পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন আমল যা পালন করতে স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উৎসাহিত করেছেন। আর এ আমল যুগ যুগ ধরে আশেকে রসূল যারা তারাই করে আসছেন।
একজন আলেম স্বপ্নে দেখেছিলেন তিনি মীলাদুন্নবী পালন না করার কারনে উনাকে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রহার করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এই আমল বাকি জীবন করে গিয়েছেন।
আরেকজন স্বপ্নে দেখেছেন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, সে যেন মাওলিদের অনুষ্ঠান বন্ধ না করে।
আরেকজন দেখেছেন, যে মীলাদুন্নবী উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার জন্য খুশি প্রকাশ করেন।
ঘটনা গুলো বিস্তারিত এসেছে হযরত ইমাম ইউছুফ সালেহী শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ৯৪২ হিজরী) উনার ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সীরাতে খাইরিল ইবাদ’ গ্রন্থের ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠায়-
وقال العلامة ابن ظفر- رحمه الله تعالى-: بل في الدرّ المنتظم: وقد عمل المحبون للنبي صلى الله عليه وسلم فرحاً بمولده الولائم-، فمن ذلك ما عمله بالقاهرة المعزّية من الولائم الكبار الشيخ أبو الحسن المعروف بابن قفل قدس الله تعالى سره، شيخ شيخنا أبي عبد الله محمد بن النعمان، وعمل ذلك قبل جمال الدين العجمي الهمذاني وممن عمل ذلك على قدر وسعه يوسف الحجّار بمصر وقد رأى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يحرّض يوسف المذكور على عمل ذلك.
আল্লামা ইবনু যুফার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন,আদ-দুররুল মুনতাযাম গ্রন্থে উল্লেখ আছে: “হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালোবাসা পোষণকারী ব্যক্তিরা উনার বিলাদত শরীফের আনন্দে খাবারের আয়োজন করতেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন কায়রোতে শায়খ আবুল হাসান রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ইবনু কুফল নামে পরিচিত ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর গোপন রূহানি মর্যাদা পবিত্র রাখুন। তিনি বড় বড় খাবারের আয়োজন করতেন। তিনি ছিলেন আমাদের শায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুন নু‘মানের শায়খ। আর তিনি এ কাজটি জামালুদ্দীন আল-আজমী আল-হামাদানী রহমতুল্লাহি আলাইহির আগেই করতেন। আর যারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এ ধরনের আয়োজন করতেন, তাঁদের মধ্যে মিসরের ইউসুফ আল-হাজ্জার রহমতুল্লাহি আলাইহিও ছিলেন। তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেছিলেন। আর সেই স্বপ্নে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লিখিত ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহিকে এ ধরনের মাওলিদের আয়োজন করার জন্য উৎসাহিত করছিলেন।
قال: وسمعت يوسف بن علي بن زريق الشامي الأصل المصري المولد الحجّار بمصر في منزله بها حيث يعمل مولد النبي صلى الله عليه وسلم يقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام منذ عشرين سنة وكان لي أخ في الله تعالى يقال له الشيخ أبو بكر الحجّار فرأيت كأنني وأبا بكر هذا بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم جالسين، فأمسك أبو بكر لحية نفسه وفرقها نصفين وذكر للنبي صلى الله عليه وسلم كلاماً لم أفهمه فقال النبي صلى الله عليه وسلم مجيباً له: لولا هذا لكانت هذه في النار. ودار إليّ وقال: لأضربنك. وكان بيده قضيب فقلت: لأي شيء يا رسول الله؟ فقال: حتى لا تبطل المولد ولا السّنن. قال يوسف: فعملته منذ عشرين سنة إلى الآن. قال: وسمعت يوسف المذكور يقول: سمعت أخي أبا بكر الحجّار يقول: سمعت منصوراً النشّار يقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في المنام يقول لي: قل له لا يبطله. يعني المولد ما عليك ممن أكل وممن لم يأكل. قال: وسمعت شيخنا أبا عبد الله بن أبي محمد النّعمان يقول: سمعت الشيخ أبا موسى الزّرهونيّ يقول: رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في النوم فذكرت له ما يقوله الفقهاء في عمل الولائم في المولد فقال صلى الله عليه وسلم: «من فرح بنا فرحنا به» .
তিনি বলেন: আমি মিসরে জন্মগ্রহণকারী, মূলত শামদেশীয়, মিসরে বসবাসকারী ইউসুফ ইবনু আলী ইবনু জুরাইক আশ শামী আল-হাজ্জার রহমতুল্লাহি আলাইহি এর কাছে, তাঁর মিসরের বাড়িতে যেখানে তিনি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাওলিদের অনুষ্ঠান করতেন শুনেছি, তিনি বলছিলেন: ‘প্রায় বিশ বছর আগে আমি স্বপ্নে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছিলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার একজন প্রিয় ভাই ছিলেন, তাঁর নাম ছিল শায়খ আবু বকর আল-হাজ্জার রহমতুল্লাহি আলাইহি । আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি ও হযরত আবু বকর আলাইহিস সালাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে বসে আছি। তখন হযরত আবু বকর আলাইহিস সালাম নিজের দাড়ি ধরে সেটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করলেন এবং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে এমন কিছু কথা বললেন, যার অর্থ আমি বুঝতে পারিনি।
তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথার জবাবে বললেন: এটি না হলে এই দাড়ি জাহান্নামে থাকত।
এরপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার দিকে ফিরে বললেন: আমি তোমাকে প্রহার করব।
আর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাতে একটি লাঠি ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে?’ তিনি বললেন, যাতে তুমি মাওলিদ ও সুন্নতসমূহ বাতিল করে না দাও।
ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এরপর থেকে আজ পর্যন্ত, অর্থাৎ বিশ বছর ধরে আমি মাওলিদের অনুষ্ঠান করে আসছি।
তিনি বলেন: আমি উল্লিখিত ইউসুফকে আরও বলতে শুনেছি, আমার ভাই আবু বকর আল-হাজ্জার বলেছেন, আমি মানসূর আন-নাশশার-কে বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন: তাকে বলে দাও, সে যেন এটি বন্ধ না করে। অর্থাৎ মাওলিদের অনুষ্ঠান বন্ধ না করে। কে খাবার খেল আর কে খেল না এ নিয়ে তুমি চিন্তা করো না।
তিনি বলেন: আমি আমাদের শায়খ আবু আবদুল্লাহ ইবনু আবি মুহাম্মদ আন-নু‘মান রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বলতে শুনেছি, আমি শায়খ আবু মূসা আয-যারহূনী-কে বলতে শুনেছি, “আমি স্বপ্নে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখলাম। তখন আমি উনাকে মাওলিদের উপলক্ষে খাবারের আয়োজন সম্পর্কে ফকীহদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করলাম।
তখন হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
«مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهِ»
‘যে ব্যক্তি আমাদের কারণে আনন্দিত হয়, আমরাও তার কারণে আনন্দিত হই।’”
وقال الشيخ الإمام العلامة نصير الدين المبارك الشهير بابن الطبّاخ في فتوى بخطه: إذا أنفق المنفق تلك الليلة وجمع جمعاً أطعمهم ما يجوز إطعامه وأسمعهم ما يجوز سماعه ودفع للمسمع المشوّق للآخرة ملبوساً، كلّ ذلك سروراً بمولده صلى الله عليه وسلم فجميع ذلك جائز ويثاب
শায়খ, ইমাম, আল্লামা নসীরুদ্দীন আল-মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি ‘ইবনুত তাব্বাখ’ নামে প্রসিদ্ধ, তিনি নিজ হাতে লিখিত একটি ফতোয়ায় বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যদি সেই রাতে (বিলাদত শরীফের) অর্থ ব্যয় করে, লোকজনকে একত্রিত করে, তাদের এমন খাবার খাওয়ায় যা খাওয়ানো বৈধ, এবং তাদের এমন কিছু শোনায় যা শোনা বৈধ, আর আখিরাতের প্রতি মানুষকে উৎসাহিতকারী সেই পাঠককে কোনো পোশাক হাদীয়া করে, এবং এসব কিছু যদি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মীলাদুন্নবীর আনন্দে করা হয় তাহলে এগুলোর সবই জায়েয এবং এর জন্য সওয়াবও পাওয়া যাবে।
(সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফি সীরাতে খাইরিল ইবাদ ১ম খন্ড ৩৬৩ পৃষ্ঠা)
যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই সুমহান ফযিলতপূর্ণ আমল একমাত্র তারাই করতে পারে যাদের অন্তরে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত পরিপূর্ণ আছে।







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন