শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি (জন্ম ৯৫৮ হিজরী, ওফাত: ১০৫২ হিজরী) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম, হাদিস বিশারদ এবং সুফি সাধক। উপমহাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে হাদিস চর্চা ও শিক্ষার প্রসারে উনার অবদান অবিস্মরণীয়। উনাকে ভারতীয় উপমহাদেশের হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম পথপ্রদর্শক বলা হয়। তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফে অবস্থান করে সেখান থেকে যুগশ্রেষ্ঠ আলেমদের তত্ত্বাবধানে ইলিম চর্চা করেন। তিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এতটাই নিছবতপ্রাপ্ত ছিলেন যে, স্বপ্ন ও জাগ্রত অবস্থায় তিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাৎ পেতেন। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রুহানী নির্দেশে ভারতবর্ষে এসে দ্বীন প্রচার করেন ও হাদীছ শরীফের প্রচার প্রসার করেন।
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Home »
ঈদে মীলাদুন্নবী
» মুসলমানেরা সর্বদাই পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করে আসছেন
মুসলমানেরা সর্বদাই পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করে আসছেন
উনার বিখ্যাত একটি গ্রন্থের নাম "মা সাবাতা মিনাস সুন্নাহ।" এই কিতাবে রবিউল আউয়াল শরীফ মাসের আলোচনায় লিখেন,
وما زال أهل الإسلام يحتفلون بشهر مولده صلى الله عليه وسلم، ويعملون الولائم، ويتصدقون في لياليه بأنواع الصدقات، ويظهرون السرور، ويزيدون في المبرات، ويعتنون بقراءة مولده الكريم، ويظهر عليهم من بركاته كل فضل عميم.
ومما جرب من خواصه أنه أمان في ذلك العام، وبشرى عاجلة بنيل البغية والمرام، فرحم الله امراً اتخذ ليالي شهر مولده المبارك أعيادا، ليكون أشد علة على من في قلبه مرض وعناد.
“মুসলমানেরা সর্বদাই হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের মাসে মীলাদুন্নবী উদযাপন করে আসছেন। উনারা এ মাসের রাতগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সদকা-খয়রাত করেন, দাওয়াতের আয়োজন করেন, আনন্দ প্রকাশ করেন, নেক ও কল্যাণমূলক কাজ বৃদ্ধি করেন এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পবিত্র জন্মবৃত্তান্ত পাঠের প্রতি বিশেষ যত্ন নেন। আর হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাদত শরীফের বরকতের কারণে তাঁদের ওপর ব্যাপক কল্যাণ ও অনুগ্রহের প্রকাশ ঘটে। মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যা প্রমাণিত হয়েছে, তার একটি হলো এটি সেই বছরের জন্য নিরাপত্তার কারণ। আর এটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ও অভীষ্ট লাভের দ্রুত সুসংবাদও বয়ে আনে। অতএব, আল্লাহ পাক সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বরকতময় বিলাদত শরীফে মাসের রাতগুলোকে ঈদের রাত হিসেবে গ্রহণ করেছে যাতে এটি অন্তরে রোগ ও একগুঁয়েমি পোষণকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী দলিল হয়ে দাঁড়ায়।” (মা সাবাতা মিনাস সুন্নাহ ১০৭ পৃষ্ঠা)
শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি মক্কা শরীফের অধিবাসীদের আমলের তারিখ বিষয়ে আরো বলেন,
لاثني عشر، وهو المشهور ، وعليه عمل أهل مكة في زيارتهم موضع مولده صلى الله عليه وسلم في هذا الوقت
১২ তারিখ, এটিই প্রসিদ্ধ মত। আর এ মতের ওপরই মক্কা শরীফের অধিবাসীদের আমল রয়েছে। উনারা এ সময়ে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাদত শরীফের স্থান পরিদর্শন করেন। (মা সাবাতা মিনাস সুন্নাহ ১০৩ পৃষ্ঠা)
শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে,
পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের সর্বদা পালিত হয়ে আসা একটি আমল। এবং বিশেষ করে আরবের মুসলমানরা এ রাতে বিভিন্ন নেক কাজে মশগুল থাকতেন। এই রাতকে ঈদের রাত বলে গন্য করতেন। ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন মুসলমানদের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আমল।
Categories: ঈদে মীলাদুন্নবী







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন