বাল্য বিবাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাল্য বিবাহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট, ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার বাল্য বিবাহ হয়েছিলো


আজ প্রধানমন্ত্রী মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার জন্মদিন। আজ এই দিনে আপনাদের একটা বিশেষ ঘটনা শোনাবো।
“বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী” বইটার নাম সবাই শুনেছেন। ১৯৬৭ সালে জেলে বসে বঙ্গবন্ধু নিজের আত্মজীবনী লিখেন। ২০০৪ সালে সেই পান্ডুলীপি শেখ হাসিনা হস্তগত হয়। পরবর্তীতে সেই বই ২০১২ সালে প্রকাশ হয়। 
আজ সেই গুরুত্বপূর্ণ বই থেকে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো। উক্ত বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় লেখা আছে, বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেন-
“ আমার যখন বিবাহ হয় তখন আমার বয়স বার তের হতে পারে। রেনুর বাবা মারা যাওয়ার পরে ওর দাদা আমার আব্বাকে ডেকে বললেন, তোমার বড় ছেলের সাথে অামার নাতনীর বিবাহ দিতে হবে। কারন আমি সমস্ত সম্পত্তি ওদের দুই বোনেকে লিখে দিয়ে যাব। রেনুর দাদা অামার আব্বার চাচা। মুরুব্বীর হুকুম মানার জন্যই রেনুর সাথে আমার বিবাহ রেজিষ্ট্রি করে ফেলা হলো। আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে। তখন কিছুই বুঝতাম না, রেনুর বয়স তখন বোধহয় তিন বছর হবে।””” (অসমাপ্ত আত্মজীবনী পৃ. ৭)

যা প্রমাণ হলো,
১) বিয়ের সময় বঙ্গবন্ধুর বয়স ছিলো ১৩ বছর।
২) বিয়ের সময় বেগম ফজিলাতুন্নেছার বয়স ছিলো ৩ বছর।
এই বিবাহ নিঃসন্দেহে বাল্য বিবাহ।

অতএব, আজকের এই দিনে আশা করি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নিজের পিতা ও মাতার বাল্যবিবাহের দিকে খেয়াল রেখে বাল্য বিবাহ বিরোধী অাইন থেকে ফিরে আসবেন, এবং বাল্য বিবাহের সুযোগ করে দিবেন।

সুনানে দারু কুতনীতে বর্ণিত আছে ১৮ বছরের একজন মেয়ে নানী হয়েছে, যা বাল্য বিবাহের অকাট্য দলীল

কিছু দিন আগের এক লেখায় একটা দলীল দিয়েছিলাম ২১ বছরে এক মেয়ে নানী হয়েছেন। আজকের এই লেখায় আপনারা দেখবেন এক মেয়ে ১৮ বছর বয়সে নানী হয়েছে। যা সহীহ হাদীছ শরীফের কিতাব থেকে বর্ণিত আছে। উক্ত দলীল স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে বাল্যবিবাহ শরীয়ত সম্মত। কিতাবে উল্লেখ আছে,



মূল কিতাবের স্কিনশট দেয়া হলো,


حَدثنِي عباد بن عباد المهلبي قَالَ أدْركْت فِينَا يَعْنِي المهالبة امْرَأَة صَارَت جدة وَهِيبنت ثَمَان عشرَة سنة ولدت لتسْع سِنِين ابْنة فَولدت ابْنَتهَا لتسْع سِنِين ابْنة فَصَارَت هِيَ جدة وَهِي ابْنة ثَمَانِي عشر سنة
অর্থ: হযরত আব্বাদ ইবনে আব্বাদ আল-মাহলভি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলছেন : “আমি মুহ্‌লাভার একটি মহিলাকে প্রত্যক্ষ করেছি যে আঠারো বছর বয়সে নানী হয়েছিল। সে তার (মেয়ে সন্তানের) জন্ম দিয়েছিল নয় বছর বয়সে এবং তার মেয়েও একটি সন্তানের জন্ম দেয় নয় বছর বয়সে, এভাবে মহিলাটি আঠারো বছর বয়সে নানী হয়ে যায়”। (সুনানে দারু কুতনী ৪র্থ খন্ড ৫০২ পৃষ্ঠা: হাদীস নং ৩৮৮১, সুনানে কুবরা বায়হাক্বী ১৫৮১৫, তানক্বীহু তাহক্বীক লি ইবনে আব্দিল হাদী ৪ র্থ খন্ড ৩২৪ পৃষ্ঠা : হাদীস ২৭১৩, তানক্বীহু তাহক্বীল লি যাহাবী ২/১৭৮, তাহ্‌ক্বীক্ব ফী আহাদিস আল-খিলাফ, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৬৭)
১৮ বছরে নানী হতে গেলে নিশ্চয়ই বাল্যবিবাহ হতে হয়েছে? যা দারু কুতনী ও বায়হাকীর মত সহীহ হাদীছ শরীফের কিতাব দ্বারা প্রমাণিত। এর পরও বাল্যবিবাহ বিরোধীতাকারী মুসলমান নামধারীরা দলীল খুঁজে পায় না?

সোমবার, ৭ আগস্ট, ২০১৭

বাল্য বিবাহের বিরোধীতা মূলত সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্র

কোন বির্ধমী যখন মুসলমানদের উপকারের কথা বলে তখন বুঝবেন, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে ফয়সালা দিয়ে রেখেছেন মুসলমানরা তাদের সবচাইতে বড় শত্রু হিসাবে পাবে ইহুদী ও মুশরিকদের তথা বির্ধমীদের। 
যখন এই কাফির বিধর্মীরা মুসলামানদের উপকারের কথা বলে বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করে, একাধিক সন্তান না নেয়ার প্রচারনা চালায় তখন প্রশ্ন জাগে তাদের উদ্দেশ্য কি?

The telegraph পত্রিকায় নিউজ এসেছে, Islam is the only religion growing faster than the world's population, and it will be the largest in the world by 2070, research has found (http://bit.ly/2mP1CMH). 
এটা তারা অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে মুসলমানদের সংখ্যা পৃথিবীর সব ধর্মের লোকদের চাইতে বেশি হবে, এই সংখ্যাধিক্যতা তাদের কাছে বিরাট এক হুমকী। তারা বোঝে মুৃসলামানদের সংখ্যা বেড়ে গেলে একসময় সমগ্র পৃথিবীতে তাদেরর কর্তৃত্ব থাকবে না।

যেটা মার্কিন উপদেষ্টা হেনরী কিসিঞ্জারের "National Security Study Memorandum 200 তে উল্লেখ রয়েছে The study falsely claimed that population growth in the so-called Lesser Developed Countries (LDCs) was a grave threat to U.S. national security. অর্থাৎ কিছু দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির একটি গুরুতর হুমকি মনে করা হয়।
Adopted as official policy in November 1975 by President Gerald Ford, NSSM 200 outlined a covert plan to reduce population growth in those countries through birth control.
প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড কর্তৃক নভেম্বর 1975 সালে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে NSSM 200 জন্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সেই দেশগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানোর জন্য একটি গোপন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ।
কিসিঞ্জার তাদের দেশ আমেরিকাকে কথিত হুমকীর হাত থেকে বাঁচাতে যে পদক্ষেপ নেয় যেটাতে বলা হয়েছে, There were several measures that Kissinger advocated to deal with this alleged threat, most prominently, birth control and related population-reduction programs. 
কিসিঞ্জার তাদের হুমকির মোকাবেলা করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন, জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট জনসংখ্যা-হ্রাস প্রোগ্রাম। (সূত্র: http://archive.is/3hMmJ)

আর এ জন্য ১৯৭৫ সালে ১৩ টি দেশকে ঐ সময় চিহিৃত করা হয়, Thirteen countries are named in the report as particularly problematic with respect to US security interests: India, Bangladesh, Pakistan, Indonesia, Thailand, the Philippines, Turkey, Nigeria, Egypt, Ethiopia, Mexico, Colombia, and Brazil.  (http://archive.is/5V6Vk)
আমরা এই লিষ্টের দিকে তাকালে আমাদের দেশকে প্রথম দিকেই দেখতে পাই যেটা আমেরিকা তথা পশ্চিমাদের কাছে হুমকী। অার এ হুমকী নিরসন করতে তারা তৎপর হয়েছে বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে, তৎপর হয়েছে জনসংখ্যা কমাতে।
একারনে তারা মুসলমানদের সংখ্যা কমানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। যেমন বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, পরিবার পরিকল্পনা পদ্মতির মাধ্যমে একাধিক সন্তান না নেওয়া ইত্যাদি। আর আমরা তাদের গাধার নাকে বেধেঁ সেই মূলা পিছনে ছুটছি , ভূলে গিয়েছি ইসলামের আর্দশ বাল্যবিবাহ ও অধিক সন্তানের ফযিলতের কথা।

অন্য সকল ধর্ম ও সমাজে বাল্য বিবাহের কথা থাকলেও শুধু মুসলমানদের বিরোধীতা কেন?

বাল্যবিবাহের বিরোধীতায় কাদের এত চুলকানি?
বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তাবাকাতে সা’দ সহ অসংখ্য কিতাবে বাল্য বিবাহ সর্ম্পকে একধিক সনদে দলীল পাওয়া যায়। তারপরও কেন যেন বিরোধিতা!!! কারা এর মূল বিরোধী?
তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখলাম শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মই নয় বরং ইহুদী, খ্রিষ্টান, হিন্দু সম্প্রদায়ের বই গুলোতেও বাল্যবিবাহের ব্যাপক দলীল রয়েছে।
catholic Encyclopedia তে আছে, “সাধারণ আইনে, যে বয়সে ছোটোরা বিবাহের উপযুক্ত হয় যা সম্মতির বয়স হিসেবে পরিচিত, তা নির্ধারিত হয় ছেলেদের জন্য ১৪ বছর এবং মেয়েদের জন্য ১২ বছর। সাত বছরের কম বয়সে উভয়ের বিবাহ বাতিল ছিল, কিন্তু সাত এবং সম্মতির বয়সের (ছেলেদের জন্য ১৪ এবং মেয়েদের জন্য ১২ বছর) মাঝামাঝি সময়ে তারা একটি অসম্পূর্ণ বিবাহের চুক্তি করতে পারে যা বাতিলযোগ্য হলেও একান্তভাবে বাতিল নাও হতে পারে। (http://www.newadvent.org/cathen/09691b.htm)

পূর্ণবয়স্ক পুরুষ এবং একটি অল্প বয়সী বালিকার মধ্যে এই ধরনের বাগ্‌দানের একটি উদাহরণ সেন্ট আউগুস্টাইনের (৩৫৪-৪৩৯ খ্রিঃ) বাগ্‌দান। ৩১ বছর বয়সে আউগুস্টাইন একটি দশ বছরের মেয়ের সঙ্গে বাগ্‌দান করেছিলো।

শুধু তাই নয় খৃষ্টধর্মানুসারী রাজা বাদশারাও বাল্য বিবাহ করেছিলো,
দ্বিতীয় কিং রিচার্ড ত্রিশ বছর বয়সে একজন ফরাসি রাজকুমারীকে বিবাহ করেছিলো। তাঁর নাম ইসাবেলা, সেসময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাত বছর। http://en.wikipedia.org/wiki/Isabella_of_Valois
প্রথম কিং আন্ড্রোনিকোস কোমনেনোস, বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের খ্রিস্টান নেতা, ৬৪ বছর বয়সে ফ্রান্সের বারো বছরের আগ্নেসকে বিয়ে করেছিলো 

নরওয়ের ষষ্ঠ রাজা হাকোন দশ বছরের রাণী মার্গারেটকে বিবাহ করেছিলো।
দ্বিতীয় রোমানোস ইতালির রাজকন্যা বার্থাকে (নতুন নাম ইউডোকিয়া) বিবাহ করেছিলো, সেসময় রাজকন্যার বয়স ছিল মাত্র চার বছর।
মেরি স্টেওর্ট অষ্টম হেনরিকে বিবাহ করেছিলো যখন তার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর।
দেখুন হিন্দু ধর্মে কি আছে, The Encyclopedia of Religion and Ethics (ধর্ম ও নৈতিকতার এনসাইক্লোপিডিয়া)-তে উল্লেখ আছে : 
“কন্যাকে বিবাহ ছাড়াই বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছতে দিলে পিতা পাপী হয় এবং মেয়েটি নিজেকে একজন শুদ্রের (নিম্ন উপজাতি) স্তরে নিপতিত করে। মনু-স্মৃতি স্বামী এবং স্ত্রীর বয়স স্থির করে যথাক্রমে ৩০ এবং ১২ অথবা ২৪ এবং ৮ বছর; বৃহস্পতির পরের কার্য এবং মহাভারতের নীতিমূলক অংশ এই ক্ষেত্রগুলিতে স্ত্রীর বয়স স্থির করে যথাক্রমে ১০ এবং ৭। পরের অংশে উল্লেখ আছে : নিম্নসীমা ৪ থেকে ৬ বছর এবং উর্ধ্বসীমা ৮ বছর। এই দিনগুলি নিছক তাত্ত্বিক ছিল না, এর পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। (Encyclopedia of Religion and Ethics, p.450)

দেখা যায়, অন্য ধর্মেও বাল্য বিবাহের বিষয়ে অনেক প্রমাণ রয়েছে। তাহলে বাল্য বিবাহের বিরোধীতা করে কারা? 
উত্তর সহজ। যারা কোন ধর্মে বিশ্বাসী না অর্থাৎ যারা নাস্তিক তারাই বাল্য বিবাহ নিয়ে আপত্তি তুলে থাকে। 

যারা বলে বাল্য বিবাহ হলে শারীরিক সমস্যা হয় তারা কি এই তথ্য জানে?

অল্প বয়সে বিবাহ করলে শরীরিক সমস্যা হয়, এমন উদ্ভট কথা বলে মানুষকে বাল্য বিবাহ থেকে প্রতিহত করা হচ্ছে। তারা বিভিন্ন মেডিক্যাল সাইন্সের অযুহাত দ্বারা মানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে। 
আসুন মেডিক্যাল সাইন্স ও বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যান দ্বারা বিষয়টা যাচাই করার চেষ্টা করি। 
মেডিক্যাল সাইন্স মতে একটা মেয়ের বয়ঃসন্ধিকাল শুরু ৮ বছর থেকে শুরু করে ১৪ বছরের মধ্যেও হতে পারে। প্রকৃত পক্ষে এর কম বয়সেও অর্থাৎ ৫ বছর বয়সেও মেয়েদের গর্ভধারন ও সন্তান প্রসবের দৃষ্টান্তও পৃথিবীতে আছে। https://en.wikipedia.org/wiki/Lina_Medina
বয়ঃসন্ধি ছেলেদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ঘটে (http://bit.ly/2woMbje) অর্থাৎ এ বয়সে কেউ আর শিশু থাকে না। এ সময় তার পক্ষে সন্তান ধারনও সম্ভব। এই বয়সে বা এর চাইতে কম বয়সে অসংখ্য মেয়ে মা হয়েছে, সন্তানকে দুগ্ধ পান করিয়েছে। পরিশেষে মা ও সন্তান উভয়ে সুস্থ জীবন যাপন করেছে।
২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৮ সালে পৌরেঞ্জ পেরুতে লিনা মেডিনা নামক ৫ বছর ৭ মাস ২১ দিন বয়সের এক মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। উইকিপিডিয়ায় আছে,
“লিনা মেদিনা ৫ বছর ৭ মাস ২১ দিন বয়সে সন্তানের জন্ম দেন। তিনি ছিলেন চিকিৎসা-ইতিহাসের সর্বকনিষ্টা মা।”। (http://en.wikipedia.org/wiki/Lina_Medina)

এখানেই শেষ নয়, নিম্নোক্ত তালিকার দিকে যদি দৃষ্টিপাত করেন তবে পেয়ে যাবেন এক অভূতপূর্ব ঘটনার চিত্র। ৫ থেকে শুরু করে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রায় ১০০ মেয়ের তালিকা আছে যারা ঐ বয়সে মা হয়েছে। http://archive.is/dsRil
কই কোন সমস্যা তো হলো না? তবে কেন মুসলমানদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ বিরোধী এত কথা বার্তা? 
সমগ্র পৃথিবীব্যাপী তথা কথিত অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক নামধারীরা মেয়েরা প্রেগনেন্ট হচ্ছে, অবৈধ বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে, কেউবা এব্রোশন করে ফেলছে। সুশীল নামক কুশীলরা এসব বাচ্চাদের স্কুলে পাঠ্য বইতে এই বয়সে শারীরিক সম্র্পক যদি কেউ করেই ফেলে তাদের কি করতে হবে, কি ব্যাবহার করতে হবে, কি খেতে হবে সে শিক্ষা দেয়া হয়েছে কিন্তু বাল্য বিবাহের মাধ্যমে চরিত্র রক্ষার যে পথ সেটা বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। 
এসব সুশীল সমাজের ছত্রছায়ায় ছেলে মেয়েরা অল্প বয়সে নোংরামী বদমাইশি করতে পারবে তবে অপকর্ম করার আগে কন্ডম রাখার পরামর্শ, অথবা মেয়েদের ট্যবলেট খাওয়ার পরামর্শ, নিতান্তই পেটে বাচ্চা এসে গেলে এব্রোশনের পরামর্শ সবই ফ্রিতে পাওয়া যায় কিন্তু বাল্য বিবাহের মাধ্যমে বৈধ সর্ম্পক সেটা যেন তাদের চোখের বালি।

আকাম কুকামে নারীবাদী বদমাশ গুলোর কোন মাথা ব্যাথা নাই। মাথা ব্যাথা শুরু হয় শরীয়ত সম্মতভাবে বাল্য বিবাহ দিতে গেলে।

বাল্য বিবাহের বিরোধীরাই ছেলে মেয়েদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছে

বাল্য বিবাহের বিরোধীতা করে সমাজের ছেলে ও মেয়েদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে অসামাজিক কাজে। বাল্য বিবাহ বিরোধী অনেক প্রচারনা শোনা যায় কিন্তু এসব ছেলে মেয়েরা যখন অসামাজিক কর্মে লিপ্ত হয় সেটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। সংবাদপত্র সমূহে প্রতিনিয়ত এমন সব সংবাদ আসছে সেগুলো দেখলে সবাই বুঝবেন বাল্য বিবাহের বিরোধীতার কুফল কিভাবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছে।
অবৈধ সর্ম্পকে জড়িয়ে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তানের বয়ে বেড়াচ্ছে ৫ম শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রী (http://bit.ly/2u1oqx4) । ৫ম শ্রেনীতে পড়ে এমন এক ছাত্রী অবৈধ সর্ম্পক করে গর্ভবতী হয়ে তার অধিকার আদায়ের জন্য লড়ছে। বয়স কত হবে ৫ম শ্রেনীর এই ছাত্রীর? বড়জোড় ৯/১০ !! যদি বাল্য বিবাহের ব্যবস্থা সমাজে থাকতো তবে চিত্রটা এমন নাও হতে পারতো।
নিউজে আরো এসেছে ১১ বছরের এক বালক ১৮ বছরের এক মেয়েকে অন্তঃসত্ত্বা করেছে (http://bit.ly/2ulyNLh)। এসব সমাজিক এ অবক্ষয়ের কারন কি কেউ ভেবে দেখেছেন? আজ যারা বাল্য বিবাহের বিরোধীতায় দিন রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছে তারা এসবের কি ব্যাখ্যা দিবে? 
শুধু কি তাই? সমাজে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। ১৩/১৪ বছরের এসব মেয়েরা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে ফলশ্রুতিতে হতে হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা .... এরপর মেয়ে গুলো পায়ের নিচে মাটি হারিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। (http://bit.ly/2vj4tWs, http://bit.ly/2u2konT, http://bit.ly/2vjOaIE)
শুধু তাই নয় নষ্ট হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন, ধ্বংস হচ্ছে অসংখ্য সংসার। এসবের বেশির ভাগই লোক লজ্জার কারনে চাপা পরে যায়, কিছু প্রকাশ হয়। যেমন, বগুড়ায় দুলাভাইয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্কে অন্ত:সত্ত্বা ১৩ বছরের কিশোরী, গর্ভপাতে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা (http://bit.ly/2vjOaIE)

এখানেই কি শেষ? আমাদের এই বাংলাদেশে ৯০% পতিতা তাদের দেহব্যবসা শুরু করে শিশু বয়স থেকেই। ( http://bit.ly/2vdLMmq)
The Global March Against Child Labour - এর হিসেব মতে বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে পতিতার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। ২০০৫ সালে মার্কিন সরকারের মানবাধিকার রিপোর্ট অনুসারে অবশ্য ১৮ এর নিচে পতিতার সংখ্যা ছিলো ২৯ হাজারের বেশি। এসব শিশু পতিতারা শরীরবৃদ্ধির জন্য গরু মোটতাজাকরণ ট্যাবলেট খায় এবং দৈনিক ১৫-২০ জন পুরুষের সাথে মিলিত হয়।
গত ২০১৬ সালের ৩১শে অক্টোবর ব্রিটেনের ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া পতিতাপল্লী নিয়ে একটি রিপোর্ট করে। রিপোর্টে সাংবাদিক জানায়, এ পতিতাপল্লীতে একটি নারী প্রবেশ করে ১২-১৪ বছর বয়সে। (http://ind.pn/2dUUOgO)

১৮ বছরের অনেক নিচে ১২/১৪ বছর বয়সেই যেখানে চলছে লাইসেন্স সহ পতিতাবৃত্তি সেখানে বাল্য বিবাহের করা হচ্ছে বিরোধীতা? হাউ ফানি!! 
চারিত্রিক অবক্ষয়, সামাজিক মূল্যবোধের এমন নির্মম পরিনতি যেখানে সেখানে সমাজসেবী মানবতাবদীরা কখনো কি এর প্রতিকার নিয়ে ভেবেছে? আজ যদি বাল্য বিবাহ থাকতো তবে তাদের দ্বারা কি এমন অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ সম্ভব হতো? 
একটু খেয়াল করুন, ১৮ বছরের অনেক নিচে যাদের বয়স তারা অবৈধ সর্ম্পক কেউ গর্ভবতী হলে, আত্মহত্যা করলে অথবা কেউ এই বয়সে পতিতাবৃত্তি করলে চেতনা ব্যাবসায়ীদের চেতনায় আঘাত লাগে না। অথচ যদি শোনা যায় কোথাও বাল্যবিবাহ হচ্ছে তাহলে সেটা কিভাবে বন্ধ করা যাবে সেটার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করে হারামী গুলো। এদের উদ্দেশ্য হচ্ছে অল্প বয়সের ছেলে মেয়েদের দিয়ে নোংরামী করাবে কিন্তু বাল্যবিবাহ হতে দিবে না। পাশ্চাত্যোর মত অবৈধতায় সয়লাব করতে চায় আমাদের দেশকে। সূতরাং সাবধান..................

ইসলামের সোনালী যুগে বাল্য বিবাহ ছিলো, তখন একজন নানীর বয়স হতো ২১ বছর


আপনি কি জানেন ইতিহাসে রয়েছে ১৩০০ বছর আগে ইসলামের সোনালী যুগে ঘরে ঘরে বাল্য বিবাহ হতো? একজন নানী বা দাদীর বয়সই হতো ২১ বছর? তো আসুন এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেয়া যাক।
وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ حَدَّثَنِى أَبُو أَحْمَدَ : مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الشَّعْبِىُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَرْزُنَانِىُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ حَرْمَلَةَ حَدَّثَنِى جَدِّى حَدَّثَنِى الشَّافِعِىُّ قَالَ : رَأَيْتُ بِصَنْعَاءَ جَدَّةً بِنْتَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ سَنَةً ، حَاضَتْ ابْنَةَ تِسْعٍ وَوَلَدَتْ ابْنَةَ عَشْرٍ ، وَحَاضَتِ الْبِنْتُ ابْنَةَ تِسْعٍ وَوَلَدَتْ ابْنَةَ عَشْرٍ. {ت} وَيُذْكَرُ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ أَنَّهُ قَالَ : أَدْرَكْتُ جَارَةً لَنَا صَارَتْ جَدَّةً بِنْتَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ سَنَةً. وَعَنْ مُغِيرَةَ الضَّبِّىِّ أَنَّهُ قَالَ : احْتَلَمْتُ وَأَنَا ابْنُ اثْنَتَىْ عَشْرَةَ سَنَةً. وَرُوِّينَا عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ : إِذَا بَلَغَتِ الْجَارِيَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَهِىَ امْرَأَةٌ.
ইমাম বায়হাকিও ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উক্তি বর্ণনা করছেন , “আমি (ইয়ামানের) সানা শহরে এক নানীকে দেখেছি, তখন তার বয়স ছিল ২১ বছর। নয় বছর বয়সে তার ঋতুস্রাব শুরু হয় এবং দশ বছর বয়সে সে সন্তানের জন্ম দেয়”।
হযরত হাসান বিন সালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, আমাদের এক কিশোরীকে পেলাম যিনি ২১ বছরে নানী হয়েছেন। হযরত মুগীরাদ্ব তা দ্বব্বাইয়্যা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ননা করেন, আমি (আমার স্ত্রীকে) সন্তান সম্ভবা করেছি তখন আমার বয়স ছিলো ১২ বছর। উম্মুল মু’মিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, মেয়েদের বয়স নয় বছর হলে সে মহিলা। (সুনানে বায়হাকি কুবরা : ১/৪৭২: হাদীস নং ১৫৩১, জাওয়াহিরুন নক্বী ১/৩১৯)

উপরোক্ত দলীল দ্বারা আমরা দেখতে পেলাম পূর্ববর্তী সময়ে বাল্যবিবাহ সবখানেই বিরাজমান ছিলো। ছেলে ও মেয়ে উভয়ের বাল্য বিবাহ হতো। তবে কেন আজ বাল্য বিবাহের বিরোধীতা?

কোন মেয়ে সন্তানের বয়স ১২ বছর হলে বিয়ে না দিলে, তার দ্বারা কোন খারাপ কাজ হলে বাবা দায়ী হবে

একজন কন্যাকে পিতা ১২ বছর বয়সের মধ্যে বিবাহ না দিলে সে মেয়ে দ্বারা যদি কোন পাপ কাজ হয় তাহলে পিতাকে শাস্তি পেতে হবে।
হাদীছ শারীফে বর্ণিত আছে,
حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبْدُوسٍ، نا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، نا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، نا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، أنا -- أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ الْغَسَّانِيُّ، عَنِ الْمُجَاشِعِ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " مَكْتُوبٌ فِي التَّوْرَاةِ: §مَنْ بَلَغَتْ لَهُ ابْنَةٌ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً فَلَمْ يُزَوِّجْهَا فَرَكِبَتْ إِثْمًا فَإِثْمُ ذَلِكَ عَلَيْهِ
হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাওরাত শরীফে লেখা আছে যে, যখন কারো কন্যা সন্তান বারো বছর বয়সে পৌঁছে, আর সে যদি তার বিয়ে না দেয়, আর তার দ্বারা যদি কোনো পাপকর্ম হয়, তবে ঐ পাপকর্ম পিতার ওপর বর্তাবে। (বায়হাক্বী- শু‘আবুল ঈমান ৮৩০৩, মিশকাত শরীফ ৩১৩৯, তাফসীরে মাযহারী সূরা নূরের ৩২ নং অায়াত শরীফের তাফসীর )
উক্ত হাদীছ শরীফ খানা হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আনান বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে ২ টি পৃথক সনদে বর্ণিত আছে। যা একে অপরকে শক্তিশালী করে। এছাড়া বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার হায়ছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার الإفصاح عن أحاديث النكاح কিতাবে এই হাদীছ শরীফ দলীল হিসাবে এনেছেন।
সূতরাং বাল্যবিবাহ সর্ম্পকে সরাসরি হাদীছ শরীফই পাওয়া গেলো। সূতরাং এর পরও যারা বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করে তারা হাদীছ শরীফ বিরোধীতাকারী।
আর ঐ সকল পিতাও সাবধান যারা তার মেয়ের বিবাহের ব্যবস্থা সময় মত করলেন না কিন্তু মেয়ে কোন পাপ কাজ করে ফেললো। তাদের জন্য রয়েছে আযাব.........!

বাল্য বিবাহেরর দলীল স্পষ্ট ভাবে কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ থেকে


সূরা নিছা ৩ নং আয়াত শরীফের আল্লাহ পাক বলেন,
وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَىٰ فَانكِحُوا مَا طَابَ لَكُم مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَىٰ وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ
“আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত।” (সূরা নিছা ৩ নং আয়াত শরীফ)
এবার আসুন দেখা যাক ইয়াতিম কাকে বলে, লিসানুল আরব অভিধানে ইয়াতিমের সংঙ্গায় বর্ণিত আছে,
اليتيم: الذي يموت أبوه حتى يبلغ الحلم، فإذا بلغ زال عنه اسم اليتيم، واليتيمة ما لم تتزوج، فإذا تزوجت زال عنها اسم اليتيمة.
অর্থ: এতিম এমন বাচ্চাকে বলা হয় যার পিতা মারা গিয়েছে, বালেগ হওয়া অবধি সে এতিম হিসাবে গণ্য হবে, বালেগ হবার পর এতিম নামটি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আর মেয়ে বাচ্চা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত এতিম বলে গণ্য হবে বিয়ের পর তাকে আর এতিম বলা হবে না। (লিসানুল আরব ১২/৬৪৫)
সহীহ হাদীছে ইয়াতিম প্রসংঙ্গে এসেছে,
قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ حَفِظْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ يُتْمَ بَعْدَ احْتِلاَمٍ 
“হযরত আলী ইবনে আবী ত্বালিব রদ্বয়িাল্লাহু আনহু উনার থেকে র্বণতি। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে আমি হাদীছ শরীফ মুখস্থ করে রেখেছি যে, বালেগ হওয়ার পর ইয়াতীম থাকে না। (আবু দাউদ শরীফ ২৮৭৫, সুনানে কুবরা বায়হাক্বী ৬/৫৭ হাদীছ ১১৬৪২, মুজামুল কবীর তাবরানী ৩৪২২, সুনানে ছগীর লি বায়হাকী ২০৪৯, শরহুস সুন্নহ ৯/২০০, ফতহুল বারী ২/৩৪৬, উমদাতুল ক্বারী ২১/১০৭, কানযুল উম্মল ৬০৪৬)
নাসিরউদ্দিন আলবানী তার সিলসিলাতুস সহীহা ৩১৮০ নম্বর হাদীসে উক্ত হাদীছ শরীফের সনদকে উত্তম ও সকল রাবীকে সেকাহ বলেছে।

উপরোক্ত বর্ণিত আয়াত শরীফে “ইয়াতিম” ও তার ব্যাখায় লুগাত এবং হাদীছ শরীফ থেকে যা বোঝা গেলো,
ইয়াতিম মেয়েদের বিবাহ করা যাবে। আর মেয়েদের মধ্যে ইয়াতিম হচ্ছে সেইসব মেয়ে যারা এখেনো বালেগ হয়নি।

এ বিষয়ে সহীহ একখানা হাদীছ শরীফ আছে যেখানে ইয়াতিম বিবাহের বিষয়টা বলা হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الْيَتِيمَةُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا فَإِنْ صَمَتَتْ فَهُوَ إِذْنُهَا وَإِنْ أَبَتْ فَلاَ جَوَازَ عَلَيْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي مُوسَى وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ

হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ইয়াতীম কুমারী থেকে তার বিবাহের ব্যাপারে সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। যদি সে চুপ থাকে তবে তাই তার সম্মতি বলে গণ্য হবে। আর যদি অস্বীকার করে তবে তার উপর তা কার্যকারী হবেনা। 
এই বিষয়ে আবূ মূসা, ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান। (সহিহ আবু দাউদ ১৮২৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১১০৯)

সূতরাং প্রমানিত হলো ইয়াতিম মেয়েকেও বিবাহ করা যাবে, আর ইয়াতিম হচ্ছে তারা যারা এখনো বালেগ হয়নি। বালেগ হয়নি এমন মেয়েদের বয়স কত হয় এই প্রশ্ন নিজেকে করলেই বাল্য বিবাহ যে শরীয়ত সম্মত সেটা বুঝতে পারবেন।
এ প্রসংঙ্গে আরো বর্ণিত আছে,
‏‏ وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ إِذَا بَلَغَتِ الْيَتِيمَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَزُوِّجَتْ فَرَضِيَتْ فَالنِّكَاحُ جَائِزٌ وَلاَ خِيَارَ لَهَا إِذَا أَدْرَكَتْ ‏.‏ وَاحْتَجَّا بِحَدِيثِ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَنَى بِهَا وَهِيَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ

হযরত ইমাম আহমাদ ও ইসহাক রহমতুল্লাহি আলাইহিম বলেন, যখন ইয়তীম কণ্যার বয়স নয় বৎসর হয় আর তাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে সম্মতি দান করে তবে এই বিয়ে জায়েজ। সাবালিকা হওয়ার পর আর তার ইখতিয়ার থাকবে না। উনারা হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঘটনাকে দলীল হিসাবে পেশ করেন যে যখন উনার বয়স নয় বৎসর হয়, তখন নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সঙ্গে অবস্থান করেন। হযরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
وَقَدْ قَالَتْ عَائِشَةُ إِذَا بَلَغَتِ الْجَارِيَةُ تِسْعَ سِنِينَ فَهِيَ امْرَأَةٌ
“মেয়েদের বয়স নয় বছর হলে সে মহিলা।” (তিরমিযী ১১০৯, সুনানু কুবরা বায়হাক্বী ১৪২৫, ফতহুল বারী ২/৭১২)

নয় বছর হলে যদি মহিলা হয় তবে তাকে বিবাহ করাও শরীয়ত সম্মত। যা সহীহ হাদীছ শরীফ থেকেই প্রমান হলো। এরপরও কোন মুসলমান বাল্য বিবাহের বিরোধীতা করলে সেকি মুসলমান থাকবে?