সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে আল্লাহ পাকের আয়োজিত অনুষ্ঠান

পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিষয়ে আল্লাহ পাকের আয়োজিত অনুষ্ঠানের কিছু নমুনা এখানে দেখা যায়।





وَأخرج ابو نعيم عَن عَمْرو بن قُتَيْبَة قَالَ سَمِعت أبي وَكَانَ من أوعية الْعلم قَالَ لما حضرت ولادَة آمِنَة قَالَ الله لملائكته افتحوا ابواب السَّمَاء كلهَا وأبواب الْجنان كلهَا وامر الله الْمَلَائِكَة بالحضور فَنزلت تبشر بَعْضهَا بَعْضًا وتطاولت جبال الدُّنْيَا وَارْتَفَعت الْبحار وتباشر أَهلهَا فَلم يبْق ملك إِلَّا حضر وَأخذ الشَّيْطَان ‌فَغَلَّ ‌سبعين ‌غلا ‌وَأُلْقِي ‌منكوسا ‌فِي ‌لجة ‌الْبَحْر الخضراء وغلت الشَّيَاطِين والمردة وألبست الشَّمْس يَوْمئِذٍ نورا عَظِيما وأقيم على رَأسهَا سَبْعُونَ الف حوراء فِي الْهَوَاء ينتظرون ولادَة مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَكَانَ قد أذن الله تِلْكَ السّنة لِنسَاء الدُّنْيَا أَن يحملن ذُكُورا كَرَامَة لمُحَمد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وان لَا تبقى شَجَرَة إِلَّا حملت وَلَا خوف إِلَّا عَاد أمنا فَلَمَّا ولد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم امْتَلَأت الدُّنْيَا كلهَا نورا وتباشرت الْمَلَائِكَة وَضرب فِي كل سَمَاء عَمُود من زبرجد وعمود من ياقوت قد استنار بِهِ فَهِيَ مَعْرُوفَة فِي السَّمَاء قد رَآهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَيْلَة الْإِسْرَاء قيل هَذَامَا ضرب لَك استبشارا بولادتك وَقد انبت الله لَيْلَة ولد على شاطئ نهر الْكَوْثَر سبعين الف شَجَرَة من الْمسك الأذفر جعلت ثمارها بخور أهل الْجنَّة وكل اهل السَّمَوَات يدعونَ الله بالسلامة ونكست الْأَصْنَام كلهَا وَأما اللات والعزى فَإِنَّهُمَا خرجا من خزانتهما وهما يَقُولَانِ وَيْح قُرَيْش جَاءَهُم الْأمين جَاءَهُم الصّديق لَا تعلم قُرَيْش مَاذَا اصابها وَأما الْبَيْت فأياما سمعُوا من جَوْفه صَوتا وَهُوَ يَقُول الْآن يرد عَليّ نوري الْآن يجيئني زواري الْآن أطهر من أنجاس الْجَاهِلِيَّة أيتها الْعُزَّى هَلَكت وَلم تسكن زَلْزَلَة الْبَيْت ثَلَاثَة ايام ولياليهن وَهَذَا اول عَلامَة رَأَتْ قُرَيْش من مولد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
হযরত আমর ইবনে কুতাইবা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা ছিলেন একজন ইলমে দীনের ভাণ্ডার বিশেষ। আমি তার নিকট শুনেছি যে, হযরত উম্মু রসূলিনা আমিনা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র রেহেম শরীফ থেকে যখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ নেয়ার সময় উপনীত হলো, তখন মহান আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বললেন, তোমরা সমস্ত আকাশের দরজাগুলো এবং জান্নাতসমূহের দরজাগুলো খুলে দাও। আর ফেরেশতাদেরকে , উনার খিদমতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। ফেরেশতারা দুনিয়ায় অবতরণ করে পরস্পর সুসংবাদ বিনিময় করতেন। দুনিয়ার পাহাড় পর্বতগুলো মাথা উঁচু করে দাড়াল এবং সাগর ও নদীনালায় উঠল আনন্দের ঢেউ। তারা পরস্পর তার অধিবাসীদেরকে দিতে লাগল সুসংবাদ। সবুজ আকাশেরও কিছু অবশিষ্ট রইল না। সেখানেও চলল শুভ সংবাদের আদান প্রদান। আকাশের ফেরেশতারা শয়তানকে পাকড়াও করে সত্তরটি জিঞ্জির দ্বারা বেঁধে সাগরের তলদেশে অধঃমুখে নিক্ষেপ করেন। আর অন্যান্য সব শয়তানকেও জিঞ্জির দ্বারা বেঁধে রাখা হয়। ঐদিন সূর্যকে বিরাট এক নূরানী গহনা পরিধান করানো হয়। আর সত্তর হাজার বেহেশতের হুর হযরত রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মগ্রহণের অপেক্ষায় বায়ুমণ্ডলে থাকে দণ্ডায়মান। আল্লাহ পাক দুনিয়ার সমস্ত নারীদেরকে ঐ বছর পুত্র সন্তান জন্ম দেয়ার নির্দেশ দেন। হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আরব দেশ ফুলে ফলে সুশোভিত হয়। এবং ভয়ভীতি বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের দিন সারা পৃথিবী আল্লাহ তাআলার কুদরতি নূরে ভরপুর হয়ে ওঠে। আর ফেরেশতারা হয় খুশীতে আত্মহারা। তারা প্রত্যেক আকাশে যবরজদ ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা এক একটি স্তম্ভ গড়ে তোলে, যা ঝলমল করতে থাকে। সেগুলো আকাশে প্রসিদ্ধ স্তম্ভ। হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজের রাতে সেগুলো প্রত্যক্ষ করেন। উনাকে বলা হয় যে, এসব স্তম্ভ আপনার জন্মের স্মৃতিরূপে গড়া হয়েছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের রাতে আল্লাহ তাআলা হাউযে কাওছারের তীরে সত্তর হাজার মিশুকের বৃক্ষ উদগত করেন, যার ফলফলাদি হবে জান্নাতবাসীদের ধূপবাতি। ঐ সমস্ত আকাশবাসী আল্লাহ তাআলাকে আস্‌সালাম ও আস্‌সালাম নামে ডাকতে থাকেন। ঐদিন সমস্ত প্রতিমাগুলো আপন থেকে ভূলুণ্ঠিত হয়। মক্কার লাত ও উজ্জা প্রতিমাদ্বয় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দূরে সরে পড়ে। হযরত আল আমীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শুভাগমন হয়েছে। তাদের কাছে সত্যবাদীর আগমন ঘটেছে। কুরাইশরা (কাফিররা) জানে না যে, ভবিষ্যতে তাদের জীবনে কি দুর্দশা নেমে আসছে। ঐদিন কাবা ঘরের অভ্যন্তর থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত একটি আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল, সে বলছিল আমার নূর আমার কাছে ফিরে এসেছে। এখন আমার যিয়ারতকারী এসেছে। এখন আমাকে জাহেলিয়াতের অপবিত্রতা থেকে পবিত্রকারীর আগমন ঘটেছে। হে উজ্জা! তোমার ধ্বংস অনিবার্য। ঐ সময় তিনদিন তিনরাত পর্যন্ত কাবা ঘর থর থর করে কাঁপছিল। এ সময়টিতে সে স্থির ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জন্মগ্রহণের এ প্রথম আলামতটি কুরাইশরা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছিল
(দলীল: আল খাসায়িসুল কুবরা ১ম খন্ড ১১৭-১১৮)
যদি কেউ বুঝে তাহলে পবিত্র মীলাদ শরীফের অনেক দলীল আছে এই একটা হাদীছ শরীফের মধ্যে। আমি শুধু একটা পয়েন্ট উল্লেখ করবো-
وَضرب فِي كل سَمَاء عَمُود من زبرجد وعمود من ياقوت قد استنار بِهِ فَهِيَ مَعْرُوفَة فِي السَّمَاء قد رَآهَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَيْلَة الْإِسْرَاء قيل هَذَامَا ضرب لَك استبشارا بولادتك وَقد انبت الله لَيْلَة ولد على شاطئ نهر الْكَوْثَر سبعين الف شَجَرَة من الْمسك الأذفر جعلت ثمارها بخور أهل الْجنَّة
তারা প্রত্যেক আকাশে যবরজদ ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা এক একটি স্তম্ভ গড়ে তোলে, যা ঝলমল করতে থাকে। সেগুলো আকাশে প্রসিদ্ধ স্তম্ভ। হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিরাজের রাতে সেগুলো প্রত্যক্ষ করেন। উনাকে বলা হয় যে, এসব স্তম্ভ আপনার জন্মের স্মৃতিরূপে গড়া হয়েছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের রাতে আল্লাহ তাআলা হাউযে কাওছারের তীরে সত্তর হাজার মিশকের বৃক্ষ উদগত করেন, যার ফলফলাদি হবে জান্নাতবাসীদের ধূপবাতি।’
লক্ষ্য করুন, বলা হচ্ছে- পবিত্র বিলাদত শরীফের রাতে যবরজদ ও ইয়াকুত পাথর দ্বারা উজ্জল একটি স্তম্ভ গড়ে তোলা হয়। আর এই স্মৃতি চিহৃ স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মের ৫১ বছর পর মিরাজ শরীফে গিয়ে দেখতে পান। এ থেকে প্রমাণ হয় স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিও বিলাদত শরীফের স্মৃতি চিহৃ রেখে দিয়েছেন।
এবং পবিত্র বিলাদত শরীফের রাতে, বিলাদত শরীফ উপলক্ষে হাউজে কাউসারের তীরে সত্তর হাজার মিশকের বৃক্ষ সৃষ্টি করা হয় যা জান্নাতবাসীদের সুগন্ধি হিসাবে থাকবে।
কুলকায়িনাত সৃষ্টি জগতে মীলাদ শরীফের আয়োজন ও স্মৃতি চিহৃ অথচ উম্মত দাবিদার আজ তা নিয়ে দ্বিধা দন্দে জর্জরিত।


0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন