রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পাঁচশ হিজরী শতকে ওলীআল্লাহ হযরত উমর মুল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহির ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন

ইস্পাহানের বিখ্যাত সাহিত্যিক, কবি, ইতিহাসবিদ এবং অনুবাদক ছিলেন আল ফাতহ ইবনে আলী আল বুন্দারি ইসফাহানি রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ৬৪৩ হিজরী)। তার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ কাজগুলোর একটি হলো ফেরদৌসীর বিখ্যাত ফারসি মহাকাব্য শাহনামা এর আরবি অনুবাদ। তিনি ইমাদুদ্দীন আল-ইসফাহানীর বিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ `বারক আল-শামী' এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ `মুখতাসারু সানাল বারকিশ শামী' রচনা করেন। ৫ম–৬ষ্ঠ হিজরি শতক সিরিয়া, জাজিরা ও আশপাশের অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামরিক ও শাসন-ইতিহাস নিয়ে রচিত এই বই।

এই বইতে তিনি ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের প্রাচীণ একটি ইতিহাস বর্ণনা করেন। বিখ্যাত বুযূর্গ ওলী হযরত আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন খিদর আল-মুল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহির (ওফাত: ৫৭০ হিজরী) মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন একটি ঐতিহাসিক দলীল। হযরত উমর আল-মুল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহি কে ছিলেন?
ইবন কাসীর রহমতুল্লাহি আলাইহি অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন,
الشيخ الصالح العابد عمر الملا
“শায়খ, নেককার ও ইবাদতগুজার উমর আল-মুল্লা। (বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৬/৪৪৬)
তিনি আরো বলেন,
وكان من الصالحين الزاهدين
“তিনি নেককার ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৬/৪৮৯)


হযরত উমর আল-মুল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহির ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন বিষয়ে হযরত ফাতহ ইবনে আলী আল বুন্দারি ইসফাহানি রহমতুল্লাহি আলাইহি তার ‘মুখতাসারু সানাল বারকিশ শামী’র ৫২ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেন,
‌كان ‌بالموصل ‌رجل ‌من ‌شيوخ ‌الصالحين وأئمة العارفين يعرف بعمر العلاء وكان العلماء بل الملوك والأمراء يزورونه في زاويته وله كل سنة دعوة في أيام مولد النبي صلى الله عليه وسلم يحضره فيها صاحب الموصل ويحضر الشعراء وينشدون في ذلك المحفل في مدح النبي صلى الله عليه وسلم وكان يخرج لهم جوايزهم. وكان نور الدين من أخلص محبيه وأحب مخالصيه وكان يستشيره ويكاتبه،
মাওসিলে একজন নেককার বুযুর্গ ও আরিফদের ইমাম ছিলেন। উনার নাম ছিল উমর আল-মাল্লা। আলেমগণ এমনকি বাদশাহ ও আমীররাও উনার খানকাহে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। প্রতি বছর মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিনগুলোতে উনার পক্ষ থেকে একটি দাওয়াতের আয়োজন করা হতো। এতে মাওসিলের শাসকও উপস্থিত হতেন। কবিরাও আসতেন এবং সেই সমাবেশে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসায় কবিতা আবৃত্তি করতেন। তিনি তাঁদের পুরস্কারও দিতেন। সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী উনার অত্যন্ত একনিষ্ঠ ভক্ত ও ঘনিষ্ঠ অনুরাগীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি উনার সঙ্গে পরামর্শ করতেন এবং তাঁকে চিঠিপত্র লিখতেন। (মুখতাসারু সানাল বারকিশ শামী ৫২ পৃষ্ঠা)
অনেক বলে থাকেন, সর্বপ্রথম বাদশা মালিক মুজাফফর রহমতুল্লাহি প্রথম জাতীয়ভাবে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করেন। এ তথ্য ভুল। বাদশা মালিক মুজাফফর রহমতুল্লাহির ওফাত ৬৩০ হিজরীতে। আর উমর আল-মুল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহির ওফাত হচ্ছে ৫৭০ হিজরীতে। উমর আল-মুল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহির ৬০ বছর আগে ইন্তেকাল করেন। উমর আল-মুল্লা রহমতুল্লাহি আলাইহির সমসাময়ীক নুরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও জাতীয়ভাবে পালন করেন, যা বদরুদ্দীণ আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইকদুল জুমান ফি তারীখী আহলিল জামান কিতাবে বর্ণনা করেন।
সবচাইতে বড় কথা হলো ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন ছিলো নেককার, দুনিয়া বিরাগী, তাকওয়া সম্পন্ন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট। ইতিহাসের পাতায় যা স্পষ্ট লেখা আছে।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন