন্য যে, লিখে না রাখলে ভুলে যাবে। কিন্তু রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর লিখার প্রয়োজন নেই। কারণ তিনি কিছুই ভুলতেন না। তিনি সব কিছুই লওহে মাহফুজ থেকে দেখে নিতেন। তাঁর মুয়াল্লিম স্বয়ং আল্লাহ পাক। সুতরাং তাঁর লিখা-পড়ার কোন প্রয়োজন ছিল না। আর তিনি যদি লিখা-পড়া করতেন তাহলে বাতিলপন্থীরা সন্দেহ করতো।
যেমন, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আবির্ভাবের পরিচয় দেয়া ছিল কয়েকটি। যেমন, তিনি হবেন উম্মী’ (অর্থাৎ নবীগণের মূল হবেন) এবং সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখবেন কিন্তু পার্থিব ওস্তাদের কাছে লিখা-পড়া করবেন না। কোন বই-পুস্তক পড়বেন না।
 যেমন, এ সম্পর্কে কুরআন শরীফে ইরশাদ হচ্ছে,

ماكنت تتلوا من قبله من كتاب ولا تخطه بيمينك اذا الارتاب المبطلون.
অর্থঃ- এর পূর্বে (নুবুওওয়াত প্রকাশের পূর্বে) হে হাবীব (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি না কোন কিতাব পড়তেন এবং না নিজ হাতে কোন কিছু লিখতেন, যদি তা করতেন, তবে বাতিলপন্থীরা নিশ্চয়ই সন্দেহ করতো (যে এটা আল্লাহ পাক-এর বাণী নয়, আপনার রচিত কোন কিতাব)(সূরা আনকাবুত/৪৮)

এই আয়াতের ব্যাখায়া বিখ্যাত মুফাসসির হযরত ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
كان عليه السلام يعلم الخطوط ويخبر عنها
অর্থ: হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখতে জানতেন এবং অপরকেও জানাতেন। (তাফসীরে রুহুল মায়ানী ৬/৬১০)

আর তিনি যে লিখতে জানতেন এ প্রসঙ্গে ছহীহ বুখারী শরীফ”-এর কিতাবুল ইলম্’-এর বাবু কিতাবাতিল ইলমেঅধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে,
عن ابن عباس رضى الله عنه قال لما اشتد بالنبى صلى الله عليه وسلم وجعه قال ائتونى بكتاب اكتب لكم كتابا لا تضلوا بعده.

অর্থাৎ -হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেল। তখন তিনি উপস্থিত ছাহাবীদের বললেন, তোমরা এক টুকরা কাগজ নিয়ে এস। আমি তোমাদের জন্য কতিপয় উপদেশ লিখে দিব, যাতে তোমরা পরবর্তী কালে পথভ্রষ্ট হবেনা। (বুখারী শরীফ ৮/১৩: হাদীস ৪৪৩২, মুসলিম শরীফ ১৬৩৭, মিশকাত শরীফ ৫৯৬৬)

উক্ত হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ হলো হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখতে জানতেন। আর সে কারনেই তিনি খাতা কলম নিয়ে আসার জন্য বললেন, যাতে তিনি উপদেশ লিখে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি কিন্তু এটা বলেন নাই, কাগজ কলম এনে তোমরা লেখ আমি বলি। বরং তিনি বলেছেন , তোমরা এক টুকরা কাগজ নিয়ে এস। আমি তোমাদের জন্য কতিপয় উপদেশ লিখে দিব। যার প্রমাণ বুখারী মুসলিম শরীফেই বিদ্যমান।

হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

لما اعتمر النبى صلى الله عليه وسلم فى ذى القعدة فابى اهل مكة ان يدعوه يدخل مكة حتى فاضاهم على انيقيم بها ثلثة ثلثة ايام فلما كتبوا الكتاب كتبوا هذا ما قاضى عليه محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم قالوا لانقر بهذا لو نعلم انك رسول الله ما منعناك شيئا ولكن انت محمد بن عبد الله فقال انا رسول الله وانا محمد بن عبد الله ثم قال لعلى امح رسول اله قال على لا والله لاامحوك ابدا فاخذ رسول الله صلى اله عليه وسلم الكتاب وليس يحسن يكتب فكتب هذا ما قاضى محمد بن عبد الله.
অর্থাৎ- নবীয়ে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিলক্বদ মাসে ওমরাহ্ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু মক্কাবাসী তাঁকে মক্কা শরীফে প্রবেশ করতে দিতে রাজী ছিলনা, যতক্ষণ না তিনি তাদের সাথে এ মর্মে সন্ধিসূত্রে আবদ্ধ হন যে, তিনি সেখানে (মক্কা শরীফে) তিনদিনের অধিক অবস্থান করবেন না। অতঃপর যখন সন্ধিপত্র লিখার উপর ঐক্যমত হলো, তারা লিখলো এতদ্বারা মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাথে সন্ধি করলেন। অতঃপর মক্কার কাফিররা বললো, আমরা এটা মানিনা, কারণ যদি আমরা আপনাকে আল্লাহ্র রসূল হিসেবে মেনে নিয়ে থাকি তাহলে আমরা আপনাকে তো কোন রকম বাঁধাও দিতাম না বরং আপনি হলেন, মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ্। সুতরাং এটাই লিখতে হবে। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি আল্লাহ পাক-এর রসূল এবং আমিই আব্দুল্লাহ্র পুত্র, তারপর তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, “রসুলুল্লাহ শব্দটা কেটে দাও।
হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরজ করলেন, না, আল্লাহ পাক-এর কসম! আমার পক্ষে (আল্লাহ্ পাক প্রদত্ত্ব) আপনার (গুণবাচক) নাম কাটা সম্ভব নয়। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত চুক্তিপত্র খানা হাতে নিলেন। তাঁর নিজ হাতে লিখার ইচ্ছা ছিলনা, তবুও সুন্দরভাবে লিখলেন,
هذا ما قاضى محمدبن عبد الله.
এতদ্বারা চুক্তি করলেন মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মুসনাদে আহমদ ১৮৬৫৮, সুনানে কুবরা বায়হাকী ৭/৪২: হাদীস ১৩৬৬৮, দালায়েলুন নবুওওয়াত ৪/৩৩৮, সুনানে দারেমী ২৫০৭, ফতহুল বারী ৭/৫০৩,  তাফসীরে ইবনে কাছীর ৭/৩৫৯, তাফসীরে বাগবী ৭/৩১৭, রুহুল মায়ানী ১১/)



কুরআন শরীফে এবং হাদীছ শরীফে বর্ণিত النبى الامى. দ্বারা মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন যে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেহেতু দুনিয়াবী কোন শিক্ষক কর্তৃক লিখা-পড়া শিখেননি সেহেতু তিনি নাবিয়্যুল উম্মীলক্ববে অভিহিত। যা তাঁর শ্রেষ্ঠ নবী এবং রসূল হওয়ার প্রমাণ। কিন্তু তার পরেও তিনি যে লিখতেন সেটা ছিল তার মুজিযা। যেমন, বুখারী শরীফের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকারী আল্লামা কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখেছেন, “এখানে উম্মী মানে এ লিখাটা হচ্ছে তাঁর মুজিযা।(বুখারী শরীফ ২য় খণ্ড)

উম্মি শব্দটি আরবি ‘উম্মুন’ ধাতুর সঙ্গে সম্পৃক্ত। উম্মুন শব্দের অর্থ হচ্ছে মা বা কোনো জিনিসের মূল বা আসল। যেমন মক্কা নগরীকে ‘উম্মুল কুরা’ অর্থাৎ দুনিয়ার সব নগরীর উৎসমূল এভাবে সূরা ফাতিহাকে ‘উম্মুল কিতাব’ বা কোরআনের মূল বলা হয়। আরবি সমৃদ্ধ একটি ভাষা। একটি শব্দের অনেক অর্থ হয়ে থাকে। তাই বাক্যের ভাবধারা অনুযায়ী শব্দের অর্থ করতে হয়। অন্যথায় অনুবাদ বা অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। উম্মি শব্দের অর্থ যেমন মূল বা আসল, তেমনি তার অর্থ নিরক্ষর, লেখাপড়াহীন, মূর্খ ইত্যাদিও হয়। কিন্তু সূরা আরাফের ১৫৭, ১৫৮ নং আয়াতে যেখানে নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কথা উল্লেখ আছে সে সব আয়াতে নিরক্ষর লেখাপড়াহীন অর্থ নেয়াটা মূর্খতারই পরিচায়ক। প্রকৃতপক্ষে যারা মূর্খ তারাই নবীজীর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শানে ব্যবৃহৃত ‘উম্মি’ শব্দটিকে নিরক্ষর, লেখাপড়াহীন এ অর্থে ব্যবহার করেন। অথচ উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ে ‘উম্মি’ শব্দটি নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি বিশেষ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শানে ব্যবহৃত উম্মি শব্দটির অর্থ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

এবার জানানোর চেষ্টা করব পবিত্র কোরআনে উল্লিখিত ‘নবী ও রাসূল-ই-উম্মি’ শব্দের প্রকৃত অর্থ কী?
মুলতঃ النبى الامى এখানে امى অর্থ সাইয়্যিদ, মূল, অভিভাবক, প্রধান, শ্রেষ্ঠ ইত্যাদি। অর্থাৎ যিনি সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের মূল বা যাকে ব্যতীত কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণই সৃষ্টি হতেন না তিনিই النبى الامى (নাবিয়্যূল উম্মী) লক্ববে ভূষিত।
উপরোক্ত অর্থ ছাড়াও অভিধানে امى শব্দটি ভিন্ন অর্থেও ব্যবহৃত হয় কিন্তু তা আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে প্রযোজ্য নয়।
স্মরণীয় যে, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণের ক্ষেত্রে কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফের এমন তাফসীর, অনুবাদ, ব্যাখ্যা করা যাবেনা যার কারণে তাঁদের শানের খিলাফ হয়। তাদের শানে চু-চেরা, কিল-কাল করার অর্থই হচ্ছে তাঁদের বিরোধিতা করা; আর তাদের বিরোধিতা করা হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহ পাক-এর বিরোধিতা করা। ফলে তাদের জাহান্নাম ছাড়া আর কোন পথ নেই।

আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নাবিয়্যূল উম্মী তথা সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ছিলেন তিনি যে লিখতে জানতেন এ সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সঠিক আক্বীদা রাখার তাওফীক দান করেন এবং এর খিলাফ সমস্ত কুফরী আক্বীদা থেকে হিফাযত করেন। (আমীন)