মক্কা শরীফের অধিবাসীগন অত্যান্ত মহাসমারোহে জাঁকজমকের সাথে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করতেন। এই দিনকে মক্কা শরীফের অধিবাসীগন সকল ঈদের চাইতেও বেশি খুশি প্রকাশ করতেন। ইতিহাসের পাতায় প্রত্যেক্ষদর্শী ইমামের দৃষ্টিতে সেই ঘটনা বর্ণণা করা হলো-
ইমাম হযরত শামসুদ্দীন ইবনুল জাযারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ৮৩৩ হিজরী) বলেন,
وَكَانَ مَوْلِدُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالشِّعْبِ، وَهُوَ مَكَانٌ مَعْرُوفٌ مُتَوَاتِرٌ عِنْدَ أَهْلِ مَكَّةَ، يَخْرُجُ أَهْلُ مَكَّةَ كُلَّ عَامٍ يَوْمَ الْمَوْلِدِ وَيَحْتَفِلُونَ بِذَلِكَ أَعْظَمَ مِنِ احْتِفَالِهِمْ بِيَوْمِ الْعِيدِ، وَذَلِكَ إِلَى يَوْمِنَا هَذَا. وَقَدْ زُرْتُهُ وَتَبَرَّكْتُ بِهِ عَامَ حَجَّتِي سَنَةَ اثْنَيْنِ وَتِسْعِينَ وَسَبْعِمِائَةٍ، وَرَأَيْتُ مِنْ بَرَكَتِهِ عَظِيمًا، ثُمَّ كَرَّرْتُ زِيَارَتَهُ فِي مُجَاوَرَتِي سَنَةَ ثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ وَثَمَانِمِائَةٍ، وَقُرِئَ عَلَيَّ كِتَابِي «التَّعْرِيفِ بِالْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ»، وَسَمِعَهُ خَلْقٌ لَا يُحْصَوْنَ، وَكَانَ يَوْمًا مَشْهُودًا.
"হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের স্থান ছিলো ‘শিয়াব’ নামক স্থানে। আর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মস্থানটি মক্কা শরীফ অধিবাসীদের নিকট অত্যন্ত পরিচিত ও প্রসিদ্ধ। মক্কাবাসীগণ প্রতি বছর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফের দিনে সেখানে যান। এই দিনটিকে এমন মহাসমারোহে উদযাপন করেন, যেভাবে ঈদের দিনকেও তারা উদযাপন করেন না। আর এই ধারা আজও চলমান। ৭৯২ হিজরীতে হজ্জের সফরে আমিও এই বরকতপূর্ণ জায়গাটি জিয়ারত করি এবং বরকত কামনা করি। এর মাধ্যমে আমি প্রভূত কল্যাণ লাভ করি। তারপর ৮২৩ হিজরীতে পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানকালে আবারও পবিত্র স্থানটি যিয়ারাত করি। সে সময় আমার ‘আত-তা‘রীফ বিল-মাওলিদিশ শরীফ’ নামক গ্রন্থটি সেখানে পাঠ করা হয় এবং অসংখ্য মানুষ তা শ্রবণ করেন। আর সেটি ছিল একটি স্মরণীয় ও জনসমাগমপূর্ণ একটি দিন । (আরফুত তারীফ বিল মাওলিশ শরীফ ২৩)
এই ঘটনা থেকে বোঝা গেলো মক্কা শরীফে পবিত্র মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল ঈদের চাইতে বেশি গুরুত্বের সাথে পালন হতো। আর পবিত্র মক্কা শরীফের অধিবাসীদের কাছে এই আমল প্রসিদ্ধ। মক্কা শরীফে বসে সবাই পালন করলেন কেউ বিদয়াতের ঘ্রাণ পেলেন না, আর এদিকে বঙ্গদেশী মৌলবী সাহেবদের ঘুম হচ্ছে না।
ইতিহাস থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের প্রচীণ ঐতিহ্য, সাংস্কৃতি ও নবীজীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠ একটি মাধ্যম।







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন