পবিত্র মক্কা শরীফের সম্মানিত কাজী অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতেন।
ইবনে বতুতা (জন্ম: ৭০৩ হিজরী- ওফাত: ৭৭৯ হিজরী) ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত মরক্কো বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিব্রাজক, বিচারক ও ধর্মতাত্ত্বিক। তিনি প্রাক-আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া পর্যটক হিসেবে পরিচিত, যিনি প্রায় ৩০ বছরে আনুমানিক ৭৩,০০০ মাইল (১,১৭,০০০ কিলোমিটার) পথ পরিভ্রমণ করেছিলেন। তাঁর এই ভ্রমণ পরিধি তৎকালীন সমগ্র মুসলিম বিশ্ব এবং তার বাইরের অঞ্চলগুলোতে বিস্তৃত ছিল। বিখ্যাত বিশ্বপরিব্রাজক ইবনে বতুতা তাঁর বিশ্ববিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ‘রিহলা’ গ্রন্থে পবিত্র মক্কা শরীফ ভ্রমণ এবং সেখানে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও মহাসমারোহে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের এক চমৎকার প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণ লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
অষ্টম হিজরি শতকে মক্কা শরীফে অবস্থানকালীন সময়ের সমাজ ও সংস্কৃতির চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি এই বর্ণনা দেন,
قاضي مكة العالم الصالح العابد نجم الدين محمد الإمام العالم محيي الدين الطبري، وهو فاضل كثير الصدقات والمواساة للمجاورين حسن الأخلاق كثير الطواف والمشاهدة للكعبة الشريفة يطعم الطعام الكثير في المواسم المعظمة وخصوصاً في مولد رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه يطعم فيه شرفاء مكة وكبراءها وفقراءها وخدام الحرم الشريف وجميع المجاورين، وكان سلطان مصر الملك الناصر رحمه الله يعظمه كثيراً وجميع صدقاته وصدقات أمرائه تجري على يديه وولده شهاب الدين فاضل وهو الآن قاضي مكة شرفها الله.
অর্থ: পবিত্র মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত কাজী বা বিচারক নাজমুদ্দীন মুহম্মদ ইবনে ইমামুল আলম মুহিউদ্দীন আত্ব-ত্বিবরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হলেন একজন নেককার, ইবাদতগুজার আলিম। তিনি হলেন সম্মানিত, অধিক দানশীল, প্রতিবেশীদের জন্য সমব্যাথী বা সাহায্যকারী, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, সম্মানিত কা’বা শরীফ উনার অধিক তাওয়াফকারী ও পর্যবেক্ষণকারী। তিনি (উক্ত কাজী বা বিচারক) বিভিন্ন মওসুমে, বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান মীলাদুন্নবীর সময় তিনি (মানুষকে) প্রচুর পরিমাণে খাদ্য খাওয়াতেন। এ বরকতময় সময়ে তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, ফক্বীর-ফুক্বারা, সম্মানিত হেরেম শরীফের খাদিমবর্গ এবং পবিত্র মক্কা শরীফের অধিবাসী ও অসহায় ব্যক্তিদের প্রচুর পরিমাণে খাদ্য খাওয়াতেন। আর মিশরের সুলতান মালিক নাছিরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মক্কা শরীফের উক্ত সম্মানিত কাযীকে অধিক সম্মান করতেন এবং তিনি সমস্ত দান-সদক্বা ও অধীনস্থ আমীর-উমারাগণের সমস্ত দান-সদক্বা উনার হাতে অর্পণ করতেন। আর উনার পুত্র শিহাবুদ্দীনও ছিলেন একজন বিদ্বান ব্যক্তি। আর তিনি বর্তমানে মক্কা শরীফের কাজী, আল্লাহ পাক তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।” (রিহলাতু ইবনে বতুতা: ১৬২-১৬৩ পৃষ্ঠা)
ইবনে বতুতা প্রত্যেক্ষ স্বাক্ষী দিচ্ছেন, সে সময় মক্কা শরীফের কাজী বা বিচারক যিনি অত্যান্ত পরহেজগার আল্লাহওয়ালা ছিলেন। তিনি পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করে মক্কা শরীফে মানুষকে খাবার খাদ্য খাওয়াতেন, প্রচুর দান ছদকা করতেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অনেক আলেম উলামা, গন্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকতেন। এই ছিলো মক্কা শরীফের ইতিহাস। এই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্ত করলো কারা?







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন