রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০

তাওয়াক্কুল ছোঁয়াচে ও সেফটি ইকুইপমেন্টের সাথে কোরিলেশন তৈরী করা কি সম্ভব?


অনেকে প্রশ্ন করছেন মেনে নিলাম ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই। কিন্তু সর্তকতার জন্য সেফটি ইকুইপমেন্ট (মাষ্ক, গ্লাভস, পিপিই, হ্যান্ড সেনিটাইজার) ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবো না কেন?
নিজের দাবিকে পোক্ত করতে উনার দলীল হিসাবে হাদীছ শরীফও ও যুক্তিও দিচ্ছেন, "তোমরা উট বেঁধে তারপর তাওয়াক্কুল কর।” বা “মশা থেকে বাঁচার জন্যে মশারী কেন ব্যবহার করে মানুষ?

বুধবার, ২৪ জুন, ২০২০

সাইফুদ্দীন সিদ্দীকীর নামে প্রচারিত “আদ দাওয়াহ” কিতাবটি মারকাযু দাওয়ার আব্দুল মালেকের তত্ত্বাবধায়নে রচিত একটি জাল কিতাব

আদ দাওয়াহ কিতাব যে একটা জাল বই সেটা ইতিপূর্বেও প্রমান সহ দেখিয়েছি। বিভিন্ন অসঙ্গতি উল্লেখ করে অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছি বইটা ফুরফুরার সাইফুদ্দিন সিদ্দীকির নামে রচিত একটা জাল, বানোয়াট বই। যে অসঙ্গতিগুলো পেয়েছি সেগুলো সবগুলোই ছিলো এই বইটার ২য় সংষ্করনের। প্রথম থেকেই কেন যেন মনে হচ্ছিলো ১ম সংষ্করনটা পেলে হয়তো থলের বিড়ালটা বেরিয়ে আসতো। অনেক অনুসন্ধান করি, কোথাও এ বইটার ১ম সংষ্করনটা পাওয়া যাচ্ছিলো না। যাইহোক অনেক খোঁজার পর বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে এক দ্বীনি ভাই এগিয়ে আসেন। ‍তিনি বইটা কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেন।
যা ভেবেছিলাম তাই দেখতে পেলাম। ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে এই আদ দাওয়াহ কিতাবে। ১ম সংষ্করনের সাথে ২য় সংষ্করণের বিস্তর পার্থক্য। বিশেষ করে ২য় সংষ্করণের সর্বপ্রথম নূর বিষয়ে বিরোধিতা দেখে আমার সন্দেহ শুরুতেই ঘনিভূত হয়েছিলো। কারন যে সকল কিতাবের নাম ও লেখকদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে তা সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির ব্যবহার করার কথা না। মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানে ২য় সংষ্করন বের হয় যা সাইফুদ্দীন ‍সিদ্দীকির মৃত্যুর কয়েক মাস আগের। আর এ সময়কার সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির শারীরিক অবস্থা এমন ছিলো যে তার পক্ষে এই আধুনিক সময়কার কিতাব মুতায়ালা করার কথা চিন্তাও করা যায় না। মূল কথা হচ্ছে "আদ দাওয়াহ" কিতাবটা মূলত কিসের কিতাব একটু ভেবে দেখেছেন কি?
আসুন ফুরফুরার সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর ছেলে ইমরানুদ্দিন সিদ্দিকীর বক্তব্য দেখা যাক, "
... কাল হাশরের ময়দানে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হওয়া লাগতে পারে। আর এ কারনেই তিনি প্রনয়ণ করেছেন এ "অসিয়ত নামা"। অসিয়তের নাম রাখা হয়েছে "আদ দা'ওয়াতু ওয়াল ইরশাদ লিমান ইউরীদু সাবিলার রশাদ"। সংক্ষেপে "আদ দাওয়াহ"""।"" অর্থাৎ আমরা জানতে পারলাম "আদ দাওয়াহ" হচ্ছে অসিয়তের কিতাব কোন ফতোয়ার কিতাব নয়। অথচ এ অসিয়তের কিতাবে ৩৫২ পৃষ্ঠা ব্যাপী ফতোয়া দেয়া হয়েছে। এবার আসুন ৪ মাসের ব্যবধানে প্রকাশ হওয়া দুইটি সংষ্করণে কিরকম কারচুপী হয়েছে সেটার কিছু দেখে আসি-
আপনারা দেখেতে পাচ্ছেন “আদ দাওয়াহ” কিতাবে ২য় সংষ্করনের সূচিপত্রের ১০ নং পৃষ্ঠার ছবি। ছবিতে চিহিৃত “রাসূলে কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট (খলকী) নূর দ্বারা সৃষ্ট” এই পরিচ্ছেদের ঠিক পরে নূর সম্পর্কিত হযরত যাবের রদ্বিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস এর পর্যালোচনা” থেকে শুরু করে আল্লামায়ে হিন্দ রুহুল আমিন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতামত” পর্যন্ত ১১ টা পয়েন্ট লিখিত রয়েছে। এর পরের পরিচ্ছেদ হচ্ছে “তাহলে রাসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিসের সৃষ্টি”।
অথচ ১ম সংষ্করণের ৮ নং পৃষ্ঠায় সূচিপত্র দেখুন, “রাসূলে কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট (খলকী) নূর দ্বারা সৃষ্ট” এর পরে ১১ টা পয়েন্ট নেই সরাসরি “তাহলে রাসূলে করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিসের সৃষ্টি” এই পরিচ্ছেদ রয়েছে। অর্থাৎ প্রমাণ হলো জালিয়াতরা আদ দাওয়াহ বইয়ের ২য় সংষ্করনে এই ১১ টা পয়েন্ট মোট ১০ ‍পৃষ্ঠা সংযোগ করেছে। এখানে সিদ্দীক আল গুমারী, আব্দুল ফাত্তাহ আবুল গুদ্দাহ, আলী জুমুয়া ইত্যাদি সমসায়িক লেখকের অভিমত ঢুকানো হয়েছে। ইবনে সিদ্দীক আল গুমারী, তাহির ইবনে আশুর, ড. আলী জুমুয়া এই শ্রেনীর ফাসিক লোকদের (https://bit.ly/2TQOdEF) কথা দিয়ে দলীল দেয়া সাইফুদ্দীন সিদ্দীকর পক্ষে বেমানান। এটা দেখার পর কোনভাবেই কি আপনি বলতে পারবেন এটা জাল করা হয়নি? যদি কেউ বলে এটা জাল নয় তাকে চাঁদ দুই ভাগ করে দেখালেও মানবে না তাদের দলে তার অবস্থান।
শুধু তাই নয় ১ম সংষ্করণের সাথে ২য় সংষ্করনের সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির সিগনেচারও মিলছে না। আমি সিগনেচার বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপ করে এ বিষয়ে আরো নিশ্চিত হয়েছি। অর্থাৎ ২য় সংষ্করণের সিগনেচারটাও একটা জাল সিগনেচার। কেউ তার নামে দিয়ে দিয়েছে।


অর্থাৎ ২য় সংষ্করণের সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির জাল সিগনেচার দিয়ে কিছু বিষয়ে এরা হালাল করিয়ে নিতে চেয়েছে। সেটা হচ্ছে “আমি জেনে খুশি হয়েছি এক ঝাক মুহাক্কিক কিতাবী আলিম আমার দাওয়াহ কিতাবের আবেদন বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং বাতিলের মুখোশ উন্মোচনের জন্য ইতিমধ্যে কলম হতে নিয়েছেন। এর দ্বারা জালিয়াত গোষ্ঠী সাইফুদ্দীণ সিদ্দীকির নাম দিয়ে মারকাযু দাওওয়ার আব্দুল মালেকের ছাত্র মনিরুলের নূরের হাদীছকে জাল বানানোর সার্টিফিকেট দিয়ে ‍দিলো। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম ফুরফুরার কেউ করলো বরং আব্দুল মালেকের ছাত্র মাগুরা দরবারের মনিরুল ইসলাম নিজ কাঁধে দাওয়াহ কিতাবের বিরুদ্ধে কোন আপত্তি উঠলে তার জবাব দিতে উঠে পরে লাগছে। দুই খন্ড কিতাবও লিখে ফেললো। মার চাইতে যেন মাসির দরদ বেশি।
এবার আসুন ১ম সংষ্করনের ৫৭ পৃষ্ঠা থেকে ঘুরে আসা যাক। উক্ত পৃষ্ঠার ১৫ নং লাইন থেকে দেখুন, “তবে মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর একটা অংশ হারিয়ে গেছে, যাকে ‘জুযয়ে মাফকুদ’ বলা হয়। সেই হারানো অংশে হাদীসটি থাকার সম্ভাবনা প্রবল। যতদিন পর্যন্ত …… ”


এবার আসুন ২য় সংষ্করনে, ১ম সংষ্করনের উপরোক্ত আলোচনার আগে আরো ১০ পৃষ্ঠা সংযুক্ত হয়েছে এরপর ৭০ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে, “তবে মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক এর একটা অংশ হারিয়ে গিয়েছে বলে কথিত আছে। সেই হারানো অংশে হাদীসটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কেউ কেউ বলেন।””


আপনারাই দেখতে পেলেন দুই বইয়ের ভাষ্যই অমূল পরিবর্তন। ১ম সংষ্করনে বলা হচ্ছে মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাকরে হারিয়ে যাওয়া অংশে হাদীসটি থাকার সম্ভাবনা প্রবল। অথচ ২য় সংষ্করনে সর্ম্পূণ পরিবর্তন করে লেখা হলো হারানো অংশে হাদীসটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে কেউ কেউ বলেন। কি বোঝা যায়? জালিয়াতির আলামত চোখে পড়ে?
আদ দাওয়াহ কিতাবের ২য় সংষ্করন ৩১৮ পৃষ্ঠায় আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের জালিয়াতি প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছে “ ড: আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এদেশের মুসলমানদেরকে ওহাবী তথা লা-মাযহাবী কথিত আহলে হাদীস বানানোর চরমতর ধোঁকার আশ্রয় নিয়েছেন।”


আমাদের প্রশ্ন এদেশের বলতে কোন দেশের ? আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ছিলো বাংলাদেশের। আর সাইফুদ্দীন সিদ্দীকি ছিলো ভারতের। যদি ভারতে বসে এ দেশ বলা হয় তাহলে তথ্য ভুল। কারন আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর ভারতীয় না। এদেশ বলতে মূলত বাংলাদেশই বোঝানো হচ্ছে। কারন বইটা মূলত বাংলাদেশে বসে মাগুরার মনিরুল ইসলাম আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে লিখেছে। তাই জালিয়াতি করতে গিয়ে কিছু আলামত রেখে গিয়েছে। ভুলে বাংলাদেশে লেখা বাদ দিয়ে এদেশে লিখে ফেলেছে।
এরপর চলে আসুন ১ম সংষ্করন ৩২০ পৃষ্ঠা ও ২য় সংষ্করনে ৩৩৪ পৃষ্ঠা থেকে ঘুরে আসা যাক। এখানে সাইফুদ্দিন সিদ্দীকির কিছু সংক্ষিপ্ত অসিয়ত লেখা হয়েছে। ১ম সংষ্করন ও ২য় সংস্করনের ২০ নং অসিয়ত পর্যন্ত ঠিকই আছে। কিন্তু ২য় সংষ্করনে ২১ নং অসিয়ত নতুন একটা সংযুক্ত করা হয়েছে। হয়ে গেলো একটা কমবেশি।




এভাবে চলতে চলতে ১ম সংষ্কনের ৩২ নং এবং ২য় সংষ্করনের ৩৩ নং অসিয়তের পর আবারো ২য় সংষ্করনে ৩৪, ৩৫, ৩৬ নং অসিয়ত নামে নতুন ৩ টা অসিয়তের অনুপ্রবেশ ঘটে গেলো।




ফলাফল হলো ১ম সংষ্করণের শেষ অসিয়ত ৩৩ নম্বর। আর ২য় সংষ্করনের শেষ অসিয়ত নম্বর ৩৭।



৪ টা সংযুক্ত হয়ে গেলো। কি অদ্ভুত! এক সংষ্করনের ব্যবধানে অসিয়তই যে বৃদ্ধি পায় জানা ছিলো না। শুধু তাই না দুইটা সংষ্করনের শেষ অসিয়ত মিলিয়ে দেখুন সেখানেও কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যারা “আদ দাওয়াহ” কিতাবটা পড়েছেন সেই সাথে সাইফুদ্দীন সিদ্দীকি বা পশ্চিম বংলার যেকোন লেখকের বই পড়ুন ভাষাগত পার্থক্য দেখেই যা বোঝার বুঝে নিতে পারবেন। যেমন সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির একটা বই “মিনহাজুস সালেকীন” বইয়ের ভাষা গুলো দেখুন "মোহাদ্দেস" , "এহিয়া", "এবনে তাইমীয়া", "মসনদ"... (এ বানানের ধরন পশ্চিম বঙ্গের বসবাসকারীদের)
এবার আদ দাওয়াহ কিতাব দেখেন - ৬০ থেকে ৭০ পৃষ্ঠা পড়েন" এর মধ্যেই পেয়ে যাবেন "মুহাদ্দীস", "ইয়াহিয়া", "ইবনে তাইমিয়া" , "মুসান্নাফ" ইত্যাদি সহ আরো শব্দ (যা বাংলাদেশে ব্যবহার করা হয়)
প্রশ্ন চলে আসে বয়োঃবৃদ্ধ সাইফুদ্দিন সিদ্দকীর হঠাৎ করে ভাষাগত এ পরিবর্তন চলে আসে কিভাবে? যেখানে তার ছেলের ভাষাও পশ্চিমবঙ্গের সূর সেখানে বয়োঃবৃদ্ধ সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর ভাষা বাংলাদেশের মত হয়ে গেলো জীবনের শেষ মুহূর্তে আশ্চর্য নয়কি? আদ দাওয়াহ পুরা বইটাই বাংলাদেশের ভাষাশৈলী ব্যবহার করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে বলেছিলাম ফুরফুরা সিলসিলার সাইফুদ্দিন সিদ্দিকীর নামে "আদ দাওয়াহ" কিতাবটা আব্দুল মালেকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে লেখা। অনেকেই আমার সাথে একমত হতে পারেন নাই। একমত দ্বিমতে কিছু যায় আসে না বাস্তবতা এটাই।
একটা প্রমাণ আমি আপনাদের সন্মুখে পেশ করছি।
১) আব্দুল মালেকের তত্ত্বাবধানে লেখা "প্রচলিত জাল হাদীসের" ২২০ পৃষ্ঠার চিহ্নিত অংশ লক্ষ্য করুন। নূর বিষয়ে ৫ টা হাদীছ শরীফ সিরিয়াল সহ দেখুন।




২) এবার "আদ দাওয়াহ" কিতাব খুলুন। উক্ত কিতাবের ৬১ পৃষ্ঠার চিহ্নিত অংশটা দেখুন। আব্দুল মালেকের বইতে যে সিরিয়ালে যে হাদীছ গুলো আছে সেটা হুবুহু এখানেও পাবেন। এমনকি ব্রকেটের ( ) এর মধ্যে "(সৃষ্টি)" শব্দটিও হুবুহ পাবেন।


অর্থাৎ প্রমাণ হলো, চোর চুরি করলে কিছু আলামত রেখে যাবে। এই কিতাবদ্বয়েও সে আলামত স্পষ্ট। অর্থাৎ আব্দুল মালেকের ছোঁয়া "আদ দাওয়াহ" কিতাবে বিদ্যমান। বোঝা যায় "আদ দাওয়াহ" কিতাব ফুরফুরা সিলসিলার কোন কিতাব নয় এটা ওহাবী আব্দুল মালেকের শাগরেদ দ্বারা লিখিত একটা বই।
সূতরাং প্রমাণ হলো ১ম সংষ্করন ও ২য় সংষ্করনে বিস্তর ইফরাদ তাফরীদ। বোঝাই যাচ্ছে ইচ্ছামত কারচুপি হয়েছে।
সম্পূর্ণ বিষয়টা বুঝতে এই লেখাগুলো আপনাকে অবশ্যই আবারো পড়তে হবে:
১) মারকাযুদ দাওয়ার আব্দুল মালেকের সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র https://tinyurl.com/y8j26wjb
২) মারকাযুদ দাওয়ার আব্দুল মালেকের বই থেকে হুবুহু কপি পেষ্ট “আদ দাওয়াহ” কিতাবে https://tinyurl.com/ycoou2v6
৩) আব্দুল মালেকের ছাত্র মাগুড়া দরবারের মনিরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার প্রমাণ https://tinyurl.com/y7sktxuf
৪) মারকাযু দাওয়ার আব্দুল মালেক মনিরুলের দরবার ভিত্তিক কানেকশন https://tinyurl.com/ya2dwrcy
৫) সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির পিতা হযরত আবু জাফর রহমতুল্লাহি আলাইহির আকীদা কি ছিলো https://tinyurl.com/ycxxk7bf, https://tinyurl.com/yb2flqyl
৬) ফুরফুরার ঐক্যমত্য কোন বিষয়ে https://tinyurl.com/ybbaejbl
৭) সর্বপ্রথম সৃষ্টি বিষয়ে সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির আকীদা তার কিতাব থেকে https://tinyurl.com/ycxxk7bf
৮) স্বয়ং এই আদ দাওয়াহ বইটাই সাইফুদ্দীন সিদ্দীকির অসিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক https://tinyurl.com/y7rx5ewc
৯) যে ফুরফুরা সিলসিলার ফতোয়া হচ্ছে ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য ছুড়ে ফেলতে হবে সেখানে আদ দাওয়াহ কিতাবে ইবনে তাইমিয়ার দলীল কি প্রমাণ করে https://tinyurl.com/yc9ly65b
১০) অসিয়তের কিতাব কি ৩৫২ হতে পারে ? https://tinyurl.com/ybfqhun7
১১) এই প্রশ্নের জবাবও কোন দাওয়াহ নামক জাল কিতাবের সমর্থনকারী দিতে পারে নাই https://tinyurl.com/ydgu692l
উপসংহার: সিলসিলায়ে ফুরফুরার আক্বীদা ও আমল হযরত মুজাদ্দিদে যামান হযরত আবু বকর সিদ্দীক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত ও পথ, উনার খলীফা ও ৫ আওলাদের মত ও পথের উপর প্রতিষ্ঠিত। হঠাৎ করে ভুইভোঁড়ের মত কেউ উদয় হয়ে যদি আকাবীরে ফুরফুরার মত ও পথকে বির্তকিত করতে চাইলেই কি সমগ্র জগতে সমাদৃত ফুরফুরার আকীদাকে বাদ দিয়ে সেই ভুঁইফোড়কে মেনে নিতে হবে? ৪০ টি হাদীছ শরীফের কিতাবের সনদপ্রাপ্ত মুজাদ্দিদে জামান আবু বকর সিদ্দীক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হাফিজে হাদীছ রুহুল আমিন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি, মুফতীয়ে আযম আবু জাফর সিদ্দীক রহমতুল্লাহি আলাইহি, বিখ্যাত আলেম নিছারুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, পরবর্তীতে সাইফুদ্দীন সিদ্দীকী নিজেও সর্বপ্রথম সৃষ্টি নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ আকীদা পোষন করতেন। তাহলে আজ যারা এ হাদীছকে জাল প্রমাণ করার জন্য ওহাবী মৌলবীদের সাথে হাত মিলিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে পূর্ববর্তী আকবীরদের অপমান করা ও বির্তকিত করা। এটা এখন না বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে রয়েছে ভয়ানক দুর্ভোগ । সূতরাং হে ফুরফুরার অনুসারিরা এখনি সাবধান হোন, দুশমনকে চিহিৃত করুন। সিলসিলাকে বির্তকিত হতে দিবেন না।

ফেসবুক মুফতীরা পূর্ববর্তী ইমামদের চাইতে যখন বেশি বোঝে তখন প্রচন্ড হাসি পায়



যদি আপনার ছিয়াহ ছিত্তাহ, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, মুসনাদে আব্দুর রাজ্জাক, মুসনাদে আহমদ, আবু ইয়ালা, সুনানে দারা কুতনী, বায়হাকী, ইবনে হিব্বান এমন আরো কিছু কিতাবের সব হাদীছ মুখস্ত থাকে.
যদি আপনার দখলে তাহযিবুল কামাল, তারীখুল কবীর, তাহযীবুত তাহযীব, তাকরীবুত তাহযীব, মিযানুল এতেদাল সহ আরো কিছু আসমাউর রেজালের রাবীদের ইতিহাস মুখস্ত থাকে…………
যদি আপনার উছূলে হাদীছ ও হাদীছের ব্যাখ্যার জ্ঞান থাকে…….
যদি আপনার ইবনে ইসহাক, তাবারী, ইবনে আছীর, ওফিয়াতুল আইয়ান, তারীখুল ইসলামিয়া, বিদায়া ওয়ান নিহায়া সহ ইসলামি ইতিহাসের ধারাবহিক ইতিহাস মুখস্ত থাকে……
যদি আপনার কুরআন শরীফের ৬৬৬৬ টি আয়াতের প্রতিটি আয়াতে কোন সাহাবী কি বলেছেন, কোন তাবেয়ী কি বলেছেন এমন জ্ঞান থাকে…….
যদি আপনার ইসলামের প্রতিটি শরিয়তী মাসায়ালা ফিক্বহী জ্ঞান অর্থাৎ কুরআন শরীফ ও এর তাফসীর থেকে এবং লক্ষ লক্ষ হাদীছ শরীফ থেকে মাসায়ালা বের করে জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি আমল, শরীয়তের হুকুম, বৈধ অবৈধ, ব্যবসা বানিজ্য , বিয়ে তালাক সবকিছুর বিধি বিধান বের করার জ্ঞান থাকে ……
সেই সাথে আপনার যদি থাকে ইলমে তাছাউফের চর্চা………
এরকম ইলমি ব্যাপ্তী যদি আপনার থাকে তাহলে আপনি কতবড় জ্ঞানী সেটা কি ভাবতে পারছেন? এমন আলেম কয়জন আছেন?

বর্তমানে প্রায় সব কিতাব বিষয় অনুযায়ী সুন্দর সুন্দর বাধাঁই আকারে হাতের নাগালে পাওয়া যায়, কেউ কিতাব সংগ্রহ করতে না পারলে “শামেলা” সফটওয়ারে সার্চ করলেই ১৫/২০ হাজার কিতাবের বিশাল সমাহারে এক ক্লিকে আপনার কাঙ্খিত চাহিদা পুরন হয়ে যাচ্ছে। এত সুবিধা থাকার পরও কোন একটা দলীল বের করতে মাথার ঘাম পায়ে পরার অবস্থা। তারপরও দু এক ফোঁটা বিদ্যা নিয়ে সে কি হম্বি-তম্বি। না জানি কত বড় হাতি ঘোড়া হয়ে গেছে এক এক জন।
অথচ পূর্ববর্তী উলামায়ে কিরাম উনাদের জীবনীর দিকে লক্ষ্য করেন। একটা হাদীছ শরীফ জানার জন্য শতশত মাইল পায়ে হেঁটেছেন। কোন এক আলেমতো উনার মায়ের দেয়া ১০০ টি রুটি সম্বল করে ইলিম অর্জন করতে বের হলেন। প্রতিদিন দাজলা নদীর পানিতে ১ টা করে রুটি ভিজিয়ে খেতেন হাদীছ হাদীছের জ্ঞান অর্জন করতেন। ১০০ টা রুটি ১০০ দিনে শেষ উনারও লক্ষাধিক হাদীছ মুখস্ত করা শেষ।
আরেকজন আলেম ১ দিরহাম বন্ধক রেখে প্রতিদিন ১ করে ৩০ দিনে ৩০ টা রুটি পেলেন, ৩০ দিনে ৩০ খন্ড কিতাব রচনাও সমাপ্ত হয়ে গেলো।
ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে পরীক্ষা করার জন্য অনেকগুলো হাদীছের সনদ মতন পরিবর্তন করে উনার সামনে দেয়া হলো। উনি প্রতিটা হাদীছ সঠিক সনদ ও মতনে আলাদা করে বর্ণনা করে দিলেন চোখের পলকে। যা দেখে সবাই হতবাক হয়ে গেলো।
ইমাম ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যখন জীবনে শেষ সময়, বার বার জ্ঞান চলে যাচ্ছিলো। জ্ঞান ফেরার পর উনার এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন এ মাসায়ালার বিষয়ে তোমার অভিমত কি? ইলমের প্রতি উনার কতটা ব্যকুলতা ভেবে দেখেন।
ইমাম ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সন্তান মারা গেলো। কাফন দাফনের কাজে আনজাম দিতে গেলে হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমি দরসের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হবেন চিন্তা করে কাফন দাফনের কাজে যাননি।
হযরত ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের ওস্তাদ উবাইদ ইবনে ইয়াইশ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একাধারে ৩০ বছর নিজ হাতে রাতের খাবার খাননি। কারন খেতে গেলে ওই সময়টুকু ইলিম অর্জন করতে পারবেন না। তাই উনার বোন উনাকে খাইয়ে দিতেন আর তিনি হাদীছ শরীফ লিখে যেতেন।
আবু বকর ইবনে খাইয়াত তিনি আরবী ব্যকরনের ইমাম ছিলেন। তিনি যখন রাস্তায় হাঁটতেন তখনও পড়তেন। একারনে তিনি মাঝে মাঝে রাস্তার গর্তেও পড়ে যেতেন বিভিন্ন বাহনের সাথেও ধাক্কা খেতেন। তারপরও তিনি জ্ঞান অর্জন চালিয়েই যেতেন।
ইমাম দাউদ তায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি রুটির পরিবর্তে ছাতু গুলিয়ে পান করতেন। তিনি নিজেই বলেন রটি খাওয়া আর ছাতু গুলিয়ে খাওয়ার যে সময়ের ব্যবধান এ সময়ে ৫০ আয়াত শরীফ তেলাওয়াত করা যায়।
ইমাম ইবনে জাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাতী বলেন, আমি আমার নানাজানকে শেষ বয়সে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি ‘আমি আমার এই আঙ্গুল দিয়ে দুই হাজার খন্ড কিতাব লিখেছি’।
ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, খাওয়ার সময়ের জন্য বড় আফসোস হয়, কারন এ সময়টা ইলমি মগ্নতা ছাড়া কেটে যায়।
ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, দু’বছর আমার পিঠ বিছানার স্পর্শ লাভ করেনি।
এরকম আরো শতশত ঘটনা ইমামদের জীবনীতে বর্ণিত আছে। উনাদের কাছে আমাদেরমত রেডিমেড ‍কিতাব ছিলো না, শামেলা সফটওয়ার ছিলো না। তারপরও আমরা উনাদের ধারের কাছে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারি না। লক্ষ লক্ষ হাদীছ উনাদের হিফজে ছিলো, রাবীদের জীবনী মুখস্ত ছিলো, ইতিহাস জানা ছিলো। উনাদের মেধার মোকাবেলায় শামেলা বা গুগল হাস্যকর লাগে। শামেলায় সার্চ করতে যত সময় লাগে অথচ উনাদের জবান মুবরাক থেকে দলীল বের হতে তত সময় লাগতো না।
আজ উনারাই সমালোচনার পাত্র। ফেবু মুফতীদের কিবোর্ডের তুফান দেখে মনে হয় তারাই আলেমকুলের শিরোমনি। কিয়ামতের একটা আলামত হচ্ছে, পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সমালোচনা করবে। সেটাই দেখা যাচ্ছে।

ইসলামে ছোঁয়াচে রোগের প্রতি বিশ্বাস রাখা হারাম ও শিরক



বর্তমান সময়ে করোনা নামক গজবকে কেন্দ্র করে মুসলমান নামধারী কিছু মানুষ ছোঁয়াচে রোগের কথা সমাজে খুব প্রচার করছে। এরা ছোঁয়াচে রোগের কথা বলে পবিত্র মসজিদে নামায বন্ধের মত কাজও করে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। তাদের এই ঈমান ধ্বংসী ফতোয়াতে বিভ্রান্ত হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঈমান নষ্ট করছে। নাউযুবিল্লাহ। তাই মুসলমানদের এ বিষয়ে কি আক্বীদা থাকা দরকার সে বিষয়ে পবিত্র শরীয়ত কি বলে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হলো,

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৯

হানাফী মাযহাবে আটার মূল্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর অকাট্য দলীল


সালাফী লা’মাযহাবীরা পবিত্র সদকাতুল ফিতর বিষয়ে হানাফী মাযহাবের বিরোধীতা করে। তারা বলে হানাফী মাযহাবে নাকি মনগড়া ফিতরার বিধান রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ। হানাফী মাযহাবে ফিতরার বিষয়ে সহীহ কোন হাদীছ শরীফ নাকি নাই। নাউযুবিল্লাহ। এছাড়া তাদের আপত্তি সমূহ নিম্নরূপ:

১) অর্ধ সা’ গম বা আটা দিয়ে ফিতরার কোন দলীল নেই।
২) টাকা দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে না সরাসরি খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে।
৩) স্থানীয় এলাকার ফসল দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে, যেমন বাংলাদেশের জন্য চাউল।

বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৯

পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখ পবিত্র মি’রাজ শরীফের আমল ও রোযার বিষয়ে বিরোধিতাকারীদের আপত্তির জবাব



লা’মাযহাবীরা  পবিত্র ২৭ রজব তথা পবিত্র মি’রাজ শরীফের রাতে ইবাদত ও দিনে রোযা রাখার বিরোধিতা করে। তারা বলে- সুন্নীদের কাছে নাকি ‘গুন্ইয়াতুত তালিবীন’ ও ‘মাছাবাতা বিস সুন্নাহ’ ছাড়া আর কোনো কিতাবের দলীল নেই। নাউযুবিল্লাহ! আজকে আমরা দেখবো ‘গুন্ইয়াতুত তালিবীন’ ছাড়াও আরো অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফের দলীল মওজুদ আছে। সুবহানাল্লাহ! যদিও ঈমানদারদের জন্য ‘গুন্ইয়াতুত তালিবীন’ কিতাবই আমলের দলীল হিসাবে যথেষ্ট।
প্রথমেই যে বিষয়টা জানা দরকার সেটা হচ্ছে- পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ কোনটি? সালাফী লা’মাযহাবীদের অন্যতম মান্য আল্লামা হযরত হাফিজ ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ বিষয়ে বলেন,

أَنَّ الْإِسْرَاءَ كَانَ لَيْلَةَ السَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ رَجَبٍ.

অর্থ: অবশ্যই মি‘রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছে পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখ। (বেদায়া ওয়ান নিহায়া লি ইবনে কাছীর- ৩য় খন্ড ১৩৫ পৃষ্ঠা পৃ. দারু ইহ্য়িাউত তুরাস আল আরাবী, বয়রুত লেবানন)

হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আরেকটি মশহুর কিতাব সিরাতুন নববীয়ার ২ খন্ড ৯৩ পৃষ্ঠাতেও এই বর্ণনা করেছেন।
পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফের কিতাব থেকে সনদসহ পবিত্র ২৭ রজব শরীফ বা মিরাজ শরীফের আমল ও রোযার পর্যালোচনা উল্লেখ করা হলো-

  أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، حَدَّثَنِي أَبُو نَصْرٍ رَشِيقُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرُّومِيُّ إِمْلَاءً مِنْ كِتَابِهِ بالطَّابِرانِ، أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِدْرِيسَ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْهَيَّاجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فِي رَجَبٍ يَوْمٌ وَلَيْلَةٌ مَنْ صَامَ ذَلِكَ الْيَوْمَ، وَقَامَ تِلْكَ اللَّيْلَةَ كَانَ كَمَنْ صَامَ مِنَ الدَّهْرِ مِائَةَ سَنَةٍ، وَقَامَ مِائَةَ سَنَةٍ وَهُوَ ثَلَاثٌ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ.

অর্থ: হজরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী রাদিয়াল্লাহু আনহু  থেকে  বর্ণিত। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, রজব মাসে এমন একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে, যিনি এদিন রোযা রাখবেন, আর রাত জেগে ইবাদত করবেন, তবে তিনি যেন ১০০ বছরের রোযা রাখলেন এবং ১০০ বছরের রাত জেগে ইবাদত করলেন, আর তা হচ্ছে পবিত্র রজব উনার ২৭ তারিখ। সুবহানাল্লাহ! (শোয়াবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী- বাবু তাকছিছু শাহরী রজব বিয যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৫পৃ, হাদিস-৩৫৩০, ফাদ্বায়িলুল আওকাত লিল বায়হাক্বী ১/৯৬, জামিউল আহাদীছ ১৪/৪৯৬: হাদীছ ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীছ ৩৫১৬৯,  জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড, নেদায়ে রাইয়ান ফি ফিক্বহিস সওমে ওয়া ফদলী রমাদ্বান ১/৪২১)

হাদীছ শরেীফের বিখ্যাত ইমাম হযরত বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সনদ সহকারে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন,
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو صَالِحٍ خَلَفُ بْنُ مُحَمَّدٍ بِبُخَارَى، أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ خَلَفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى وَهُوَ الْغُنْجَارُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبَانَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: " فِي رَجَبٍ لَيْلَةٌ يُكْتَبُ لِلْعَامِلِ فِيهَا حَسَنَاتُ مِائَةِ سَنَةٍ، وَذَلِكَ لِثَلَاثٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ، فَمَنْ صَلَّى فِيهَا اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً يَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ يَتَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ، وَيُسَلِّمُ فِي آخِرِهِنَّ، ثُمَّ يَقُولُ: سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَسْتَغْفِرُ اللهَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ، وَيَدْعُو لِنَفْسِهِ مَا شَاءَ مِنْ أَمْرِ دُنْيَاهُ وَآخِرَتِهِ، وَيُصْبِحُ صَائِمًا فَإِنَّ اللهَ يَسْتَجِيبُ دُعَاءَهُ كُلَّهُ إِلَّا أَنْ يَدْعُو فِي مَعْصِيَةٍ "

অর্থ: পবিত্র রজব মাসে একটি রাত আছে সে রাতের আমলকারীর সমস্ত আমলের ছওয়াব ১০০ গুণ করে লিপিবদ্ধ করা হয় সে রাতটি হলো পবিত্র ২৭শে রজব। যে ব্যক্তি ওই রাতে ১২ রাকায়াত নামায আদায় করবে যাতে পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ সহ অন্য কোনো পবিত্র আয়াত শরীফ পাঠ করবে প্রতি দু’রাকায়াতে তাশাহুদ (পবিত্র দুরূদ শরীফ ও দুয়ায়ে মাছুরাসহ) পাঠ শেষে সালাম ফিরাবে। এবং নিম্নোক্ত দুআ ১০০ বার পাঠ করবে,
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ
অতপর ১০০ বার ইস্তেগফার পাঠ করবে অতপর ১০০ বার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। ওই ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণকর যত দোয়া করবে এবং সকালে রোযাদার অবস্থায় অবস্থান করবে তার সকল দোয়াই কবুল করা হবে, শুধুমাত্র গুনাহের কাজের জন্য দোয়া ব্যতীত। সুবহানাল্লাহ। (শোয়াবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী- বাবু তাকছিছু শাহরী রজব বিল যিকরী, ৫ম খন্ড ৩৪৬ পৃ, হাদিস-৩৫৩১, ফাদ্বায়িলুল আওকাত লিল বায়হাক্বী ১/৯৭ : হাদীছ ১২, তাবয়িনুল আযাব বিমা উরিদা ফি ফাদলি রজব ১/৩১, জামিউল আহাদীছ ১৪/৪৯৬ : হাদীছ ১৪৮১২, কানযুল উম্মাল ১২/৩১২: হাদীছ ৩৫১৭০, জামেউ জাওয়ামে ১ খন্ড বাবু হারফূ ফা, আসারুল মারফুয়া  ১/৬১ , তানযিয়াতু শরীয়াতিল মারফুয়া ২/৮৯)

সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুনা মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “গুন্ইয়াতুত তালিবীন” নামক কিতাবে পবিত্র শবে মি’রাজ তথা পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের রোযার ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফগুলো বর্ণনা করেছেন যার সমর্থন ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত জালালুদ্দীন সূয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের কিতাব থেকেও পাওয়া যায়,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ من صام يوم السابع والعشرين من رجب كتب له ثواب صيام ستين شهرا.
অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি রজবুল হারাম শরীফ মাসের ২৭ তারিখে দিবাভাগে রোযা রাখবে তার আমলনামায় ৬০ মাসের রোযা রাখার ছওয়াব লেখা হবে। সুবহানাল্লাহ! (আল ইতহাফ ৫ম খ- পৃষ্ঠা ২০৮, আল মা’য়ানী আনিল হামলিল ইসফার প্রথম খ- ৩৬৭ পৃষ্ঠা, গুনিয়াতুত্ তালিবীন, ক্বিসমুস্ ছায়ালিস ৩৩২ পৃষ্ঠা)

এ প্রসঙ্গে উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত আছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَحَضْرَتْ سَلْمَانْ الفَارِسِىْ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ان فى رجب يوما و ليلة من صام ذالك اليوم وقام تلك اليلة كان له من الاجر كمن صام مأة سنة وقامهما وهى لثلاث بقين من رجب.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা উভয়েই বর্ণনা করেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ মাসের এমন একটি দিন ও রাত আছে ওই রাত্রে যে ব্যক্তি ইবাদত-বন্দেগী করবে এবং দিবাভাগে রোযা রাখবে তার আমলনামায় ওই পরিমাণ ছওয়াব লেখা হবে যে পরিমাণ ছওয়াব কোনো ব্যক্তি একশত বছর রাতে ইবাদত-বন্দেগী করলে এবং একশত বছর দিনের বেলায় রোযা রাখলে তার আমলনামায় যেরূপ ছওয়াব লেখা হয়। আর সেই  রাত ও দিনটিই হচ্ছে রজবুল হারাম শরীফ মাসের ২৭ তারিখ তথা পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফের রাত ও দিনটি।” সুবহানাল্লাহ!

সুতরাং গুন্ইয়াতুত তালিবীন কিতাবে আছে কিন্তু অন্য কোনো হাদীছ শরীফের কিতাবে নেই বলে উড়িয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। গাউছুল আযম, সাইয়্যিদুনা মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহীহ হাদীছ শরীফে আছে বিধায় উনার কিতাবে বর্ণনা করেছেন। আর গাউছুল আযম সাইয়্যিদুনা বড়পীর ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমে হাদীছের ইলিম কত যে গভীর, সেটা বিরোধিতাকারীদের জানার কথা নয়। সাইয়্যিদুল আউলিয়া, মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাগদাদের সেই বিখ্যাত ‘নিজামীয়া মাদরাসা’য় লিখা পড়া করেছেন। উনার সীরাত মুবারকে বর্ণনা আছে- তিনি উক্ত মাদরাসায় ১৩টা বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের ইলম অর্জন করেন।
উনাকে যখন হাদীছ শরীফের সর্বোচ্চ সনদপত্র দেয়া হয়, তখন বিশ্ব বিখ্যাত মুহাদ্দিস মুয়াল্লিমগণ উনাকে বলেন, “হে আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি! হাদীছ শরীফ শাস্ত্রে সনদ দানের এই নিয়ম অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আপনাকে সনদ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে, হাদীছ শস্ত্রের ব্যাখ্যা, এর মর্ম উদঘাটন, যাবতীয় বিষয়ে আমরাই আপনার দ্বারা উপকৃত হয়েছি। আপনার সুগভীর ইলম ও প্রতিভা, যুক্তি এবং অনুসন্ধিৎসার ফলে হাদীছ শাস্ত্র নতুনভাবে আমাদের জ্ঞানের আলো প্রদান করলো।” (দলীল: সীরাতে মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

সুতরাং গাউছুল আযম সাইয়্যিদুনা মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমে হাদীছ সর্ম্পকে কথা বলার কোনো সুযোগই নাই।

পবিত্র রজব মাসের ২৭ তারিখের রোযা সর্ম্পকে আরো অনেক বর্ণনা অসংখ্য কিতাবের মধ্যে রয়েছে, সেখান থেকে কতিপয় বর্ণনা উল্লেখ করা হলো-
عن عامر بن شبل الحرمى سمعت رجلا يحدث : أنه سمع أنس بن مالك يقول فى الجنة قصر لا يدخله إلا صوام رجب (ابن شاهين فى الترغيب)
অর্থ: হযরত আমর ইবনে শুবল হারামি বলেন আমি এক ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, যেখানে পবিত্র রজব মাসের বিশেষ দিন (তথা ২৭ রজব) রোযদার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (জামিউল আহাদীছ লিস সূয়ুতী ৩৩/৬৪ : হাদীছ ৩৫৭৯২)

عن عامر بن شبل الحرمي سمعت رجلا يحدث أنه سمع أنس بن مالك يقول: "في الجنة قصر لا يدخله إلا صوام رجب". "ابن شاهين في الترغيب
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, যেখানে পবিত্র রজব মাসের বিশেষ দিন তথা ২৭ রজব রোযাদার ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। (কানযুল উম্মাল ৮/৬৫৩: হাদীছ ২৪৫৮২)

وأخرج البيهقي والأصبهاني عن أبي قلابة رضي الله عنه قال : في الجنة قصر لصوام رجب
অর্থ: হযরত আবু কিলাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বিশেষ বালাখানা রয়েছে, পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) এর দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বিশেষ বালাখানা  দেয়া হবে। (আদ দররুল মানছুর লি সুয়ূতী ৭/৩৪৪)

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الْحَافِظُ، وَأَبُو مُحَمَّدِ بْنُ أَبِي حَامِدٍ الْمُقْرِئُ، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ هُوَ الْأَصَمُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْبُرُلُّسِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ شِبْلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا قِلَابَةَ يَقُولُ: " فِي الْجَنَّةِ قَصْرٌ لِصُوَّامِ رَجَبٍ " . قَالَ أَحْمَدُ: " وَإِنْ كَانَ مَوْقُوفًا عَلَى أَبِي قِلَابَةَ وَهُوَ مِنَ التَّابِعِينَ، فَمِثْلُهُ لَا يَقُولُ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ بَلَاغٍ عَمَّنْ فَوْقَهُ مِمَّنْ يَأْتِيهِ الْوَحْيُ، وَبِاللهِ التَّوْفِيقُ
হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি আবু কিলাবা রদ্বিয়াল্লাহু উনার ছহীহ সনদে বর্ণনা করেন, জান্নাতে একটি বিশেষ বালাখানা রয়েছে। পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) এর দিনে রোযা পালনকারীদেরকে বিশেষ বালাখানা  দেয়া হবে। (শুয়াবুল ঈমান লি বায়হাকী ৫/৩৩৭: হাদীছ ৩৫২১)

أخبرنا أبو نصر بن صاعد الحوشي، ثنا محمد بن يعقوب، ثنا إبراهيم بن سليمان، ثنا عبد الله بن يوسف، ثنا عامر بن شبل قال: سمعت أبا قلابة يقول:
في الجنة قصر لصوام رجب
বিখ্যাত কিতাব “তারগীব ওয়াত তারহীবে” ভিন্ন সনদে বর্ণিত আছে , জান্নাতে একটি বিশেষ বালাখানা রয়েছে। পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) র দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বিশেষ বালাখানা  দেয়া হবে। (তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩৯২: হাদীছ ১৮৪৮, ফায়দ্বুল কাদীর শরহে জামিউছ ছগীর ৪/২৭৭)

عن حضرت أبى قلابة قال : فى الجنة قصر لصوام رجب (ابن عساكر)
হযরত আবু কিলাবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, পবিত্র রজব (২৭ তারিখ) র দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বালাখানায় দেয়া হবে। (জামিউল আহাদীছ লি সুয়ূতী ৪০/২৮৩ : হাদীছ ৪৩৯৫০, আল হাউয়ি লিল ফতোয়া ২/১৭১)

عن أبي قلابة قال: "في الجنة قصر لصوام رجب"
বিখ্যাত কিতাব “ কানযুল উম্মালে” বর্ণিত আছে, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে পবিত্র রজব এর দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বালাখানায় দেয়া হবে। (কানযুল উম্মাল ৮/৬৫৩: হাদীছ ২৪৫৮১)

قال عامر بن شبل: سمعت أبا قلابة يقول: في الجنة قصر لصوّام رجب
আরো বর্ণিত আছে, জান্নাতে একটি বালাখানা রয়েছে, পবিত্র রজব এর দিনে রোযা পালনকারীদের উক্ত বালাখানায় দেয়া হবে। (মুখতাছারু তারিখু দিমাষ্ক ৪/৭২)

সুতরাং এত অসংখ্য ছহীহ দলীল থাকার পরও যারা পবিত্র রজব মাস উনার ২৭ তারিখের রোযা ও আমল নিয়ে বিরোধিতা করে তারা মূলত বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী। তারা চায় না সাধারণ মানুষ বিশেষ রাতে নেক আমল করে আল্লাহওয়ালা হোক। নাউযবিল্লাহ!