ফাদ্বায়িলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফাদ্বায়িলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৭

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনাদের কাছে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চুল মুবারকের মর্যাদা ছিলো সমগ্র সৃষ্টি জগতের চাইতেও বেশি

জেনে রাখা দরকার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতটা ভালোবাসতেন। সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে



حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ قُلْتُ لِعَبِيدَةَ عِنْدَنَا مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَصَبْنَاهُ مِنْ قِبَلِ أَنَسٍ، أَوْ مِنْ قِبَلِ أَهْلِ أَنَسٍ فَقَالَ لأَنْ تَكُونَ عِنْدِي شَعَرَةٌ مِنْهُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا‏.
হযরত ইবনু সীরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত আবীদা রহমতুল্লাহি আলাইহি কে বললাম, আমাদের কাছে হযরত রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কেশ মুবারক রয়েছে যা আমরা হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কাছ থেকে কিংবা হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি বললেন, উনার একটি কেশ মুবরাক আমার কাছে থাকাটা গোটা দুনিয়া এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে তা পাওয়ার চাইতে বেশী পছন্দনীয়।” (সহীহ বুখারী ১ম খন্ড ৫৫ পৃষ্ঠা: হাদীছ শরীফ নং ১৭০)

কেশ বা চুল মুবারককে গোটা দুনিয়ার চাইতে বেশি ভালোবাসতেন। তাহলে স্বয়ং হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কতটা ভালোবাসতেন সেটা ফিকিরের বিষয়।
আর আজকে এক শ্রেনীর লোক তারা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজেদের মতই মনে করে। নাউযুবিল্লাহ।

বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৬

মা আমিনা আলাইহাস সালাম রচিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ না’ত শরীফ দ্বারাই ঈদে মীলাদুন্নবীর স্পষ্ট দলীল পাওয়া যায়


নাবিইয়ুর রহমাহ, হাবীবুল্লাহ নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শান মুবারক-এ উনার আম্মা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত মা আমিনা আলাইহাস সালাম রচিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ না’ত শরীফ দ্বারাই ঈদে মীলাদুন্নবীর স্পষ্ট দলীল পাওয়া যায়। সেই মহান নাত শলীফের অনুবাদ ও শাব্দিক অর্থ দেয়া হলোঃ
وَاِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيْمٍ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনি সর্বোত্তম চরিত্র উনার অধিকারী।” (পবিত্র সূরা ক্বলম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
রহমতুল্লিল আলামীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানিতা শ্রদ্ধেয়া আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম স্বীয় আওলাদ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক শানে প্রশংসামূলক যে না’ত শরীফ বা ক্বাছীদা শরীফ পাঠ করেছিলেন তা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ না’ত শরীফ হিসেবে গণ্য ও পরিচিত। যা তিনি স্বীয় ইন্তিকাল এর অল্পক্ষণ পূর্বে পাঠ (আবৃত্তি) করেছিলেন। যা ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ আল্লামা হযরত ইমাম আবুল ফদ্বল আব্দুর রহমান আবূ বকর জালালুদ্দীন সুয়ূতী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ-৯১১) উনার ‘আল খছায়িছুল কুবরা- বাবুন মা ওয়াক্বায়া ইনদা ওয়াফাতি উম্মিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনাল আইয়াত’ ১ম খন্ড ১৩৫-১৩৬ পৃষ্ঠা এবং ‘কিতাবুল আযীম ওয়াস সুন্নাহ’ কিতাবে সঙ্কলন করেছেন। নিম্নে উক্ত মুবারক না’ত শরীফ বা ক্বাছীদা শরীফ উল্লেখ পূর্বক তার সহজ অনুবাদ ও শাব্দিক অর্থ সনদ সহ উল্লেখ করা হলো।-
اخرخ ابو نعيم من طريق الزهرى عن ام سماعة بنت ابى رهم عن أمها قالت: شهدت امنة ام رسول الله صلى الله عليه و سلم في علتها التى ماتت فيها ومحمد غلام يقع له خمس سنين عند راسها فنظرت إلى وجهه ثم قالت:
بارك فيك الله من غلام 
يا ابن الذى من حومة الحمام
نجا بعون الملك المنعام 
فودى غداة الضرب بالسهام
بمائة من ابل سوام 
ان صح ما ابصرت فى الـمنام
فانت مبعوث الى الانام 
من عند ذى الجلال والاكرام
تبعث فى الحل و فى الحرام 
تبعث با لتحقيق والاسلام
دين ابيك البر ابراهام 
فالله انهاك عن الاصنام
ان لا تواليها مع الاقوام
ثم قالت:
كل حى ميت وكل جديد بال
وكل كبير يفنى وانا ميتة وذكرى باق
وقد تركت خيرا وولدت طهرا
ثم ماتت فكنا نسمع نوح الجن عليها فحفظنا من ذلك:
نبكى الفتاة البرة اللامينة 
ذات الجمال العفة الرزينة
زوجة عبد الله والقرينة
ام نبى الله ذى السكينة
وصاحب المنبر بالمدينة
صارت لدى حفرتها رهينة
(كفاية الطالب اللبيب فى خصائص الحبيب الـمعروف الخصائص الكبرى للسيوطى رحمة الله عليه باب ما وقع عند وفاة امه صلى الله عليه وسلم من الايات الجلد ۱ الصفحة ۱۳۶-۱۳۵)

অনুবাদ: হযরত আবূ নুয়াইম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত তাবিয়ী ইমাম ইবনু শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হযরত উম্মু সামায়াহ বিনতু আবী রহম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উনার মাতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আমি হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালামের বিছাল শরীফের (ইন্তিকালের) সময় উনার নিকট উপস্থিত ছিলাম। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বয়স মুবারক তখন ছিলো পাঁচ বছর ( কিন্তু মশহুর বর্ননা মতে ৬ বছর)। তিনি উনার মায়ের মাথা মুবারকের পাশেই বসা ছিলেন। আর এমতাবস্থায় উনার মা সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নূরানী চেহারা মুবারকের দিকে না’ত শরীফ পাঠ করেছিলেন।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুবারক না’ত শরীফখানা হলো,(প্রতিটি শব্দের শাব্দিক অর্থ সহ দেয়া হলো )
۱. بارك فيك الله من غلام
يا ابن الذى من حومة الحمام

১. হে আমার যোগ্য পুত্র, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে বরকতময় করে সৃষ্টি করেছেন। হে আমার যোগ্য পুত্র আমার বিদায়ের সময় আমি তা বলে যাচ্ছি।
(শাব্দিক অর্থ : الله – আল্লাহ পাক, بارك – বরকতময় করেছেন, غلام – আমার পুত্র, حومة – ইন্তিকালের সময়, বিদায়ের মুহূর্ত, মউতকালীন অবস্থা, الحمام – আমার ইন্তিকাল বা বিদায়।)
۲. نجا بعون الملك المنعام
فودى غداة الضرب بالسهام

২. আল্লাহ মালিক মিনয়াম উনার অনুগ্রহে লটারীর সময় উটের বিনিময়ে আমার জীবন সঙ্গী (অর্থাৎ আপনার পিতা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম) বেঁচে যান।
(শাব্দিক অর্থ : نجا নাজাত পেয়েছেন, বেঁচে গিয়েছেন,بعون অনুগ্রহ, দয়া, রহমত, সাহায্, الملك সবকিছুর অধিপতি মহান আল্লাহ পাক, মালিক, المنعام নিয়ামতের মালিক, নিয়ামত দানকারী অনুগ্রহকারী فودى আমার জীবন সঙ্গী বা স্বামী, দিক, পক্ষ, দল, বাহিনী غداة সময়, সকাল, ভোর الضرب লটারী, ভাগ্য, প্রহার, উদাহরণ (এ শব্দটি অবস্থার চাহিদানুযায়ী অনেক অর্থ প্রদান করে) السهام উট।)
۳. بمائة من ابل سوام
ان صح ما ابصرت فى المنام

৩. একশত তরুতাজা উটের বিনিময়ে (আপনার পিতা) বেঁচে যান। আর আমি যা মুবারক স্বপ্নে দেখেছি নিশ্চয়ই তা সত্য। তা হলো-
(শাব্দিক অর্থ : مائة একশত, ১০০, ১শ’ ابل উট سوام তরুতাজা, হৃষ্টপুষ্ট, সুস্থ, রোগহীন ان নিশ্চয়ই, অবশ্যই صح সত্য, মিথ্যা নয় ما যা, যা কিছু ابصرت আমি দেখেছি فى মধ্যে, ভিতরে المنام স্বপ্নে, ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে।)
۴. فانت مبعوث الى الانام
من عند ذى الجلال والاكرام

৪. আপনি সমস্ত সৃষ্টি জগতের জন্য নবী ও রসূলরূপে প্রেরিত হয়েছেন। মহা সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী মহান আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকেই প্রেরিত হয়েছেন।
(শাব্দিক অর্থ : انت – আপনি, مبعوث – নবী ও রসূল রূপে প্রেরিত, الانام – সৃষ্টিজগৎ, মানবজাতি ও জিন জাতি, عند – পক্ষ থেকে ذى – অধিকারী, الجلال والاكرام – মহিমা, মহত্ত্ব, বড়ত্ব, মর্যাদা, সম্মান।)
۵. تبعث فى الحل و فى الحرام
تبعث با لتحقيق والاسلام

৫. আপনাকে নবী ও রসূলরূপে পাঠানো হয়েছে মদীনা শরীফ মক্কা শরীফ ও সারা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে। আপনাকে নবী ও রসূলরূপে পাঠানো হয়েছে হক্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
(শাব্দিক অর্থ : تبعث – আপনাকে নবী রসূল ও রহমত স্বরূপ পাঠানো হয়েছে, الحل – মক্কা শরীফ-এর এক বিশেষ স্থান الحرام – মদীনা শরীফ ও মক্কা শরীফ, التحقيق – হক্ব, সত্য দ্বীন, الاسلام – দ্বীন ইসলাম, শরীয়ত।)
۶. دين ابيك البر ابراهام
فالله انهاك عن الاصنام

৬. আপনি আপনার পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন (যা মূলত আপনার থেকেই উনাকে দান করা হয়েছিলো)। আর মহান আল্লাহ পাক আপনার সম্মান-মর্যাদার কারনেই আপনার উম্মতদেরকে মূর্তিপুজা থেকে রক্ষা করবেন।
(শাব্দিক অর্থ : دين – দ্বীন ইসলাম, ابيك – আপনার পিতা হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, البر – সত্য, ন্যায়, সঠিক ابراهام – হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দ্বীন انهاك – আপনার দ্বারা ধ্বংস করবেন, নিশ্চিহ্ন করবেন, اصنام – মূর্তিসমূহ, মূর্তিপূজা, প্রাণীর ছবি, ভাস্কর্য।)
۷. ان لا تواليها مع الاقوام
ان لا تواليها مع الاقوام

৭. যেনো মূর্তি-ভাস্কর্যের অনুশীলন সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা যমীনে কেউ না করে। যদিও মুশরিক সম্প্রদায় পূর্ব থেকে তার অনুশীলন করে আসছে।
(শাব্দিক অর্থ: ان لا توالى- যেনো অনুশীলন না করে, যেনো সমর্থন না করে, যেনো পৃষ্ঠপোষকতা না করে, ها- উহার অর্থাৎ মূর্তি ও ভাস্কর্যের مع- যদিও, সত্ত্বেও, সঙ্গে, সাথে, সহিত, সহকারে, সহযোগে الاقوام- সম্প্রদায়, জাতি, দল, গোত্র (এখানে মুশরিক সম্প্রদায় উদ্দেশ্য)।)
۸. كل حى ميت وكل جديد بال
وكل كبير يفنى وانا ميتة وذكرى باق

৮. প্রতিটি প্রাণীর একদিন মউত হবে। তেমনি প্রতিটি নতুন বস্তু পুরাতন হবে।
প্রত্যেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা একদিন ইন্তিকাল করবেন। আর আমিও (মধ্যবয়স্কা) বিদায় গ্রহণ করে চলে যাচ্ছি। কিন্তু আমার প্রশংসনীয় আলোচনা অনন্তকাল ধরে অবশিষ্ট থাকবে।

(শাব্দিক অর্থ : كل – প্রত্যেক, সকল, সব, সমস্ত حى – প্রাণী, জীবনধারী ميت – মউত, বিছাল, বিদায়, ইন্তিকাল, পূর্ণতা, মৃত্যু جديد – নতুন, নব, নবীন, কচি بال – পুরাতন, ফ্যাকাশে, ধ্বংস।
كل -প্রত্যেক, كبير – বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বড়, বয়সী, শায়েখ, يفنى – ধ্বংস হবে, ফানা হবে, انا – আমি, ميتة – বিদায়, বিছাল, ওফাত, ইন্তিকাল, ذكرى – আমার আলোচনা, আমার স্মরণ, باق – অবশিষ্ট, চলমান, অব্যাহত।)

۹. وقد تركت خيرا وولدت طهرا
وقد تركت خيرا وولدت طهرا

৯. কারণ আমি মহান আল্লাহ পাকের সর্বশ্রেষ্ঠ হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাকে রেখে যাচ্ছি। আমি আপনাকে পূত-পবিত্র হিসেবে আগমন করতে সাহায্য করেছি।
(শাব্দিক অর্থ: تركت- আমি রেখে গেলাম, خيرا- কল্যাণময়, বরকতপূর্ণ, রহমতনয়, ولدت- আমি আগমনে সাহায্য করেছি, طهرا – পাক-পবিত্র, পুতঃ পবিত্র, পবিত্রম।”)
বর্ননাকারী বলেন, যখন তিনি বিছাল শরীফ লাভ করলেন, তখন আমরা মুসলমান জিনদের ক্রন্দন বা আর্তনাদ শুনতে পেলাম। তাই আমরা উনাদের থেকেও না’ত শরীফ মুখস্ত করে নিলাম। মুসলমান জিনদের পঠিত না’ত শরীফ হলো,শাব্দিক অর্থ সহ অনুবাদঃ
۱. نبكى الفتاة البرة اللامينة
ذات الجمال العفة الرزينة

১. আমরা মধ্যবয়স্কা সৎকর্মপরায়ণা হযরত আমিনাহ আলাইহাস সালামের জন্য ক্রন্দন করছি। যিনি সৌন্দর্যের অধিকারিনী পবিত্রা ও জ্ঞানী।
(শাব্দিক অর্থ : نبكى আমরা ক্রন্দন করছি الفتاة মধ্যবয়স্কা, যুবতী البرة সৎকর্মপরায়ণা, সতী-সাধ্বী, পুণ্যময়ী الامينة হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাতার নাম, বিশ্বাসী, মুত্তাক্বী, আমানতদারিণী, শান্তিময়ী ذات অধিকারিনী الجمال সৌন্দর্য, সুন্দর العفة পবিত্রা, নির্দোষ, সংযমী, চারিত্রিক নিষ্কলুষতা الرزينة জ্ঞানী, বিচক্ষণ, মেধাবী, গম্ভীর, চিন্তাশীল।)
۲. زوجة عبد الله والقرينة
ام نبى الله ذى السكينة

২. যিনি হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার আহলিয়া ও জীবন সঙ্গিনী। প্রশান্তির অধিকারী মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাতা।
(শাব্দিক অর্থ : زوجة আহলিয়াহ, যাওজাহ, স্ত্রী।
عبد الله হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতার নাম, আল্লাহ পাকের প্রিয় আব্দ القرينة সঙ্গিনী, সাথী, স্ত্রী ام মাতা, মা, আম্মা ذى মালিক, অধিকারী السكينة প্রশান্তি, শান্তি, দয়া, মায়া, অনুগ্রহ, রহমত।)

۳. وصاحب المنبر بالمدينة
صارت لدى حفرتها رهينة

৩. এমন নবীজি যিনি পবিত্র মদীনা শরীফের মিম্বর শরীফের অধিপতি। উনার মাতা এখন নির্জন কবর শরীফ-এ যাওয়ার নিকটে উপনিত।
(শাব্দিক অর্থ : – صا حبঅধিকারী, মালিক, অধিপতি – المنبر খুতবাহ দেয়ার স্থান, নছীহতের স্থান – المدينة মদীনা শরীফ, পবিত্র শহর, পবিত্র স্থান – صارت উপনিত হয়েছেন – لدى নিকটে, কাছে, কাছাকাছি حفرتها – সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার কবর শরীফ, উনার রওদ্বা শরীফ, উনার মাজার শরীফ, – رهينة নির্জন, একাকী।”)
চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, হযরত আমিনা ত্বাহিরাহ, ত্বাইয়্যিবাহ আলাইহাস সালাম নিজের মর্যাদার কারণ ও ওসীলা হিসেবে আপন ছেলে সাইয়্যিদুনা, রসূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উল্লেখ করলেন। মূলত সমস্ত নিয়ামত , রহমত , বরকত এর উৎস তিনিই। তিনি যে বস্তুকে বা বিষয়কে ছোহবত দিয়েছেন এবং যে জিনিস বা বস্তু ছোহবত অর্জন করেছে সে বিষয় বা বস্তু বরকতময় রহমতপূর্ণ হয়ে গেছে। তেমনিভাবে পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম , পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ ও সোমবার শরীফ তারিখ ও বার হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে বরকতী ছোহবত এর কারণেই। সুবহানাল্লাহ। এজন্য ফতওয়া দেয়া হয়, মহান আল্লাহ পাক এর যমীনে সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ হচ্ছে পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সুবহানাল্লাহ্ !!

সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৬

আল্লাহ পাক সকল নবী রসূল আলাইহিস সালাম উনাদের থেকে ঈদে মীলাদে হাবীবী পালনের অঙ্গীকার নিয়েছেন


অত্যান্ত ফিকিরের একটা বিষয়। সত্যি ভেবে আরো অনেক কিছুই উপলব্ধিতে আসলো।
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
واذ اخذ الله ميثاق النبين لـما اتيتكم من كتاب وحكمة ثـم جائكم رسول مصدق لـما معكم لتؤمنن به ولتنصرنه قال اأقررتـم واخذتـم على ذلكم اصرى قالوا اقررنا قال فاشهدوا وانا معكم من الشاهدين. فمن تولى بعد ذلك فاولئك هم الفاسقون.
অর্থ : “(হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে আপনাদেরকে আমি কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য (নুবুওওয়াত ও রিসালত দেয়ার জন্য) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ব বিষয়ে উনার খিদমত মুবারক করবেন । আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে সকলে বললেন, হ্যাঁ, আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করলাম । তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম। তবে জেনে রাখুন যারা এই ওয়াদাকৃত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তারা চরম পর্যায়ের ফাসিক হয়ে যাবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১-৮২)


ফিকিরের বিষয় হচ্ছে, অন্যন্যা নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগন উনারা কিন্তু আল্লাহ পাকের উপর রোজে আজলে ঈমান এনেইছেন। আর প্রত্যোক নবী রসূল উনার স্বীয় উম্মতকে ঈমানও দান করেছেন। উনাদের প্রতি কালেমা শরীফ পড়েই সেই যামানার উম্মতরা ঈমান এনেছে। এখন সেই সকল নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগনও নবুওয়াত ও রেসালাত পেয়েছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান এনে, এবং খিদমত করার ওয়াদ প্রদান করে। যার স্বাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই। তাহলে ফিকিরের বিষয়, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কত নিগূঢ় সর্ম্পক, কত নৈকট্য। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনা ও উনার সানা সিফত করার শর্তে অন্যান্য নবী রসূলগন মর্যাদা লাভ করলেন। শুধূ তাই নয় ব্যাপারটা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে আল্লাহ পাক সর্তক করলেন, এই ওয়াদা থেকে সরে গেলে চরম বির্পযয় হবে।
সূরা আল ইমরানে এই বিষয়টা আল্লাহ পাক ফয়সালা করলেন, আবার পরবর্তী সূরা মায়িদাতে আবারো রিমাইন্ডার দিয়ে আবার ইরশাদ করেন,
وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّـهِ عَلَيْكُمْ وَمِيثَاقَهُ الَّذِي وَاثَقَكُم بِهِ إِذْ قُلْتُمْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖوَاتَّقُوا اللَّـهَ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٧﴾
তোমরা আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং ঐ অঙ্গীকারকেও যা তোমাদের কাছ থেকে নিয়েছেন, যখন তোমরা বলেছিলেঃ আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন। (সূরা মায়িদা ৭)
রোজে আজলে অঙ্গীকার নিয়ে জমীনে সেটা বাস্তবায়নের শক্ত ওয়াদা আল্লাহ পাক নিলেন, আর আমাদের মধ্যে এক শ্রেনীর উম্মত দাবীদার মাত্র ১৪০০ বছর আগের ফয়সালাই মানতে নারাজ। তারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সানা সিফত প্রশংসা শুনতেই চায় না। ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদয়াত বলে। নাউযুবিল্লাহ।

আল্লাহ পাক সকল নবী রসূল আলাইহিস সালাম উনাদের থেকে ঈদে মীলাদে হাবীবী পালনের অঙ্গীকার নিয়েছেন


অত্যান্ত ফিকিরের একটা বিষয়। সত্যি ভেবে আরো অনেক কিছুই উপলব্ধিতে আসলো।
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
واذ اخذ الله ميثاق النبين لـما اتيتكم من كتاب وحكمة ثـم جائكم رسول مصدق لـما معكم لتؤمنن به ولتنصرنه قال اأقررتـم واخذتـم على ذلكم اصرى قالوا اقررنا قال فاشهدوا وانا معكم من الشاهدين. فمن تولى بعد ذلك فاولئك هم الفاسقون.
অর্থ : “(হে আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে আপনাদেরকে আমি কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য (নুবুওওয়াত ও রিসালত দেয়ার জন্য) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনাকে নবী ও রসূল হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ব বিষয়ে উনার খিদমত মুবারক করবেন । আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে সকলে বললেন, হ্যাঁ, আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করলাম । তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম। তবে জেনে রাখুন যারা এই ওয়াদাকৃত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে তারা চরম পর্যায়ের ফাসিক হয়ে যাবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১-৮২)


ফিকিরের বিষয় হচ্ছে, অন্যন্যা নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগন উনারা কিন্তু আল্লাহ পাকের উপর রোজে আজলে ঈমান এনেইছেন। আর প্রত্যোক নবী রসূল উনার স্বীয় উম্মতকে ঈমানও দান করেছেন। উনাদের প্রতি কালেমা শরীফ পড়েই সেই যামানার উম্মতরা ঈমান এনেছে। এখন সেই সকল নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগনও নবুওয়াত ও রেসালাত পেয়েছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান এনে, এবং খিদমত করার ওয়াদ প্রদান করে। যার স্বাক্ষী স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই। তাহলে ফিকিরের বিষয়, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কত নিগূঢ় সর্ম্পক, কত নৈকট্য। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনা ও উনার সানা সিফত করার শর্তে অন্যান্য নবী রসূলগন মর্যাদা লাভ করলেন। শুধূ তাই নয় ব্যাপারটা এতই গুরুত্বপূর্ণ যে আল্লাহ পাক সর্তক করলেন, এই ওয়াদা থেকে সরে গেলে চরম বির্পযয় হবে।
সূরা আল ইমরানে এই বিষয়টা আল্লাহ পাক ফয়সালা করলেন, আবার পরবর্তী সূরা মায়িদাতে আবারো রিমাইন্ডার দিয়ে আবার ইরশাদ করেন,
وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّـهِ عَلَيْكُمْ وَمِيثَاقَهُ الَّذِي وَاثَقَكُم بِهِ إِذْ قُلْتُمْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖوَاتَّقُوا اللَّـهَ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ ﴿٧﴾
তোমরা আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং ঐ অঙ্গীকারকেও যা তোমাদের কাছ থেকে নিয়েছেন, যখন তোমরা বলেছিলেঃ আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি খবর রাখেন। (সূরা মায়িদা ৭)
রোজে আজলে অঙ্গীকার নিয়ে জমীনে সেটা বাস্তবায়নের শক্ত ওয়াদা আল্লাহ পাক নিলেন, আর আমাদের মধ্যে এক শ্রেনীর উম্মত দাবীদার মাত্র ১৪০০ বছর আগের ফয়সালাই মানতে নারাজ। তারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সানা সিফত প্রশংসা শুনতেই চায় না। ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদয়াত বলে। নাউযুবিল্লাহ।

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৬

দেওবন্দী মুরুব্বী মাসিক মদীনার সম্পদক মহিউদ্দীনের লেখনিতেই প্রমাণ হলো নবীজী নূর

খাসায়েসুল কুবরা পৃথিবী বিখ্যাত এক কিতাব। লেখক হচ্ছেন বিখ্যাত ইমাম হযরত জালালুদ্দীন সূয়ুতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। বাংলায় এ কিতাবের অনুবাদ করেছে দেওবন্দীদের অন্যতম মান্যবর মাহিউদ্দীন (মাসিক মদীনার সম্পাদক) । 


দেখুন কিতাবের শুরুতে অনুবাদকের আরজে মাহিউদ্দীন লিখেছে, “এ কিতাব সহীহ বর্ণনার এক অপূর্ব সমাহার।” দেখা গেলো মাহীউদ্দীন স্বীকারোক্তি করলো এই কিতাবের বর্ণনা গুলো সহীহ।

এবার কিতাবের ১ম খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠায় চলে যান। লাল বন্ধনীতে আবদ্ধ বর্ণনাটি পড়ুন- “হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা বর্ণনা করেন, আমি সকালবেলা কাপড় সেলাই করছিলাম, হঠাৎ আমার হাত থেকে সূঁচটি পড়ে গেলো। অনেক খোজা-খুজি করে সেটি পাওয়া গেলো না। অতঃপর , হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আগমন করলে মুখমন্ডলের উজ্বল্যে (মূল কিতাবে আছে ‘নূরের’ উজ্বলতায়) সূঁচটি দৃষ্টিগোচর হয়ে গেলো।”



সূতরাং দেওবন্দীদের স্বীকারোক্তিতেই প্রমাণ হলো উক্ত হাদীস শরীফ সহীহ। বিরোধীতা করলে নিজেদের মুরুব্বীকেই মূর্খ সাব্যস্ত করতে হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৬

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই নিজের প্রসংশা করেছেন


সকল নবীদের নবী, ইমামুন্ নাবিয়্যীন, রসূলুরব্বিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই সৃষ্টির সেরা। এই সম্পার্কে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-

عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم جلس ناس من اصحاب رسول الله عليه وسلم فخرج حتى اذا دنا منهم سمعهم يتذاكرون قال بعضهم ان الله اتخذ ابراهيم خليل الله وقال اخر موسى عليه السلام كلمة تكليما وقال اخر فعيسى عليه السلام كلمة الله وروحه وقال اخر ادم اصطفاه الله فخرج عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال سمعت كلامكم وعجبكم ان ابراهيم خليل الله وهو كذالك وموسى عليه السلام نجى الله وهو كذالك وعيسى عليه السلام كلمة الله وهو كذالك وادم اصطفاء الله وهو كذالك الا وانا حبيب الله ولافخر وانا حامل لواء الحمد يوم القيمة تحته ادم فمن دونه ولا فخر وانا اول شافع واول مشفع يوم القيمة ولافخر وانا اول من يحرك حلق الجنة فيفتح الله لى ويدخلنى ومعى فقراء المؤمنين ولافخر وانا اكرم الاولين والاخرين على الله ولافخر.
অর্থ : হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা হতে বর্ণিত একদা কতিপয় ছাাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এক স্থানে বসে কিছু বিষয় আলোচনা করতে ছিলেন এমন সময় আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হুজরা শরীফ থেকে বের হয়ে উনাদের নিকটবর্তী হয়ে সে আলোচনা শুনতে পেলেন। উনাদের মধ্যে একজন আলোচনা করলেন যে মহান আল্লাহ পাক হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আরেকজন বললেন মহান আল্লাহ পাক হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার সাথে সরাসরী কথা বলেছেন। আরেকজন বললেন, মহান আল্লাহ পাক হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনাকে কালিমাতুল্লাহ ও রুহুল্লাহ করেছেন। অন্য আরেকজন বললেন মহান আল্লাহ পাক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে খাছ ভাবে (কুদরতী হাতে সৃষ্টি) মনোনীত করেছেন। এমন সময় আল্লাহ পাক উনার নবী সাইয়্যিদুল খালায়িক্ব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সামনে হাজির হয়ে বললেন, আমি আপনাদের কথা/আলোচনা ও পূর্ববর্তী নবী রসূল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের মর্যাদা বর্ণনা করে আশ্চর্য হওয়ার অবস্থা শ্রবন করেছি। আপনারা জেনে রাখেন, নিশ্চয়ই হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম তিনি খলীলুল্লাহ ছিলেন এটা সত্য কথাই, হযরত মুসা আলাইহিস সালাম নাজিউল্লাহ ছিলেন এটাও সত্য কথা, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি আল্লাহ পাক উনার রুহু ও কালিমা ছিলেন এটাও সত্য কথা। আর হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খাছ ভাবে মনোনীত করেছেন। এটাও সত্য কথা। তবে আপনারা সাবধান হয়ে যান (আমার ব্যাপারে আপনারা জেনে রাখ) আমি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব তাতে আমরা কোন ফখর নেই। একমাত্র আমার হাতেই কিয়ামতের দিন প্রশংসার পতাকা থাকবে যার অধীনে হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে সমস্ত নবী রসূল, সমস্ত কায়িনাত সেই পতাকা তলে আশ্রয় নিবেন তাতেও আমার কোন ফখর নেই। ক্বিয়ামতের দিন আমিই সর্ব প্রথম সুপারিশ করব এবং আমার সুপারিশই সর্ব প্রথম কবুল করা হবে তাতেও আমার কোন ফখর নেই, আমিই ক্বিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম বেহেস্তের দরজায় নাড়া দিব। আমার জন্য সর্ব প্রথম বেহেস্ত খোলা হবে, আমি এবং আমর কিছু খাছ উম্মত সর্ব প্রথম বেহেস্তে প্রবেশ করব তাতেও আমার কোন ফখর নেই, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল কায়িনাতের মধ্যে আমিই সর্বাধিক সম্মানিত তাতেও আমার কোন ফখর নেই। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী - কিতাবুল মানাকিব হাদীস: ৩৬১৬ , দারেমী ৪৭, মিশকাত, কানযুল উম্মাল)

আলোচ্য হাদীছ শরীফে অনেকগুলো বিষয় প্রতিভাত হয়। যথা:-
১. হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ পূর্ববর্তী নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম গণ-এর ফযীলত, মর্যাদা, মর্তবা, শান-শওকত নিয়ে আলোচনা করতেন। আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম তা সমর্থনও করলেন এমনকি তা নিষেধ না করে স্বয়ং নিজের প্রশংসা তাঁদেরকে জানিয়ে দিলেন।
২. পরবর্তীদের জন্য পূর্ববর্তীদের ছানা-ছিফত প্রশংসা করা তথা উম্মতের জন্য উনাদের নবীর শানে মীলাদুন নবী করা সুন্নত।
৩. ক্ষেত্র বিশেষে নিজের প্রশংসা নিজে করাও সুন্নত।
৪. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনিই উনাকে মুহব্বত করেন। সেই মুহব্বতের কারনেই আল্লাহ পাক সমগ্র কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন। হাদীছে 
কুদসী শরীফে এসেছে- আল্লাহ পাক বলেন,
كُنْتُ كَنْزَا مُخْفِيًّا فَاَحْبَبْتُ اَنْ اُعْرَفَ فَخَلَقْتُ الْخَلْقَ لِاُعْرَفَ.
অর্থঃ- আমি গুপ্ত ছিলাম। তখন আমর মুহব্বত হলো যে, আমি প্রকাশিত হই, তখনই আমি সৃষ্টি করলাম (আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে)। (আল মাকাসিদুল হাসানা ৮৩৮, কাশফূল খিফা/২০১৩, আসনাল মুত্বালিব/ ১১১০, তমীযুত তসীয়ূত তীব/১০৪৫, আসরারুল মারফুআ/৩৩৫, তানযিয়াতুশ শরীয়াহ ১/১৪৮, আদ্দুরারুল মুন্তাছিরা/৩৩০, আত্ তায্কিরা ফি আহাদীসিল মুশতাহিরা/১৩৬)
নূরে মুজাসসাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাবীবুল্লাহ হওয়ার কারণেই মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারকের সাথে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারককে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। উনার উসীলাতেই সমগ্র কায়িনাত সৃষ্টি করেছেন, উনার মুবারক উসীলাতেই মহান বারে এলাহী সমগ্র মাখলুকাতকে রহমত বরকত সাকীনা দান করেছেন এমনকি স্বয়ং রব্বুল আলামীন উনার রুবুবিয়্যত প্রকাশ করেন উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছীলায়।
৫. সমস্ত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম, সমস্ত ক্বায়িনাত, সমস্ত মাখলুকাত এককথায় মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত কিছুই ইহকাল ও পরকালে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অধীন হবে।
৬. সর্ব প্রথম আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় খাছ খাছ উম্মতগণ সহ জান্নাতে প্রবেশ করবেন। সর্ব প্রথম তিনিই জান্নাত খোলার জন্য জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়া দিবেন এবং উনার জন্যই উহা খোলা হবে। এর পূর্বে কোন মাখলুকাতই জান্নাত দেখতেও পারবেনা, তাতে প্রবেশও করতে পারবেনা।
৭. সৃষ্টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত মর্যাদা ও মর্তবার অধিকারী হচ্ছেন আফদ্বালুল কায়িনাত, খইরু খলক্বিল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সকল মাখলুকাতই আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছীলায় মর্যাদা লাভ করেছে। এমনকি কোন নবীকে ন্বুওয়াত দেয়া হয়নি কোন রসূলকে রিসালত দেয়া হয়নি। যতক্ষন পর্যন্ত সমস্ত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম গণ আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বীকৃতি না দিয়েছেন। সুতরাং নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম গণ উনাদের নুবূওয়াত ও রিসালত আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উছীলায়ই লাভ করেছেন।

আল্লাহ পাক উনার কালাম পবিত্র কুরআন শরীফ-এর প্রতিটি পারায়, প্রতিটি সূরায়, প্রতি আয়াত শরীফ-এ, প্রতি শব্দে, অক্ষরে, হরকতে ও নুক্তায় নুক্তায় আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত, মর্যাদা, মর্তবা শান-শওকত বর্ণনা করা হয়েছে।
এক কথায় আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে যত মর্যাদা-মর্তবা রয়েছে সমস্ত মর্যাদা ও মর্তবার অধিকারী হচ্ছেন আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মাজাস্সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি শুধুমাত্র আল্লাহ পাক নন, এছাড়া আর যত মর্যাদা ও মর্তবা রয়েছে। সমস্ত মর্যাদা ও মর্তবার অধিকারী আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

যে নবীজী নিজেই উনার প্রসংসা করেছেন, সেখানে আমরা উম্মত হয়ে যদি প্রসংসা করি ওহাবীদের গা জ্বালা করে কেন???