মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইমামে আযমের কান্না

ইমামে আযমের কান্না:

হযরত ইয়াযিদ বিন লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, মসজিদের ইমাম সাহেব এশার জামাতে সূরা 'ইযাযুলযিলা' তিলাওয়াত করছিলেন। তাঁর পিছনে ইমাম হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি নামায আদায় করছিলেন। নামায শেষে তাঁকে খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে বসে থাকতে দেখা গেল। এমন কি তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিকমত বের হচ্ছিল না। আমি মনে করলাম, সম্ভবত তিনি বক্ষ ব্যাধিতে আক্রান্ত।
আমি এই মহান ইমামকে মসজিদে রেখে সেদিনের মত বাড়ি চলে এলাম। সুবহে সাদেকের সময় মসজিদে গিয়ে দেখি, তিনি সেই স্থানেই বসে আছেন, স্বীয় দাড়ি স্বহস্তে ধারণ করে কান্নাবিজড়িত অস্ফুট কণ্ঠে বলছেন, হে আমার ভাল কর্মের তিল-তিল করে বিনিময় দানকারী আল্লাহ! হে আমার মন্দ কর্মের তিল-তিল করে প্রতিদান দাতা প্রতিপালক! আপনি নো'মানকে আপনার সীমাহীন করুণার পাত্র বানান এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। (খাইরাতুল হিসান: ৫২)

জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, আমি ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর নিকট ছিলাম। যখন তিনি তাহাজ্জুদ নামায পড়ছিলেন তখনও আমি তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে দিন তিনি নামাযে এতো বেশি কান্না-কাটি করেন যে, তাঁর অশ্রু চাটাইয়ে পতিত হওয়ার শব্দ পর্যন্ত আমার কানে আসছিল। মনে হচ্ছিল, যেন আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ছে। (খাইরাতুল হিসান: ৫৪)


হযরত ইয়াজিদ ইবনে কামাইয়াত রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, একদা হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি.-এর সামনে একটি রেশমি কাপড়ের গাট্টি খোলা হল, যাতে লাল, সবুজ ও হলুদ বর্ণের কাপড় ছিল। দোকানের কর্মচারী এসব দেখে বলে উঠল, আমরা আল্লাহর নিকট জান্নাত চাই। হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি একথা শুনে এত বেশি পরিমাণ কান্না-কাটি করলেন যে, তার মাথা ও কাঁধ আন্দোলিত হয়ে উঠল। তিনি কর্মচারীকে দ্রুত দোকান বন্ধ করতে বললেন এবং নিজে মাথা ঢেকে বের হয়ে গেলেন। পরের দিন তিনি আমাকে বলেন, আমরা মহান আল্লাহ পাকের নিকট জান্নাত চাওয়ার দুঃসাহস দেখাতে পারি না। জান্নাতের প্রার্থনা তো সে করতে পারে, যে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পেরেছে। আমাদের মত লোকদের শুধু ক্ষমা ও মুক্তির প্রার্থনা করা উচিৎ। (মানাকিবে আবু হানিফা: লিয-যাহাবী-২৩)

সুবহানাল্লাহ! এতবড় ইমামের কত বিনয়।

0 comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন