রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২

তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না এ হাদীছের ব্যাখ্যা

 

তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না

রেজাউল করীম আবরার ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঈদ অস্বীকার করতে গিয়ে দলীল দিয়েছে,

عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا تَتَّخِذُوا شَهْرًا عِيدًا، وَلَا تَتَّخِذُوا يَوْمًا عِيدًا

হযরত তাউস রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করবে না। (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৭৮৫৩)

এই হাদীছ এর মধ্যে আমভাবে দেখা যাচ্ছে- কোন মাসকে বা কোন দিনকে ঈদ হিসাবে পালন করা যাবেনা। উল্লেখ্য যে প্রতিটি হাদীছ শরীফের একটা প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য থাকে। কোন হাদীছ শরীফের হুকুম সার্বজনীন হয় আবার কোনটা নির্দিষ্ট বিষয় সংশ্লিষ্ট হয়, যার হুকুম সেই নির্দিষ্ট সময় ও প্রেক্ষাপটের জন্যই প্রজোয্য থাকে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত হাদীছ শরীফখানা মুসলমানের ঈদ সংক্রান্ত নয়। বরং এ বর্ণনাটি হলো জাহেলি যুগের রজবিয়া ও আতিরা উপলক্ষে মানুষেরা যে ঈদ পালন করতো সেই সংক্রান্ত।

    এই হাদীছ শরীফখানা যে কিতাবে বণিত হয়েছে, সেখানে স্পষ্টভাবে অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে- বাবু ছিয়ামে আশহুরিল হুরুম অথাৎ হারাম মাসসমুহে রোযা রাখার অধ্যায়। এর দ্বারা বুঝা গেল স্বয়ং মুসান্নিফ নিজেই এই হাদীছ শরীফ খানা ঈদের বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেননি। বরং হারাম মাসের রোযা রাখার ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন। যা উক্ত হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় তাহকীককরী ৪র্থ খন্ডের ২৯১ পৃষ্ঠার ৪ নং টীকায় উক্ত মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক কিতাবের ৯২৫৫ নং হাদীছ শরীফ দ্বারা ব্যাখ্যা করে বলেছেন-

أَنَّهُ ‌كَانَ ‌يَكْرَهُ ‌أَنْ ‌يَتَحَرَّى ‌شَهْرًا، ‌أَوْ ‌يَوْمًا ‌يَصُومُهُ

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাসব্যাপী এবং দিনব্যাপী নিদিষ্ট করে রোযা রাখতে অপছন্দ করতেন।

     মূল কথা হচ্ছে উক্ত হাদীছ শরীফ মুসলমানদের ঈদ সংক্রান্ত নয় বরং রজব মাস এবং আতীরার রোযা ও ঈদ সংক্রান্ত।

আবরারের আলোচ্য বর্ণনাটি দ্বারা যদি ঈদ নেয়াও হয় তাহলে তা হবে জাহেলি যুগের রজবিয়ার ঈদ। যা দ্বারা মুসলমানদের কোনা ঈদকে নিদিষ্ট করা হয়নি। তার প্রমাণ হচ্ছেমুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক কিতাবের ৪র্থ খন্ডের ২৯২ পৃষ্টার পরবতী হাদীছ শরীফ-

عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه كان ينهى عن صيام رجب كله لئلا يتخذ عيدًا

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মানুষদের পুরো রজব মাস রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। যাতে করে মানুষ এটাকে ঈদ বানিয়ে না নেয়। (মুছান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৭৮৫৪)

    অথাৎ, আবরারের বর্ণিত, উক্ত হাদীছ শরীফখানা মুসলমানদের ঈদ সংক্রান্ত নয় বরং জাহেলী যুগের রজবিয়ার রোযা সংক্রান্ত সেটা প্রমাণিত হলো। ইবনে রজব হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার লাতায়েফুল মায়ারিফ কিতাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি যে অধ্যায়ে এ আলোচনা করেছেন তা রজব মাস সংশ্লিষ্ট, এবং রজবীয়া ও আতিরার আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি এ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

    আর সবচাইতে মজার বিষয় হচ্ছে, রেজাউল করীম আবরার নিজেও তার কুরআন সুন্নাহর আলোকে বারো মাসের করণীয় বজনীয় বইয়ের ১৭২ পৃষ্ঠায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও আতীরার বিধান রহিত হওয়ার প্রসঙ্গে লিখেছে-

মুবারক বিন ফুজালা হাসান থেকে বণনা করেন, ইসলামের কোনো আতীরার বিধান নেই। এর বিধান ছিলো জাহেলি যুগে। তারা রজব মাসে রোযা রাখতো এবং পশু যবেহ করতো। এছাড়া এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় যে, রজব মাসে পশু যবেহের কারণে তা ঈদের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যায়। অথচ ইসলামে ঈদ মাত্র দুটি। আর ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বণিত হয়েছে যে, তিনি রজবকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতে অপছন্দ করতেন প্রসিদ্ধ তাবেয়ী আতা বণনা করেন, ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন,

كان ابن عباس رضي الله عنهما ينهى عن صيام رجب كله لئلا يتخذ عيدًا

অথাৎ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মানুষদের পুরো রজব মাস রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। যাতে করে মানুষ এটাকে ঈদ বানিয়ে না নেয়। এ ছাড়াও হানাফী মাযহাবের ফিকহ ফতোয়ার সকল কিতাবে আতিরা মানসুখ তথা রহিত হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

    অর্থাৎ প্রমাণ হলো তার ওয়াজের আলোচানায় সে মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় হাদীছ শরীফটি বাদ দিয়ে প্রথম হাদীছ শরীফটি উল্লেখ করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জাহেলি যুগের রজবিয়ার ঈদ পালন না করার দলিলকে ঈদে মীলাদুন্নবী পালন না করার দলিল হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। অথচ তার কিতাবে সে এই ঈদ এবং রোযা দ্বারা জাহেলী যুগের রজবিয়াকে উদ্দেশ্য করেছে। অর্থাৎ অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার প্রতারনা ধরা পরে গেছে।

উল্লেখ্য যে, আলোচ্য বর্ণনা তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করবে না বর্ণনাটি মুরসাল। মুরসাল বর্ণনা যদিও ছহীহ কিন্তু এটি একটি একক বর্ণনা। এর পক্ষে কোন হাদীছ শরীফ অথবা কোনো ছাহাবী অথবা কোনো তাবেয়ী অথবা ইমামদের সমর্থনও নেই। পৃথিবীর কোন ইমাম এই হাদীছ শরীফ দিয়ে ঈদ করা যাবে না এমন কথাও বলেন নাই।

বরং পূর্ববর্তী অনেকেই পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ হিসাবে কিতাবে উল্লেখ করেছেন। যেমন-

হাফিজুল হাদীছ হযরত শিহাবুদ্দীন কাসতালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৯২২ হিজরী) উনার মাওয়াহিবে লাদুনীয়ার ১/৭৮ পৃষ্ঠায় লিখেন,

فرحم الله امرآ اتخذ ليالى شهر مولده المبارك أعيادا

আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যিনি মিলাদুন্নবীর মাসের রাতসমূহ ঈদ হিসাবে গ্রহন করে

হযরত মুহম্মদ ইবনে উমর ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৯৩০ হিজরী) হাদায়েকুল আনোয়ার ৫৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,


فحقيقٌ بيومٍ كانَ فيه وجودُ المصطفى صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَّخذَ عيدًا، وخَليقٌ بوقتٍ أَسفرتْ فيه غُرَّتُهُ أن يُعقَد طالِعًا سعيدًا،

এ দিনের প্রকৃত অবস্থান হলো , যেহেতু এদিন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ হয়েছে তাই এ দিন ঈদ উদযাপন করাই হচ্ছে প্রকৃত দাবী। এদিনের এক শুভক্ষনেই তো সেই আলোকিত মহা উজ্জল চেহারা মুবারক পৃথিবী দর্শন করেছে তবে তা কেন ঈদ হবে না?

ইমাম যারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার শরহে যারকানী ১/২৬২ পৃষ্ঠাতেও পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

হযরত আবু যুফার মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দুররুল মুনাজ্জাম কিতাবে লিখেন,

وَقَدْ عَمِلَ الْـمُحِبُّوْنَ لِلنَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرْحًا بِـمَوْلِدِهِ الوَلَائِمَ

হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আশিকগণ উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশিতে (ঈদ পালন করে) খাওয়া দাওয়া ও দাওয়াতের আয়োজন করে আসছেন। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সিরাতে খাইরিল ইবাদ ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা)

হাফিজুল হাদীছ ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

لازال اهل الحرمين الشريفين والمصر واليمن والشام وسائر بلاد العرب من المشرق والمغرب يحتفلون بمجلس مولد النبى صلى الله عليه وسلم ويفرحون بقدوم هلال ربيع الاول

হারামাইন শরীফাইন, মিশর, ইয়ামেন, সিরিয়া এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত আরবের সকল শহর ও নগরের অধিবাসীদের মধ্যে অব্যাহতভাবে এ নিয়ম চলে আসছে যে, তারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফের অনুষ্ঠান করেন। পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের নতুন চাঁদের আগমনে আনন্দিত হন (ঈদ পালন করেন)। (দররুল মুনাজ্জাম ৮৫ পৃষ্ঠা)

মুহম্মদ ইবনু ইউসুফ আছ ছালেহী শামী (ওফাত ৯৪২ হিজরী) রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন,

سمعت الشيخ أبا موسى الزّرهونيّ يقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في ‌النوم ‌فذكرت ‌له ‌ما ‌يقوله ‌الفقهاء في عمل الولائم في المولد فقال صلى الله عليه وسلم: من فرح بنا فرحنا به

শায়েখ হযরত আবু মুসা জারহুনি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একদিন আমি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। ফকিহগণ তথা মুফতিগন যে মীলাদুন্নবী পালন করেন বিষয়টি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থাপন করলাম। হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে আমার ব্যাপারে খুশি (ঈদ পালন করে) প্রকাশ করবে আমি তার ব্যাপারে খুশি প্রকাশ করব। [সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতে খাইরুল ইবাদ ১/৩৬৩; লেখক- মুহম্মদ ইবনু ইউসুফ আছ ছালেহী শামী (ওফাত ৯৪২ হিজরী)]

হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাওয়ী লিল ফাতওয়া কিতাবে ১/২৩০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন,

كَانَ يَجُوزُ بِالْمَكْتَبِ فِي الْيَوْمِ الَّذِي فِيهِ وُلِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَقُولُ: يَا فَقِيهُ، ‌هَذَا ‌يَوْمُ ‌سُرُورٍ ‌اصْرِفِ ‌الصِّبْيَانَ،

এখানেও পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খুশির দিন বলা হয়েছে।

কেনেইবা এই দিন ঈদ হবে না? পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতের মর্যাদা সকল রাতের চাইতে বেশি। ফতোয়ায়ে শামীতে উল্লেখ আছে,

أَنَّ أَفْضَلَ اللَّيَالِي لَيْلَةُ مَوْلِدِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ لَيْلَةُ الْقَدْرِ ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ ، ثُمَّ لَيْلَةُ عَرَفَةَ ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْجُمُعَةِ ، ثُمَّ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ، ثُمَّ لَيْلَةُ الْعِيدِ

অর্থ: রাতসমূহের মধ্যে উত্তম রাত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রাত, অতঃপর পবিত্র ক্বদরে রাত, অতঃপর মিরাজ শরীফের রাত, অতঃপর পবিত্র আরাফার রাত, অতপর পবিত্র জুমুয়ার রাত, অতঃপর পবিত্র ১৫ শাবান (শবে বরাত) রাত, অতপর পবিত্র ঈদের রাত। (দলীল: রদ্দুল মুহতার আলা দুররিল মুখতার ৩/৫২৮-৫২৯ : কিতাবুল হজ্জ্ব , তাফসীরে রূহুল মায়ানী ১৯/১৯৪, সূরা ক্বদরে তাফসীর)

সকল বিশেষ রাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ রাত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রাত। তাহলে এই মহান দিবসকে ঈদ বললে সমস্যা কোথায়? আর এছাড়া যেসকল ইমামগন মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ বলেছেন উনারা কি তোমরা কোন মাসকে ঈদ হিসাবে গ্রহন করো না, কোন দিনকেও ঈদ হিসাবে গ্রহন করবে না এ হাদীছ শরীফ জানতেন না? জানলে কি কারনে ইমামগন মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈদ বলেছেন? কারন উনারা জানতেন এটা হচ্ছে রজবীয়া বা আতিররা বিধান যার সাথে মুসলমানদের কোন সম্পর্ক নেই। বরং মুসলমানদের জন্যতো সবচাইতে খুশির বা ঈদের দিন হচ্ছে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২

এক দাঁতী (যারা বিদয়াত করে না) শায়েখ ও এক বৎসের কথপোকথন

 


বৎসঃ শায়েখ ফযিলত লাভের জন্য নতুন কোন কাজ করা কি হবে?

দাঁতী শায়খঃ শোন হে বৎস! সাওয়াবের নিয়তে নতুন কিছু করাই বিদয়াত। আর মনে রাখবা সকল বিদয়াত গোমরাহী সহীহ বুখারী !!!

বৎসঃ জ্বি, শায়েখ। আচ্ছা কোন ইবাদত বা নেক কাজের জন্য তারিখ বা সময় নির্ধারণ করা কি হবে?

দাঁতী শায়খঃ সেটা ভয়ানক বিদয়াত। সাবধান! প্রত্যেক বিদয়াতিই জাহান্নামী সহীহ বোখারী। 

বৎসঃ শায়খ! এই যে আগামী বছর জানুয়ারী মাসের ৫ তারিখ মাহফিলের ডেট নিলেন, এ তারিখ নির্ধারন করে মাহফিল করাটা কি বিদয়াত হবে?

দাঁতী শায়খঃ আরে ছোকরা, এসব প্রশ্ন করতে হয় না। আমরা কি কোন বিদয়াত করতে পারি? বিদয়াততো সুন্নীরা করে (!!!)

বৎসঃ শায়েখ! এই যে ৫ তারিখ মাহফিল করবেন, সেটার প্রচারের জন্য মাইকিং করা, পোষ্টার লাগনো, স্টেজ বানানো, লোকজন ডেকে আনা এসব কি নবীজীর যুগে ছিলো?

দাঁতী শায়খঃ আরে ছোকরা! বড় পাকনা কথা বলো। এসব কি আমরা সাওয়াবের নিয়তে করি?

বৎসঃ  শায়খ! কুরআন হাদীছের মাহফিল, নেকীর কথাই বলা হবে, দ্বীনের কথা বলা হবে, সেটার জন্য পোষ্টারিং, মাইকিং, স্টেজ, লোকজন ডাকা ইত্যাদি কি সাওয়াবের নিয়তে না করলে গুনাহের জন্য করি?

দাঁতী শায়খঃ তুমি ব্ড্ড বেশি বুঝ! এসব প্রশ্ন করাও বিদয়াত মনে রাখবা।

বৎসঃ প্রশ্ন না করলে জানবো কিভাবে?

দাঁতী শায়খঃ শোন হে পাকনা ছোকরা, তুমি সব সময় চোখ বুজে সুন্নীদের কোন ফযিলতের কাজ করতে দেখলেই বিদয়াত বলবে। আমরা কি করলাম না করলাম সেটা ভাবতে যেও না। আমাদের কোন কিছু বিদয়াত হয়না। বুঝেছো?

বৎসঃ বুঝলাম আপনারা হচ্ছেন দাঁতী আর অন্যদের ভাবেন বিদয়াতি।

দাঁতী শায়খঃ তবে রে বৎস..!!!

জন্ম উপলক্ষে নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ এ বক্তব্যের খণ্ডন

 


রেজাউল করীম আবরারের একটা দাবি- জন্ম উপলক্ষে নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ। 

যে হাদীছ শরীফ দিয়ে সে রোজা পালন করার কথা বলছে তা হলো-

হযরত আবূ ক্বতাদা আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সোমবার রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হলেন, তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, এদিন আমি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছি, আর এ দিনেই আমার উপর পবিত্র ওহী বা পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হয়েছে। (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ২৮০৭)

প্রথম কথা হচ্ছে এ হাদীছ শরীফ পেশ করার মাধ্যম দিয়ে সে মীলাদুন্নবী পালন করাকে মেনে নিলো। যাক আগেতো মীলাদুন্নবী পালন অস্বীকার করতো এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এখন বাকি থাকলো, রোজা না রেখে ঈদ করা নিয়ে। সম্ভবত রেজাউল করীম আবরার সহ সমগোত্রীয়রা রোজা এবং ঈদকে সাংঘর্ষিক মনে করে। আসুন আমরা কিছু হাদীছ শরীফ দেখবো যেখানে রোজার মাধ্যম দিয়ে ঈদ পালন করার ব্যাপারে বলা হয়েছে।

পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صِيَامًا يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْجَى اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُومُهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَصَامَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ‏.

হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদীনা শরীফে হিজরত করে ইয়াহূদীদেরকে আশূরার দিন রোজা পালনরত দেখতে পেলেন। এরপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমারা কোন দিন উপলক্ষে রোজ পালন করছ, তারা বলল, মহান দিনে আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার সম্প্রদায়কে মুক্তি দিয়েছেন এবং ফিরআওন ও তার কওমকে ডুবিয়ে দিয়েছেন। এরপর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার লক্ষ্যে এ দিনে রোজা পালন করেছেন। তাই আমরাও এ দিনে রোজা পালন করছি। তারপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমরা তো তোমাদের থেকে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এর অধিক নিকটবর্তী এবং হাক্বদার। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সওম পালন করলেন এবং সওম পালন করার জন্য সকলকে নির্দেশ দিলেন। (মুসলিম শরীফ ২৫৪৮)

এ হাদীছ শরীফ থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আশুরা উপলক্ষে রোজা রেখে এ দিবস পালন করলেন এবং সবাইকে করতে বললেন।

এখন জানার বিষয় আশুরার এই মহান দিবসকে কি মনে করা হতো?

হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,

عَنْ أَبِي مُوسَى، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَتَتَّخِذُهُ عِيدًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏  صُومُوهُ أَنْتُمْ ‏ ‏.

হযরত আবূ মূসা আশআরী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়াহূদী সম্প্রদায় আশূরা দিবসের সম্মান প্রদর্শন করত এবং তারা এ দিনকে ঈদ বলে গন্য করত। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর। (মুসলিম শরীফ ২৫৫০)

অপর হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,

قَالَ كَانَ أَهْلُ خَيْبَرَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ يَتَّخِذُونَهُ عِيدًا وَيُلْبِسُونَ نِسَاءَهُمْ فِيهِ حُلِيَّهُمْ وَشَارَتَهُمْ ‏‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ فَصُومُوهُ أَنْتُمْ

খায়বারের ইয়াহূদীরা আশূরার দিন সওম পালন করত, তারা এ দিনকে ঈদরূপে বরণ করত এবং তারা তাদের মহিলাদেরকে অলংকার ও উত্তম পোশাকে সুসজ্জিত করত। এরপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও এ দিনে সওম পালন কর। (মুসলিম শরীফ ২৫৫১)

হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার উম্মতরা আশুরার দিনকে নিয়ামত মনে করে সেদিনকে ঈদ হিসাবে পালন করে শুকরিয়া আদায় স্বরূপ রোজাও রাখতো। ঈদ কেন পালন করতো? শুকরিয়া আদায় করে। তাহলে বোঝা যায় শুকরিয়া আদায় করার আরেকটি নাম হচ্ছে ঈদ যা রোজা রেখেও পালন করা যায়। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার উম্মত অর্থাৎ আমাদেরকেও এ দিন উপলক্ষে রোজা রাখতে বলেছেন। তিনি কিন্তু কোথাও বলেন নাই- হে আমার উম্মত তোমরা ঈদ পালন করো না শুধু রোজা রাখো। বরং তিনিও আমাদের শুকরিয়া স্বরূপ রোজা রাখতে বলেছেন অর্থাৎ এর মাধ্যমে ঈদ পালন করতে বলেছেন। অর্থাৎ এ হাদীছ শরীফ গুলোই প্রমাণ করে ঈদের সাথে রোজার কোন সাংঘর্ষিকতা নেই। রোজা হচ্ছে শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যম মাত্র। আর ঈদ হচ্ছে আত্মিক খুশির একটা বিষয়।

আরাফার দিন ঈদ এবং রোজাঃ

قَالَ قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ ‏:‏ ‏(‏ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا ‏)‏ وَعِنْدَهُ يَهُودِيٌّ فَقَالَ لَوْ أُنْزِلَتْ هَذِهِ عَلَيْنَا لاَتَّخَذْنَا يَوْمَهَا عِيدًا ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَإِنَّهَا نَزَلَتْ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ وَيَوْمِ عَرَفَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ صَحِيحٌ

অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্নিত আছে যে, তিনি একদা আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করে দিলাম ( সূরা মায়েদা ৩) এ আয়াত শরীফ খানা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন ! তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, যদি এমন আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো, আমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করতাম ! এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন একসাথে দুই ঈদ ছিলো (১) জুমুয়ার দিন এবং (২) আরাফার দিন ! (দলীল: তিরমীযি শরীফ- কিতাবুত তাফসীর : হাদীস ৩৩১৮)

৯ যিলহজ্জ আরাফার দিন রোজা রাখার বিষয়ে হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে,

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন,

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ

আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি মহান আল্লাহ পাকের কাছে আশাবাদী যে তা (আমার উম্মতের) বিগত এক বছর ও আগত এক বছরের গুনাহকে ক্ষমা করিয়ে দেবে। (মুসলিম শরীফ হাদিস : ১১৬২)

অতএব এ হাদীছ শরীফ থেকে দলীল পাওয়া গেলো, আরাফরা দিন হচ্ছে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন এবং এ দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে অনেক ফযিলতের বর্ণনা আছে। অর্থাৎ রোজা রাখার মধ্যে দিয়ে ঈদ রহিত হয়না বা ঈদ পালনের মাধ্যমে রোজা রাখাও প্রতিবন্ধক হয়না।

সূতরাং রেজাউল করীম আবরারের দাবি- জন্ম উপলক্ষে নবীজী রাখলেন রোজা আপনারা করেন ঈদ এই দাবির অসারতা প্রমাণ হলো।

শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২

যুগে যুগে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের দলীল

 


হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত যুগ থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বর্তমান সময় পর্যন্ত পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে হয়তো পদ্মতিতে পরিবর্তন আসছে, যেমন- প্রথম দিকে রোজা রেখে পালন করা, এর পরে বিলাদত শরীফের দিবসে যিয়ারত ও নামায, এরপর দোয়া, তার পরে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, হামদ নাত পাঠ করা, মানুষকে খাদ্য খাওয়ানো। লোকজন সমাবেত করে বিভিন্ন নেক কাজ ইত্যাদি। কিন্তু মূল যে আমল অর্থাৎ পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন তা সব সময়ই অব্যহত ছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় আমলগুলো যুগ অনুযায়ী উল্লেখ করা হলো-

 ১) হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের মীলাদুন্নবীর আলোচনা করেছেনঃ

হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে,

عن عائشة قالت : تَذَاكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ ‌عَلَيْهِ ‌وَسَلَّمَ، ‌وَأَبُو ‌بَكْرٍ ‌مِيلَادَهُمَا ‌عِنْدِي

উম্মুল মুমিনিন আছ ছালিছা হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, আমার কাছে হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং খলীফাতু রসূলিল্লাহ, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা উনাদের পবিত্র মীলাদ শরীফের আলোচনা করেছেন।

(তাবরানী ২৮, মাযমাউয যাওয়ায়েদ ৯/৫২: হাদীছ শরীফ নং ১৪৩৯২; প্রকাশনা: দারুল ফিকর বাইরুত লেবানন, আল ইছাবা লি ইবনে হাজার ৪/১৬৯, সিরাতুন নাবাবিয়া ইবনে কাছীর ৪/৫১২, বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫/২৭৮, তারীখে মাদীনাতু দিমাষ্ক ৩০/২৬)

শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১

আমরা কি জানি ভাত একটি পবিত্র সুন্নতী খাবার ?

মহান আল্লাহ পাক হযরত ঈসা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দোয়ার প্রেক্ষিতে যখন আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করেছিলেন সেই খাঞ্চার মধ্যে ভাতও ছিলো। সুবহানাল্লাহ। তিনি দোয়া করেছিলেন, 

اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ

 অর্থ: হে মহান রব আল্লাহ পাক ! আপনি আসমান থেকে আমাদের জন্য খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন যেন সেই দিনটা আমাদের পূর্ববর্তী পরবর্তী সকলের জন্য ঈদের দিন হয় এবং আপনার তরফ থেকে সেটা একটা নিদর্শন হবে। (সূরা মা’য়িদা ১১৪)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফের তাফসিরে,

انزل علينا مائدة من السماء قال .........

انه كان خبزا وارز

আসমান থেকে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল করুন.... সেখানে রুটি ও ভাত ছিলো। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম ৪/১২৪৬)

উক্ত আয়াত শরীফ উনার তাফসিরে বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ তাফসিরে ইবনে আবি হাতিমে সনদ সহ একটি বর্ণনা উল্লেখ আছে,

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ , ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَمْزَةَ , ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ , عَنْ أَبِيهِ , عَنْ يَزِيدَ , عَنْ عِكْرِمَةَ , حَدَّثَهُ: أَنَّ الْخُبْزَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَ الْمَائِدَةِ كَانَ مِنْ أُرْزٍ

হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, দস্তরখানায় যে রুটি নাযিল হয়েছিলো তার সাথে ভাতও ছিলো। (তাফসিরে ইবনে আবি হাতিম ৪/১২৪৬: হাদীছ শরীফ ৭০২৮)

সূতরাং বোঝা গেলো মহান আল্লাহ পাক আসমান থেকে যে খাবার পাঠিয়েছিলেন তার মধ্যে ভাতও ছিলো। رز শব্দে অর্থ হচ্ছে ভাত। এই ভাত স্বয়ং হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে গ্রহন করেছেন।

পৃথিবীতে যত মুহাদ্দিছ ছিলেন তাদের মধ্যে প্রথম শ্রেনীর একজন মুহাদ্দিছ এবং চিশতিয়া খান্দানের বিখ্যাত ওলীআল্লাহ ও মুজাদ্দিদ হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজে ভাত খাওয়া সুন্নত এ হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন এবং সে হাদীছ শরীফকে বিশুদ্ধ বা ছহীহও বলেছেন। উনার মালফুজাত সংকিলত একটি কিতাব হচ্ছে “ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ”। উক্ত কিতাবের ৩২৮ পৃষ্ঠার ৫৬ তম মজলিসে এ বিষয়ে উল্লেখ আছে,

ছাপ্পান্নতম মজলিস, সাবতি , ১১ই জিলহজ্ব, ৭১৮ হিজরী । কদমবুসি হাসিল হলো। আমি আরজ করলাম, এ মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত আইয়্যামে তশরিকের কারণে রোজা রাখা যাবে না, কিন্তু আইয়্যামে বেজের রোজা তো রাখা যেতে পারে, কেননা তা আইয়্যামে তশরিকের মধ্যে পড়ে না। তিনি বললেন, ১৬ তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখবে। হযরত ইমাম শাফি রহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে আইয়্যামে বেজের রোজা প্রতি চন্দ্রমাসের ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে রাখা হয়। এ সময়কাল আইয়্যামে বেজের হুকুম প্রদান করে। ১৪ ও ১৫ তারিখ কিন্তু এ মাসে ১৬ তারিখেও রোজা রাখবে। এ সময় দরবার শরীফে খাবার আনা হলো যার মধ্যে ভাতও ছিলো। আমি বললাম যে, الارز مني এটা কি হাদীছ শরীফ? তিনি বললেন এটা বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ। তিনি এরপর বললেন একবার হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দস্তরখানায় কয়েক রকম খাবারের আয়োজন ছিলো এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারাও অংশগ্রহন করেছিলেন। যে যার পছন্দের খাবার নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছিলেন। কেউ বলেছিলেন, اللحم مني অর্থাৎ আমাকে গোশত দিন। কেউ বলছিলেন, الحواءج منيএমনি প্রত্যেকেই কিছু কিছু বলছিলেন, অবশেষে হাবীবুল্লাহ হুযর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, الارز مني অর্থ: আমাকে ভাত দিন।”



ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ ৩২৮ পৃষ্ঠা (উর্দূ)




ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ ২৪৪ পৃষ্ঠা (বাংলা)

স্বয়ং হাবীবুল্লাহহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভাত খেয়েছেন। শুধুমাত্র ভাত খেয়েছেন তাই নয় বরং ভাতের ফযিলতও বর্ণনা করেছেন। বিখ্যাত মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ইবনে ইউছূফ ছলেহ আশ শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৯৪২ হিজরী) উনার বিখ্যাত কিতাব “সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতে খাইরুল ইবাদ” গ্রন্থের ১২তম খ-ের ২২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন,

رواه البيهقي في الشعب وأبو نعيم في الطب وعنه عليه الصلاة والسلام أنه قال: (سيد الأدام في الدنيا والآخرة اللحم) وعنه عليه الصلاة والسلام قال: (سيد طعام الدنيا والآخرة اللحم ثم الأرز).

ইমাম হযরত বায়হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শুয়াবুল ঈমান কিতাবে এবং ইমাম হযরত আবু নুয়াইম আসবাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবুত ত্বীবে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, দুনিয়া ও আখিরাতে শ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে গোশত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন, দুনিয়া ও আখিরাতের শ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে গোশত এরপর ভাত।”



সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সিরাতে খাইরুল ইবাদ” গ্রন্থের ১২তম খণ্ড ২২৫ পৃষ্ঠা 


সূতরাং দেখা গেলো গোশতের পর ভাতের ফযিলতও বর্ণিত আছে। এবং এই ফযিলত আরো বিস্তারিতভাবে বিখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুস সালাম ছাফুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৮৯৪ হিজরী) তিনি উনার ‘নুযহাতুল মাজালিস’ কিতাবে বর্ণনা করেছেন,

رأيت في كتاب شرعة الإسلام يستحب إكثار الصلاة على النبي عند أكل الأرز لأنه كان جوهرا في الجنة أودع الله فيه نور محمد صلى الله عليه وسلم فلما خرج منه النور تفتت فصار حبا وعن علي عن النبي صلى الله عليه وسلم كل شيء أخرجته الأرض داء وشفاء إلا الأرز فإنه شفاء لا داء فيه وعن علي في قوله تعالى لينظر أيها أزكى طعاما أنه الأرز في كتاب البركة عن النبي صلى الله عليه وسلم كلوا الأرز فإنه بركة

আমি ‘শারিয়াতুল ইসলামিয়া’ কিতাবে দেখেছি পছন্দনীয় কাজ হচ্ছে ভাত খাওয়ার সময় হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বেশি পরিমাণ পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠ করা, কারন এটা পাঠকারীর জন্য পবিত্র জান্নাতে মনিমুক্ত হিসাবে থাকবে। মহান আল্লাহ পাক সেখানে সম্মানিত নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জমা করে রাখবেন। অতপর সেখান থেকে নূর বের হবে তা মুহাব্বত আকারে বিচ্ছুরিত হতে থাকবে। হযরত আসাদুল্লাহিল গলিব, সাইয়্যিদুনা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, পৃথিবীর জমিনে যা কিছু উৎপন্ন হয় তার মধ্যে রোগও আছে সুস্থতাও আছে, একমাত্র ভাত ব্যতিত। ভাতের মধ্যে শুধুই শেফা রয়েছে কোন রোগ নেই। হযরত সাইয়্যিদুনা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন, সে (আছহাবে কাহাফের একজন) যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র” (সূরা কাহাফ আয়াত শরীফ নং ১৯) আর তা ছিলো ভাত। ‘কিতাবুল বারাকাতে’ হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণিত আছে, তোমরা ভাত খাও নিশ্চয়ই এতে বরকত রয়েছে।” (নুজহাতুল মাজালিস ২ম খণ্ড ১১১ পৃষ্ঠা)


নুজহাতুল মাজালিস ২/১১১


বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ইমাম সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘আল মাকাসিদুল হাসানা’ কিতাবে ‘দুনিয়া ও আখিরাতে শ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে গোশত’ এ হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে এর সমর্থনে আরেকটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন,

وله شواهد ، منها عن علي رفعه بلفظ : سيد طعام الدنيا اللحم ، ثم الأرز ، أخرجه أبو نُعيم في الطب النبوي ، وعن صهيب بلفظ : سيد الطعام في الدنيا والآخرة اللحم ، ثم الأرز ، وسيد الشراب في الدنيا والآخرة الماء ، أخرجه الديلمي من جهة الحكم ، ثم من طريق هشيم عن عبد الحميد بن صيفي بن صهيب ، عن أبيه عن جده به مرفوعا ،

এর শাওয়াহেদ বা সমর্থিত আরেকটি বর্ণনা যা সাইয়্যিদুনা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ধিত শব্দে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে, দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে গোশত, অতপর ভাত। এটা ইমাম আবু নুয়াইম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ত্বীব্বে নববী কিতাবে বর্ণনা করেছেন। হযরত ছুহাইব রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে এই শব্দে বর্ণনা এসেছে, দুনিয়া ও আখিরাতে শ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে গোশত এরপর ভাত। দুনিয়া ও আখিরাতে শ্রেষ্ঠ পানীয় হচ্ছে পানি। ইমাম দায়লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি এটা হিকামের ছুরতে বর্ণনা করেছে। অতপর তা হিশামের সনদে তিনি আব্দুল হুমাইদ ইবনে ছাইফি ইবনে ছুহাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে তিনি উনার দাদা থেকে মারফু সনদে বর্ণনা করেছেন। (মাকাসিদুল হাসানা ২৮৫ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বাইরুত- লেবানন)



মাকাসিদুল হাসানা ২৮৫ পৃষ্ঠা

ভাত খাওয়া সুন্নত এ পবিত্র হাদীছ শরীফ পেশ করার পর অনেকে জানতে চেয়েছেন এ হাদীছ শরীফের সনদ আছে কিনা? আমরা দেখেছি, ‘মাকাসিদুল হাসানা’ কিতাবে ইমাম দায়লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সনদে হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন। আজকের পর্বে আমরা দেখবো বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও হাফিজে হাদীছ আল্লামা আবু নুয়াইম আছবাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তীব্বে নববী কিতাবে পূর্ণ মারফূ সনদে ভাত খাওয়ার হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে উক্ত হাদীছ শরীফখানা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত বংশ পরম্পরায় ৭ জন ব্যক্তিত্ব মুবারক উনাদের মাধ্যমে বর্ণিত। সুবহানাল্লাহ! হাদীছ শরীফখানা হচ্ছে,

ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَامِرِ بْنِ الطَّائِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنِي عليُّ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ مُوسَى بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ مُحَمَّدِ بْنِ عليٍّ، عَنْ أَبِيهِ عليِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ الْحُسَيْنِ بْنِ عليٍّ، عَنْ أَبِيهِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَيِّدُ طَعَامِ الدُّنْيَا اللَّحْمُ ثُمَّ الأُرْزُ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ ইবনে উছমান তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আমের ইবনে ত্বয়ী থেকে তিনি উনার পিতা থেকে তিনি হযরত সাইয়্যিদুনা আলী ইবনে মুসা আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি উনার পিতা হযরত সাইয়্যিদুনা মুসা ইবনে জাফর আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি উনার পিতা হযরত সাইয়্যিদুনা জাফর ইবনে মুহম্মদ আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি উনার পিতা হযরত সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ইবনে আলী আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি উনার পিতা হযরত সাইয়্যিদুনা আলী ইবনে হুসাইন আলাইহিস সালাম থেকে, তিনি উনার পিতা হযরত সাইয়্যিদুনা হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিস সালাম উনার থেকে, তিনি হযরত সাইয়্যিদুনা আলী ইবনে আবী তালিব আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে গোশত এরপর ভাত। (তিব্বুন নববী ৭৩৫ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং ৮৪৯, লেখক: হাফিজুল হাদীছ আবু নুয়াইম আছবাহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৪৩০ হিজরী) ; প্রকাশনা: দারু ইবনে হাজম , বাইরূত- লেবানন)


তিব্বুন নববী ৭৩৫ পৃষ্ঠা


তিব্বুন নববী ৭৩৬ পৃষ্ঠা


ভাত সংশ্লিষ্ট পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ থেকে যে বিষয় সমূহ প্রমাণিত হলো,

১) হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ভাত খেয়েছেন।

২) হযরত ঈসা রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দোয়ার ফলে আসমান থেকে যে খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযিল হয়েছিলো সেখানেও ভাত ছিলো।

৩) আছহাবে কাহাফের জন্য যে খাবার আনতে বলা হয়েছিলো সেখানেও ভাত ছিলো।

৪) দুনিয়া ও আখিরাতে শ্রেষ্ঠ খাবার গোশত এরপরেই ভাত।

৫) ভাতের মধ্যে কোন রোগ নেই বরং শেফা রয়েছে।

৬) ভাতের মধ্যে বরকত রয়েছে।

৭) ভাত খাওয়ার সময় পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠ করলে, জান্নাতে পাঠকারীর জন্য তা মনিমুক্তা হয়ে থাকবে। সুবহানাল্লাহ !

     সূতরাং প্রমাণিত হলো ভাত একটি সুন্নতী খাবার। মহান আল্লাহ পাকের কাছে বেশুমার শুকরিয়া যে আমাদের বাঙালী জাতীর জাতীয় খাবার হচ্ছে ভাত। আমাদের বলা হয় মাছে ভাতে বাঙালী। মাছ খাওয়াও যেমন সুন্নত সেভাবে ভাত খাওয়াও পবিত্র সুন্নত। অর্থাৎ আমরা ৩ বেলা একটা সুন্নতী খাবার গ্রহনের মাধ্যমে আমাদের জীবন অতিবাহিত করে আসছি। সুবহানাল্লাহ।