রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রাচীন পর্যটক ইবনে জুবাইরের দৃষ্টিতে মক্কা শরীফে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন

বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক, ভূগোলবিদ ও সাহিত্যিক মুহাম্মদ ইবনু আহমদ ইবনু জুবাইর আল কিনানী আল-আন্দালুসী সংক্ষেপে ইবনু জুবাইর নামে পরিচিত। জন্ম: ৫৪০ হিজরি, ওফাত: ৬১৪ হিজরি। ইবনু জুবাইরের সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা ‘রিহলাতু ইবনু জুবাইর’ । এটি মূলত উনার প্রথম দীর্ঘ ভ্রমণের দিনলিপি ও পর্যবেক্ষণ। তিনি তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে সেসময়ে মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফ, মিসর, শাম, ইরাক, সিসিলি ও আন্দালুসের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনের প্রত্যক্ষ বিবরণ সংরক্ষণ করেছেন। তিনি যেসব দেশ, শহর, মসজিদ, মাদরাসা, দুর্গ, বাজার, রাস্তা, সমুদ্রপথ, মানুষের জীবনযাপন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড দেখেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তার সফরে তিনি ৮ শাওয়াল ৫৭৮ হিজরি গ্রানাডা থেকে যাত্রা করে ৫৭৯ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায় প্রবেশ করেন এবং সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন।



সেখানে তিনি উনার স্বচক্ষে দেখা কিছু অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন যা পবিত্র মক্কা শরীফে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের প্রাচীন গুরুত্বপূর্ণ দলীল সমূহের মধ্যে অন্যতম একটি দলীল-
ومن مشاهدها الكريمة أيضاً مولد النبي ، صلى الله عليه وسلم ، والتربة الطاهرة التي هي أول تربة مست جسمه الظاهر ، بني عليها مسجد لم ير أحفل بناء منه ، أكثره ذهب منزل به . والموضع المقدس الذي سقط فيه ، صلى الله عليه وسلم ، ساعة الولادة السعيدة المباركة التي جعلها الله رحمة للأمة أجمعين محفوف بالفضة . فيا لها تربة شرفها الله بأن جعلها مسقط أطهر الأجسام ومولد خير الأنام ، صلى الله عليه وعلى آله وأهله وأصحابه الكرام وسلم تسليماً . يفتح هذا الموضع المبارك فيدخله الناس كافة متبركين به في شهر ربيع الأول ويوم الاثنين منه ، لأنه كان شهر مولد النبي ، صلى الله عليه وسلم ، وفي اليوم المذكور ولد، صلى الله عليه وسلم ، وتفتح المواضع المقدسة المذكورة كلها . وهو يوم مشهود بمكة دائماً .
পবিত্র মক্কা শরীফের সম্মানিত নিদর্শনসমূহের মধ্যে আরও একটি হলো হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফের স্থান এবং সেই পবিত্র মাটি, যা সর্বপ্রথম উনার পবিত্র দেহ মুবারককে স্পর্শ করেছিল। সেই স্থানের ওপর এমন একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল, যার চেয়ে অধিক সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণ নির্মাণ আমি দেখিনি; এর অধিকাংশই সোনার কারুকার্যে সজ্জিত ছিল। আর সেই পবিত্র স্থানটি, যেখানে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ও বরকতময় বিলাদতের সময় উনার পবিত্র শরীফ মুবারক ভূমিকে স্পর্শ করেছিল যে জন্মকে আল্লাহ সমগ্র উম্মতের জন্য রহমত করেছেন সেটি রৌপ্য দ্বারা বেষ্টিত ছিল। কতই না মহিমান্বিত সেই পবিত্র মাটি মুবারক! মহান আল্লাহ পাক উনাকে সম্মানিত করেছেন, কারণ তিনি সেটিকে মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম জিসিম মুবারকের তাশরিফ আনার স্থান এবং শ্রেষ্ঠ স্বত্তার জন্মস্থান করেছেন। হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার আহলে বাইত ও সম্মানিত সাহাবিদের ওপর আল্লাহ পাকের অগণিত দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। এই বরকতময় স্থানটি রবীউল আউয়াল মাসে, বিশেষত এই মাসের সোমবারে খুলে দেওয়া হতো। অতঃপর সকল মানুষ সেখানে প্রবেশ করত এবং এর মাধ্যমে বরকত লাভ করত। কারণ, এ মাসেই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ হয়েছিল এবং উল্লিখিত সোমবারেই তিনি বিলাদত শরীফ প্রকাশ করেছিলেন। আর উল্লিখিত সকল পবিত্র স্থানও খুলে দেওয়া হতো। মক্কায় এই দিনটি সর্বদাই একটি স্মরণীয় ও বিশেষ দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।” (রিহলা ইবনে জুবাইর ৮২ পৃষ্ঠা)
ইবনে জুবাইরের বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হলো, ৫৭৯ হিজরীতেই পবিত্র মক্কা শরীফে মীলাদুন্নবী পালন হতো। পবিত্র বিলাদত শরীফের মাস রবিউল আউয়াল মাসে , বিশেষ করে সোমবারে মানুষ যাতে বরকত হাছিল করতে পারে সে জন্য বিলাদত শরীফের সে সুমহান স্থান সকলের জন্য খুলে দেয়া হতো। তখনকার মানুষ বিশেষ দিবস হিসাবে তা পালন করতেন। পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের চর্চা মক্কা শরীফে শুরু থেকেই আছে। এটা একটা মুসলিম ঐতিহ্য। বর্তমানে বিদয়াতে বেষ্ঠিত পৃথিবীর কিছু নিকৃষ্ট মানুষ এই সুমহান আমল থেকে সরে গিয়ে এই আমলকেই বিদয়াত বানাতে উঠে পরে লেগেছে।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন