মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ, স্পেন, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরাক, ইরান সহ সমগ্র পৃথিবীতে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হওয়ার পাশাপাশি ভারববর্ষেও মুঘল শাসনামলেও তার ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়। সেই সময়ে যুগশ্রেষ্ঠ ওলী আল্লাহ ও বিশিষ্ট বুযূর্গ ব্যক্তিরা অন্য কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন না করলেও ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতেন। কারন উনারা এই মাহফিলকে অনেক সম্মান করতেন।
বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রেসালা সমগ্র ‘মাজমুআ রাসাইলিল আল্লামা মুল্লা আলী আল-কারী” এর মধ্যে একটি রেসালা হচ্ছে “আল মাওরিদুর রবী ফী মাওলিদিন নবী”। উক্ত রেসালায় বর্ণিত আছে,
وقد وَقَعَ لشيخ مشايخنا مولانا زَينِ الدِّينِ محمود البهدايني النقشبندي، قُدِّسَ سِرُّه العلي : أنه أراد سلطانُ الزَّمانِ وخاقان الدوران همایون بادشاه، تغمده الله وأحسن مثواه، أن يجتمع به، ويحصل له المَدَدُ والمدد بسببه، فأباه الشيخ، وامتنع أيضاً أن يأتيه السلطان، استغناء بفَضْلِ الرَّحمن ، فألح السلطان على وزيره بيرم خان، بأنه لا بد من تدبير للاجتماع في المكان، ولو في قليل من الزمان، فَسَمِعَ الوزير أنَّ الشيخ لا يحضر في دعوةٍ مِن هَناء وعزاء إلا في مولد النبي عليه السلام، تعظيماً لذلك المقام، فأنهى إلى السُّلطان، فأمره بتهيئة أسبابه الملوكانية؛ من أنواع الأطعمة والأشربة ومما يُشَمُّ به ويبَخَّرُ في المجالس العَلِيَّة، ونادى الأكابر والأهالي، وحضَرَ الشيخ مع بعض الموالي، فأخَذَ السُّلطان الإبريق بيد الأدب ومعاونة التوفيق،
“আমাদের শায়খদের শায়খ মাওলানা যাইনুদ্দীন মাহমূদ আল-বাদূয়ুনী আন-নকশবন্দী কুদ্দাসিররাহুর জীবনে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল যে, তৎকালীন সুলতান ও যুগের সম্রাট বাদশাহ হুমায়ূন আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত করুন এবং তাঁর পরিণতি উত্তম করুন, শায়খের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেন এবং উনার মাধ্যমে রূহানি ফয়েজ ও সাহায্য লাভ করতে আগ্রহী হলেন। কিন্তু শায়খ তা প্রত্যাখ্যান করলেন। এমনকি বাদশাহ যেন তাঁর কাছে আসেন এটিও তিনি পছন্দ করলেন না। কারণ, তিনি আল্লাহ পাকের অনুগ্রহেই পরিতৃপ্ত ও অমুখাপেক্ষী ছিলেন।
তখন সুলতান তাঁর মন্ত্রী বৈরাম খানকে বারবার নির্দেশ দিতে লাগলেন যেভাবেই হোক এমন একটি ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে শায়খের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্ভব হয়; যদিও তা অল্প সময়ের জন্যও হয়।
এরপর মন্ত্রী জানতে পারলেন যে, আনন্দের কোনো অনুষ্ঠান কিংবা শোকের কোনো অনুষ্ঠানের দাওয়াত কোনোটিতেই শায়খ উপস্থিত হন না; কেবল হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হন। কারণ, তিনি এই মহান উপলক্ষটির প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করতেন।
মন্ত্রী বিষয়টি বাদশাহকে জানালেন। তখন বাদশাহ তাকে (মন্ত্রী বৈরাম খাকে) রাজকীয় আয়োজনের যাবতীয় ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিলেন বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয়, এবং উচ্চ মর্যাদার মজলিসে ব্যবহারযোগ্য সুগন্ধি ও ধূপের সামগ্রী প্রস্তুত করতে বললেন। এরপর রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ অধিবাসীদের উপস্থিত হওয়ার জন্য ঘোষণা করা হলো। শায়খও উনার কয়েকজন মুরীদকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। যথাযথ সম্মানার্থে বাদশাহ হুমায়ুন আপ্যায়নের জন্য স্বয়ং শায়খের হস্ত ধৌত করার জন্য আদবের সাথে পানির লোটা বহন করেন।” (মাজমুআ রাসাইলিল আল্লামা মুল্লা আলী আল-কারী ৩৮৬ পৃষ্ঠা)
মুঘল বাদশা হুমায়ুন সে আমলে জাঁকজমকের সাথে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের জন্য রাজ্যব্যাপী রাজকীয় আয়োজন করলেন। এবং সেই মাহফিলে উপস্থিত হলেন সেই যুগের নশকবন্দীয়া তরীকার বিশিষ্ট ওলী শায়খ হযরত মাওলানা যাইনুদ্দীন মাহমূদ আল-বাদূয়ুনী আন-নকশবন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনি এতটা পরহেজগার ছিলেন যে সাধারনত কোন অনুষ্ঠানে যেতেন না, কিন্তু যখন জানতে পারলেন এই মাহফিল হচ্ছে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদুন্নবীর মাহফিল তখন বিশেষ ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শন করে সেখানে উপস্থিত হলেন। বাদশাও উনার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করলেন।







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন