উসমানীয় খিলাফতে ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ইতিহাস।
উসমানিয়রা ৯৬৬ হিজরী বা ১৫৮৮ সালে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সরকারি উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তুরস্কে এটি “মেভলিদ কান্দিলি” নামে পরিচিত এবং এদিন মসজিদের মিনার আলোকসজ্জা, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও বিভিন্ন নাত শরীফ পাঠের মাধ্যমে পালিত হয়।
উসমানীয় ইতিহাসকার মুস্তফা সেলানিকী আফেন্দী (জন্ম: ৯৬৪ হিজরী, ওফাত: ১০০৮ হিজরী) তাঁর ইতিহাসগ্রন্থ “তারীখে সেলানিকী” তে উসমানীয় খিলাফতকালে সুতলান ৩য় মুরাদের শাসনামলে ৯৯৬ হিজরির রবীউল আউয়াল মাসের ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের বিষয়ে খিলফাতকালীন আদেশের ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। তবে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন উসমানীয় ভূখণ্ডে একেবারে নতুন কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। বিভিন্ন স্থানে আগে থেকেই ব্যক্তিগত ও স্থানীয় পর্যায়ে মীলাদ পালনের প্রমাণ ছিল। কিন্তু তৃতীয় মুরাদের আমলে এটি সুলতানের রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা লাভ করে।
মুস্তফা সেলানিকী আফেন্দীর রচিত “তারিখে সেলানিকী”তে বর্ণিত সুলতান ৩য় মুরাদের এর ফরমানটি হলো-
Ve sene 996 rebîʿu l-evvelinde saʿâdetlü Pâdişâh-ı ʿâlem-penâh hazretlerinden tezkire-i hümâyûn çıqub, “On ikinci gice isneyn gicesi, ki Server-i kâʾinât ve mefḫar-ı mevcûdât – ṣallâ llâhu ʿaleyhi ve-sellem – hazretleri dünyâya gelüb arṣa-i ṣaḥn-ı cihânı teşrîf idüb, nûrânî qıldığı gicedür, taʿẓîm u iḥtirâm eylemek vâcibdür, cümle minârelerde qanādil yanub ve cevâmiʿ ve mesâcidde mevlidler oqunub, günâhkâr ümmet yanub yaqılub, şefâʿat ṭaleb eyleyüb, ṣalavât ve teslîmât ile tesbîḥ ü tehlîle iştiġâl göstersünler ve şehr-i recebde Reġâʾib gicesi ve şehr-i şaʿbânda Berāt gicesi gibi, minâreler qanādil ile münevver olmaq ʿâdet olsun” diyü fermân olundı.
“৯৯৬ হিজরির রবীউল আউয়াল মাসে মহামান্য জগতের আশ্রয় বাদশাহের পক্ষ থেকে একটি রাজকীয় ফরমান জারি হলো-
‘এই মাসের দ্বাদশ রাতটি সোমবারের রাত; এই সেই রাত, যে রাতে সৃষ্টিজগতের সাইয়্যিদ এবং সমস্ত সৃষ্টির গৌরব আল্লাহ পাক উনার প্রতি দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন। পৃথিবীতে আগমন করে জগতের প্রাঙ্গণকে সম্মানিত করেছিলেন এবং তাকে নূরানী করেছেন। এই রাতের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা ওয়াজিব। সকল মিনারে প্রদীপ জ্বালানো হোক এবং জামে মসজিদ ও মসজিদসমূহে মাওলিদ পাঠ করা হোক। গুনাহগার উম্মত ব্যাকুল হয়ে উনার শাফাআত কামনা করুক এবং দরূদ ও সালাম, তাসবিহ ও তাহলিলে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখুক। আর রজব মাসের রাগায়িবের রাত এবং শাবান মাসের বারাআতের রাতের মতো মিনারগুলো কান্দিল দ্বারা আলোকিত হওয়া একটি প্রচলিত রীতি হোক। এই মর্মে ফরমান জারি করা হলো।”
(তারিখে সেলানিকি ১ম খণ্ড ১৯৭-১৯৮ পৃষ্ঠা)
ইতিহাস থেকে দেখা গেলা উসমানীয় খিলাফতকালেও তাদের রাজকীয় ফরমান ছিলো ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রাতকে সর্বচ্চো গুরুত্ব দিয়ে পালন করা। জাঁকজমকের সাথে, বাতি জ্বালীয়ে, শবে বরাত ও রগায়িবের রাতের মত পালন করা। দরূদ ও সালামে মশগুল থাকা। এটাই ছিলো শাহী ফরমান।







0 comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন