ইতিহাসের পাতায় ৮ম হিজরী শতকে আলজেরিয়ায় রাজকীয় উৎসবে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন।
এই ইতিহাসটা মন দিয়ে পড়লে বুঝবেন সেসময় কতটা গুরুত্ব ও মহব্বতের সাথে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন হতো।
বিখ্যাত আলেম হযরত ইউসুফ নাবেহানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে বর্ননা করেন,
وذكر العلامة الشهاب أحمد المقري في كتابه نفح الطيب ان السلطان أبا حمو موسى صاحب تلمسان في القرن الثامن من الهجرة كان يحتفل ليلة مولد رسول الله ﷺ غاية الاحتفال كما كان ملوك المغرب والأندلس في ذلك العصر وما قبله ونقل عن كتاب راح الأرواحوكتاب نظم الدر والعقيان كلاهما للحافظ أبي عبد الله الننسي ان المولى أبا حمو المذكور كان يقيم ليلة المولد النبوي على صاحبه الصلاة والسلام بمشورة من تلمسان حفيلة يحشر فيها الناس خاصة وعامة فما شئت من نمارق مصفوفة وزرابي مبثوثة وبسط موشاة ووسائد مغشاة وشمع كالأسطوانات وموائد كالهالات ومباخر منصوبة كالقباب يخالها المبصر تبرأ مذاب ويفاض على الجميع أنواع الأطعمة كأنها أزهار الربيع المنمنمة فتشتهيها الأنفس وتستلذها النواظر ويخالط حسن رياها الأرواح ويخامر رتب الناس فيها على المنمنمة فتشتهيها الأنفس وتستلذها النواظر ويخالط حسن رياها الأرواح ويخامر رتب الناس فيها على مراتبهم ترتيب احتفال وقد علت الجميع أبهة الوقار والإجلال وبعقب ذلك يحتفل المستمعون بأمداحالمصطفى عليه الصلاة والسلام المكفرات ترغب في الإقلاع عن الآثام فيها من فن إلى فن ومن أسلوب إلى أسلوب ويأتون من ذلك بما تطرب له النفوس وترتاح إلى سماعه القلوب والسلطان لم يفارق مجلسه الذي ابتدأ جلوسه فيه وكل ذلك بمرأى منه ومسمع حتى يصلي هنالك صلاة الصبح على هذا الأسلوب تمضي ليلة مولد المصطفى ﷺ في جميع أيام دولته أعلى الله تعالى مقامه في عليين وشكر له في ذلك صنيعه الجميل أمين وما من ليلة مولد مرت في أيامه إلا ونظم فيها قصيداً في مديح المصطفى أول ما يبتدىء المسمع في ذلك الحفل العظيم بإنشاده ثم يتلوه إنشاد ما رفع إلى مقامه العلي في تلك الليلة انتهت عبارة نفح الطيب باختصار.
“আল্লামা শিহাব আহমদ আল-মাক্কারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার 'নফহুত তীব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, অষ্টম হিজরি শতাব্দীর তিলিমসানের (আলজেরিয়ার) শাসক সুলতান আবু হাম্মূ মূসা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদের রাতে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করতেন। উনার যুগে এবং তার আগের যুগে মরক্কো ও আন্দালুসের (স্পেনের) সুলতানরা যেভাবে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন করতেন, তিনিও সেভাবেই তা করতেন।
তিনি আরও আবু আবদুল্লাহ আন-নাসী রচিত রুহুল আরওয়াহ ও নাজমুদ দুরার গ্রন্থদ্বয় থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, উল্লিখিত আবু হাম্মূ মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার রাতে আলজেরিয়াতে এমন এক বিরাট অনুষ্ঠান করতেন, যেখানে সাধারণ ও বিশেষ সকল শ্রেণির মানুষ সমবেত হতো।
সেখানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকত বিভিন্ন ধরনের কুশন, বিছিয়ে দেওয়া হতো কারুকার্যখচিত গালিচা, নকশাদার চাদর ও বালিশ। স্তম্ভের মতো বড় বড় মোমবাতি, চাঁদের আলোর মতো দীপ্তিশীল খাবারের টেবিল এবং গম্বুজের মতো আকৃতিতে স্থাপিত ধূপদানি থাকত। তা দেখে দর্শকের মনে হতো যেন গলিত সোনা ছড়িয়ে আছে। এসব খাবার ও আয়োজন এমনভাবে সুশোভিত থাকত যে, তা দেখে মানুষের মন আকৃষ্ট হতো এবং দর্শকদের চোখ তা দেখে তৃপ্তি লাভ করত। এর মনোরম সুগন্ধ মানুষের আত্মাকে প্রফুল্ল করে তুলত। আর সেখানে সমবেত লোকদেরকে তাদের মর্যাদা ও অবস্থান অনুযায়ী যথাযথ সম্মান সাথে বসানো হতো। সবার ওপরই গাম্ভীর্য ও সম্মানের আবহ বিরাজ করত।
এরপর উপস্থিত শ্রোতারা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রশংসায় রচিত কবিতা ও নাত পরিবেশন শুরু করতেন। এসব নাত শরীফ মানুষকে গুনাহ থেকে বিরত হয়ে তাওবার দিকে আগ্রহী করত। উনারা একের পর এক বিভিন্ন ধরনের শিল্পরীতি ও কাব্যশৈলীতে সেগুলো পরিবেশন করতেন। এমন সব বিষয় উনারা উপস্থাপন করতেন, যা মানুষের মনকে আনন্দিত করত এবং হৃদয়কে তা শুনে প্রশান্ত ও উৎফুল্ল করে তুলত।
সুলতান যে মজলিসে শুরুতে বসেছিলেন, অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি সেই মজলিস ত্যাগ করতেন না। এসব বরকতময় কাজ তার চোখের সামনে ও তাঁর শ্রবণের মধ্যেই সংঘটিত হতো। এমনকি এভাবেই অনুষ্ঠান চলতে চলতে তিনি সেখানেই ফজরের নামাজ আদায় করতেন।
এভাবেই আল্লাহ পাক উনার মর্যাদা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করুন এবং এই সুন্দর কাজের জন্য উনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। উনার শাসনামলের প্রতিটি মীলাদুন্নবীর রাত এমনিভাবে অতিবাহিত হতো। আমীন।
আর উনার শাসনামলে এমন কোনো মীলাদের রাত অতিবাহিত হয়নি, যে রাতে তিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রশংসায় একটি কাসীদা রচনা করেননি। সেই মহান অনুষ্ঠানে প্রথমে যে ব্যক্তি নাত পরিবেশন করতেন, তিনি সর্বপ্রথম সুলতানের সেই রাতের জন্য রচিত কাসীদাটি পাঠ করতেন। এরপর উনার দরবারে ওই রাতে যে অন্যান্য কাসীদা ও প্রশংসাগীতি পেশ করা হতো, সেগুলো একে একে আবৃত্তি করা হতো।” (হুজ্জাতুল্লাহিল আলামিন ফি মুজিজাতু সাইয়্যিদুল মুরসালীন ১৭৫ পৃষ্ঠা)
ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত রাজকীয় অনুষ্ঠান এমন বিশেষ ভাবেই করা উচিত যা পূর্বে করা হতো। মুসলমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি এমনই ছিলো।
আলজেরিয়াতে সুলতান আবু হাম্মূ মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহির পালনের বিস্তারিত একটা ইতিহাস আমার কাছে আছে। বেশ বড়। আমি সামনে সেটা শেয়ার করবো আপনাদের সাথে। আজকে সংক্ষেপে সে সময়ের একটা চিত্র উপস্থাপন করা হলো।







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন